আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন আমলটি উত্তম? তিনি বললেন, “আল্লাহ এবং তার রাসুলের প্রতি ইমান আনা।” তারপর জিজ্ঞেস করা হলো, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, “আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।” (আবার) জিজ্ঞেস করা হলো, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, “মকবুল হজ সম্পন্ন করা।”
আবু মুসা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একজন লোক নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল: কোনো এক লোক জাতীয়তার টানে লড়াই করে, কেউ বীরত্বের খাতিরে লড়াই করে এবং কেউ লোক দেখানোর জন্য লড়াই করে। এদের কার লড়াই আল্লাহর পথে? তিনি (নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “যে ব্যক্তি শুধুমাত্র আল্লাহর কালিমাকে উঁচু করার জন্য লড়াই করে তার লড়াই-ই আল্লাহর পথে।”
সহিহ আল-বুখারি ৪৫৬৩ থেকে: ইবনে আব্বাস ﵄রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ কথাটি ইবরাহিম ﵇আলাইহিস সালাম বলেছিলেন যখন তিনি আগুনে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। আর মুহাম্মাদ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটি বলেছিলেন যখন লোকেরা বলল,
নিশ্চয় শত্রুরা তোমাদের বিরুদ্ধে সাজ-সরঞ্জামের সমাবেশ করেছে, সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো। এ কথা শুনে ইমানদারদের ইমান বেড়ে গেল এবং তারা বলল: حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট আর তিনি কতই না উত্তম কামিয়াবি দানকারী। (সুরা আলে ইমরান ৩:১৭৩)
আবু সাইদ খুদরি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “স্বৈরাচারী জালিম বাদশাহ বা জালিম শাসকের সামনে সত্য কথা বলা সর্বোত্তম জিহাদ।”
সুনান আবু দাউদ ১৫৩৭ থেকে: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো সম্প্রদায় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করতেন, তখন বলতেন اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ (হে আল্লাহ! আমরা তোমাকে তাদের মোকাবেলায় দাঁড় করালাম এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আমরা তোমার নিকট আশ্রয় চাই)।
আনাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মাল, তোমাদের প্রাণ এবং তোমাদের জবান দিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো।”
জবান দিয়ে জিহাদ হচ্ছে প্রকাশ্যে কথা বলে বা বক্তৃতার মাধ্যমে জিহাদ করা। আর বই, পত্রিকা ও অন্যান্য লেখনির মাধ্যমে জিহাদ করাও হচ্ছে জবান দিয়ে জিহাদ করা।
কথা ও লেখনির মাধ্যমে দাওয়াত ও প্রচার জিহাদের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ দাওয়াত পূর্ণাঙ্গ ইসলামের দিকে হতে হবে। এ কাজকে সুরা আস-সফে ব্যবসা বলা হয়েছে। আল্লাহর সাথে এ ব্যবসায় সর্বদাই লাভ।
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক আমিরের অধীনে জিহাদ করা তোমাদের উপর ওয়াজিব, চাই সে আমির নেককার হোক বা পাপী হোক। প্রত্যেক ইমামের পিছনে জামাআতে নামাজ পড়া তোমাদের জন্য ওয়াজিব, চাই সে ইমাম নেককার হোক বা পাপী হোক, এমনকি কাবিরা গুনাহ করলেও। এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জানাজা পড়া তোমাদের উপর ওয়াজিব, চাই সে ব্যক্তি নেককার হোক বা পাপী হোক, এমনকি কাবিরা গুনাহ করলেও।”
যায়িদ ইবনে খালিদ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীকে যুদ্ধ-সরঞ্জাম দিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে দেয়, সে যেন নিজেই জিহাদ করল। আর যে লোক আল্লাহর পথের মুজাহিদের অনুপস্থিতিতে তার পরিবার-পরিজনকে উত্তমরূপে দেখাশোনা করল, সেও যেন নিজেই জিহাদ করল।”
সহিহ মুসলিম ১৮৯৭/১৩৯ থেকে: সুলাইমান ইবনে বুরায়দাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “(জিহাদে রত) মুজাহিদদের রমণীগণ বাড়িতে অবস্থানকারী লোকদের কাছে তাদের মায়ের ন্যায় হারাম। বাড়িতে অবস্থানকারী যে ব্যক্তিই কোনো মুজাহিদের পক্ষে তার পরিবারবর্গের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকে এবং তাতে সে কোনোরূপ খেয়ানত করে, তবে কিয়ামতের দিন সেই মুজাহিদকে তার সম্মুখে দাঁড় করানো হবে এবং সে তার (খেয়ানতকারীর) নেক আমল থেকে যে পরিমাণ ইচ্ছা নিয়ে যাবে। তোমাদের ধারণা কী?” (অর্থাৎ সেই মুজাহিদ খিয়ানতকারীর সমস্ত নেক আমল নিয়ে নিবে)
