عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا أَدْرَكَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيفَهُ
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা আমার সাহাবিদেরকে গালি দিও না, তোমরা আমার সাহাবিদেরকে গালমন্দ করিও না। যার হাতে আমার জীবন সেই সত্তার কসম! তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পর্বত পরিমাণ স্বর্ণ দান করে তবুও তাদের কারোর এক মুদ১ কিংবা অর্ধ মুদের সমতুল্য হবে না।”
সাহাবায়ে কেরামের পরবর্তী মুসলমানদের ইমান ও ইসলাম কবুল হওয়ার শর্ত হচ্ছে সাহাবায়ে কেরামের মাহাত্ম্য ও ভালোবাসা অন্তরে পোষণ করা এবং তাঁদের জন্য দোয়া করা। যার মধ্যে এই শর্ত অনুপস্থিত, সে মুসলমান হওয়ার যোগ্য নয়।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ﵄রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: তুমি যদি কোনো ব্যক্তিকে দেখ যে, সে কোনো সাহাবিকে মন্দ বলছে তবে তাকে বল তোমাদের মধ্যে যে অধিক মন্দ তার উপর আল্লাহর লানত হোক। (যেহেতু সাহাবি ঐ ব্যক্তির চেয়ে মন্দ নয়, সুতরাং ঐ ব্যক্তির উপর আল্লাহর লানত।) (মা’আরেফুল কোরআন, সুরা আল-হাশরের ১০ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা)
হাসান বসরি ﵀রহিমাহুল্লাহ সাহাবিদের পারস্পরিক যুদ্ধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়ে বলেন: এসব যুদ্ধে সাহাবিগণ উপস্থিত ছিলেন এবং আমরা অনুপস্থিত। তাঁরা সম্পূর্ণ অবস্থা জানতেন। আমরা জানি না। যে ব্যাপারে সব সাহাবি একমত আমরা তাতে তাঁদের অনুসরণ করব এবং যে ব্যাপারে তাদের মধ্যে মতবিরোধ আছে সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চুপ থাকব। (মা’আরেফুল কোরআন, সুরা আল-হুজুরাতের ৯ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা)
ইমাম আবূ হানীফা ﵀রহিমাহুল্লাহ কোনো তাবেয়ীকে বা অন্য কোনো বুজুর্গকে মুআবিয়া ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বা কোনো সাহাবীর সাথে তুলনা করার প্রবণতার প্রবল বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে একজন সাহাবীর এক মুহূর্তের অবস্থান আমাদের আজীবনের আমলের চেয়েও উত্তম, আমাদের জীবন যতই দীর্ঘ হোক না কেন।” (আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩১৪)