আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমার উম্মতের সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে; তবে যারা অস্বীকার করেছে তারা ছাড়া।” (সাহাবিরা) জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল, কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আমাকে অমান্য করে (মেনে চলে না) সে-ই অস্বীকার করে।”
আবু মুসা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন, তার দৃষ্টান্ত হলো এমন এক ব্যক্তির ন্যায় যে নিজ জাতির নিকট এসে বলল: আমি স্বচক্ষে (শত্রু) সেনাদল দেখে এসেছি এবং আমি (তোমাদের) সুস্পষ্ট ভয় প্রদর্শনকারী। সুতরাং তোমরা আত্মরক্ষা করো। একদল তার কথা মেনে রাতের আঁধারে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিল এবং বিপদমুক্ত হলো। আর অপর দল তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করল, (যার ফলে) সকাল বেলা (শত্রু) সেনাদল তাদের উপর এসে পড়ল এবং তাদেরকে ধ্বংস করে দিল।”
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউই ইমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমার আনীত আদর্শের অনুগত হয়।”
আনাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ ইমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তানসন্ততি এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে বেশি ভালোবাসার পাত্র হই।”
ভালোবাসার দৃষ্টান্ত: আবু তালহা আনসারি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু সুদক্ষ তিরন্দাজ ছিলেন। ওহুদ যুদ্ধে এক নাগাড়ে তির ছুঁড়তে থাকায় তাঁর হাতে সেদিন দুই বা তিনটি ধনুক ভেঙে যায়। যুদ্ধের এক সময় নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উঁচু করে শত্রুদের অবস্থা দেখতে চাইলে আবু তালহা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর নবি, আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আপনি মাথা উঁচু করবেন না। হয়তো শত্রুদের নিক্ষিপ্ত তির এসে আপনার গায়ে লাগতে পারে। আমার বক্ষ আপনাকে রক্ষার জন্য ঢালস্বরূপ। (সহিহ আল-বুখারি ৩৮১১)
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহ তার উপর দশটি রহমত নাজিল করেন।”
আবু দারদা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সকালে আমার উপর দশবার সালাত (দরুদ) পাঠ করবে এবং সন্ধ্যায় আমার উপর দশবার সালাত পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত লাভের সৌভাগ্য তার হবে।”১(রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ২০৩)
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবিদের দৃষ্টান্ত হলো এরূপ যেমন একজন লোক একটি সুন্দর প্রাসাদ তৈরি করল কিন্তু এক কোণে একটি ইটের স্থান খালি রয়ে গেল। অতঃপর লোকেরা প্রাসাদের চারদিকে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল আর আশ্চর্য হয়ে বলতে লাগল: ঐ ইটখানা কেন লাগানো হয় নি?” রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আমিই সেই ইট এবং আমিই শেষ নবি।”
আব্দুর রহমান বিন আবু কুরাদ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একদিন নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অজু করলেন। কিছু সংখ্যক সাহাবি তাঁর অজুর পানি নিজেদের গায়ে মাখতে লাগলেন। এ দৃশ্য দেখে নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন, “কোন জিনিস তোমাদেরকে এ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে?” তারা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসা। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবেসে পরিতৃপ্ত হয় অথবা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ভালোবাসা পেতে চায় তারা যেন কথা বলার সময় সত্য কথা বলে, আমানত রক্ষা করে এবং প্রতিবেশীর সাথে উত্তম ব্যবহার করে।”
আলি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একদা ফাতিমা ﵍আলাইহাস সালাম জাঁতা চালানোর কষ্টের কথা প্রকাশ করলেন। এক সময় নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু যুদ্ধবন্দী আসল। ফাতিমা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা (খাদেমের জন্য) তখন নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলেন। কিন্তু তাঁকে না পেয়ে আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা-কে বলে আসলেন। যখন নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে আসলেন আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা তখন ফাতিমা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর ব্যাপারটি বললেন। আলি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: অতঃপর নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন, সে সময় আমরা বিছানায় শুয়ে পড়েছিলাম। তাঁকে দেখে আমি উঠতে চাইলাম। কিন্তু তিনি বললেন, “তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় থাকো,” এবং তিনি আমাদের মাঝে এমনভাবে বসলেন যে আমি আমার বুকে তাঁর দুই পায়ের শীতলতা অনুভব করলাম। তিনি বললেন, “তোমরা যা চেয়েছিলে আমি কি তার চেয়ে উত্তম জিনিস শিখিয়ে দেবো না? তোমরা যখন বিছানায় শোয়ার জন্য যাবে তখন ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবার,’ ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ এবং ৩৩ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়ে নেবে। এটা তোমাদের জন্য খাদেম অপেক্ষা উত্তম।”
আবু সাইদ খুদরি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা নবিদের মধ্যে একজনকে অন্যজনের উপর প্রাধান্য দিও না।”
খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (2017). রাহে বেলায়াত ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যিক্র ওযীফা. অনলাইন. সপ্তম সংস্করণ. ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ: আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স. ISBN 9789849005315. প্রাপ্ত থেকে: https://assunnahtrust.org/publication/product/rahe-belayat/