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধকে কৌশল নামে অভিহিত করেছেন।
সহিহ আল-বুখারি ২৯৪৭ থেকে: কাব ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, (যে সময় তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুদ্ধে যাত্রা থেকে পিছিয়ে ছিলেন) রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোনো স্থানে যুদ্ধে যাওয়ার সংকল্প করতেন, তখন বাহ্যিকভাবে অন্য কোনো স্থানে যাওয়ার সংকল্প দেখাতেন।
মুসলমানরা যুদ্ধে এমন সব পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারে যাতে ইসলামের দুশমনরা তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে না পারে। আর একেই “খাদআহ” বা চালবাজি বলা হয়। আহজাবের যুদ্ধে নাইম ইবনে মাসউদ রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুমতিক্রমে সেই পন্থাই অবলম্বন করেছিলেন। তবে প্রকাশ্যে মিথ্যা বলা ও প্রচার করা “খাদআহ” নয়।
রুবাইয়্যি বিনতে মু’য়াওয়েজ ইবনে আফরা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, আমরা মহিলারা রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করতাম। লোকদেরকে পানি পান করাতাম, তাদের সেবা-যত্ন করতাম এবং নিহত ও আহতদের মদিনায় পাঠাতাম।
ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো এক যুদ্ধে একজন নারীকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেল। ফলে তিনি যুদ্ধে নারী এবং শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করে দিলেন।
সহিহ আল-বুখারি ২৫৫৯ থেকে: নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা কেউ যখন লড়াই করবে (যুদ্ধের ময়দানে) তখন মুখমণ্ডলে আঘাত করা থেকে বিরত থাকবে।”
ইবনে আইজ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একদা রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির জানাজা পড়ার জন্য বের হলেন। যখন জানাজা রাখা হলো তখন উমর ইবনে খাত্তাব ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, লোকটি পাপী, তার জানাজা পড়বেন না। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত জনতাকে লক্ষ্য করে বললেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ কি এই লোকটিকে ইসলামের কোনো কাজ করতে দেখেছ?” তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, হ্যাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ, সে একরাত আল্লাহর পথে পাহারা দিয়েছিল। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাজা পড়ালেন এবং তার কবরে মাটি দিলেন। আর মৃত ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “তোমার সাথিরা ধারণা করছে তুমি জাহান্নামি, কিন্তু আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তুমি জান্নাতি।” তারপর তিনি উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে লক্ষ্য করে বললেন, “হে উমর, মানুষের আমল সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে না। বরং স্বভাব ধর্ম ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।”
এ হাদিস থেকে দুইটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য।
আল্লাহর পথে জিহাদের মর্তাবা কতো বেশি! একটি রাতের পাহারাদারীর কারণে পাপী ব্যক্তিকেও রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতি হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছেন।
অন্যে কী কী গুনাহ করল তা দেখা বা বলা আমার জন্য ঠিক নয়, কারণ এজন্য আমাকে হিসেব দিতে হবে না বা জিজ্ঞাসাও করা হবে না। বরং আমার কাজের হিসাব আমাকেই দিতে হবে।
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার কসম! আমি একান্তভাবে কামনা করি যে, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে থাকি আর শহিদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহিদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহিদ হই।”
জামি আত-তিরমিজি ১৬৫০-এর বর্ণনা থেকে: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে উটের দুধ দোহনের সময় (অর্থাৎ অল্প সময়)-এর জন্যও লড়াই করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।”
আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: বীরে মাউনার দুর্ঘটনার দিন হারাম ইবনে মিলহানকে (যিনি তার মামা ছিলেন) বর্শা বিদ্ধ করা হলে তিনি এভাবে রক্ত নিয়ে নিজের মুখমণ্ডলে ও মাথায় মেখে বললেন: কাবার রবের শপথ! আমি সফলকাম হয়েছি।
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: উহুদ যুদ্ধের দিন এক লোক নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল: বলুন তো শহিদ হলে আমি কোথায় থাকবো? তিনি (নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “জান্নাতে থাকবে।” তখন সে তার হাতের খেজুরগুলো (যা সে খাচ্ছিল) ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে যুদ্ধ করতে করতে শহিদ হয়ে গেল। (সহিহ আল-বুখারি ৪০৪৬)
কোনো মুসলিম দেশের মুসলিম সৈনিক যদি এ নিয়তে সীমান্ত পাহারা দেয় যে, মুসলিম দেশ টিকে থাকলে মুসলিমগণ ইসলামের বিধি-বিধান স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবে তাহলে সীমান্ত পাহারার জন্য যে মর্যাদা হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে তা তিনি পাবেন ইনশাআল্লাহ। আবার তার দেশ কোনো অমুসলিম দেশ কর্তৃক আক্রান্ত হলে তিনি ঐ নিয়তেই লড়াই করবেন এবং এতে শহিদ হতে হলেও তিনি সেজন্য প্রস্তুত, তবে লড়াইয়ের জন্য ও শহিদের জন্য যে মর্যাদা কুরআন ও হাদিসে রয়েছে তা তিনি পাবেন ইনশাআল্লাহ।
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ যেরূপ দংশনে ব্যথা পায়, শহিদ ব্যক্তি সেরূপ ছাড়া নিহত হওয়ার ব্যথা অনুভব করে না।”
সহল (ইবনে আবু উমামা ইবনে সহল ইবনে হুনাইফ) তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি খালেস নিয়তে শাহাদাত চায় তার মৃত্যু বিছানায় হলেও আল্লাহ তাকে শহিদের আবাস স্থলে পৌঁছিয়ে দেন (অর্থাৎ শহিদের মর্যাদা দান করবেন)।”
আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতে প্রবেশের পর একমাত্র শহিদ ছাড়া অন্য কেউ দুনিয়াতে ফিরে আসতে চাইবে না, অথচ তার জন্য দুনিয়ার সবকিছুই (জান্নাতে) থাকবে। সে দুনিয়ায় ফিরে এসে দশবার শহিদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে। কেননা বাস্তবে সে শহিদের মর্যাদা সেখানে (জান্নাতে) দেখতে পাবে।”
জামি আত-তিরমিজি ১৬৬৩ থেকে: মিকদাম ইবনে মাদিকারিব ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর নিকট শহিদের ছয়টি মর্যাদা। প্রথম রক্তপাতেই তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়, জান্নাতে তার স্থান তাকে দেখানো হয়, তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করা হয়, বড় বিপদ-আপদ থেকে সে নিরাপদ থাকে, তার মাথায় আকর্ষণীয় একটি মুকুট দেওয়া হয় যার একটি মণিমুক্তা দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা আছে তার চাইতে উত্তম, টানা চোখ বিশিষ্ট বাহাত্তর জন হুরের সাথে বিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে তার সত্তর জন আত্মীয়ের শাফায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে।”
সাইদ ইবনে যায়িদ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি (নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহিদ; যে তার পরিবার রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সে শহিদ। যে ব্যক্তি আত্মরক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সে শহিদ; এবং যে ব্যক্তি দীনের খাতিরে নিহত হয় সে শহিদ।”
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে লোক জিহাদ করল না বা অন্তরে জিহাদের বাসনা রাখল না, এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে সে যেন মুনাফিক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল।”
ব্যক্তিগতভাবে জিহাদ না করার পরিণাম কী হবে তা এখানে বলা হয়েছে। আর সমষ্টিগতভাবে মুসলমানরা জিহাদ ছেড়ে দিলে তার পরিণাম কী হবে তা বলা হয়েছে সুনান আবু দাউদে।
ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “যখন তোমরা ‘ইনাহ’-এর সাথে বেচাকেনা করবে, গরু পালনে লেগে যাবে, কৃষি কাজে ব্যস্ত হয়ে যাবে এবং দীনের জন্য জিহাদ করা ছেড়ে দিবে, তখন আল্লাহ তোমাদের উপর লাঞ্ছনা ও গোলামি চাপিয়ে দিবেন। আর যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা দীনের দিকে ফিরে না আসবে ততক্ষণ তা দূর হবে না।” (সুনান আবু দাউদ ৩৪৬২)