আবু মুসা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে তার রবের যিকর করে, আর যে তার রবের যিকর করে না, তাদের তুলনা জীবিত ও মৃত ব্যক্তির ন্যায়।”
আল্লাহ বলেন, “সকালে ও সন্ধ্যায় মনে মনে কাতরভাবে ও ভয়-ভীতির সাথে তোমার রবের যিকর করো এবং মুখে ও নিচু আওয়াজে যিকর করো। আর গাফিলদের মধ্যে শামিল হয়ো না।” (সুরা আল-আরাফ ৭:২০৫)
এ আয়াতের ব্যাখ্যা থেকে: মানুষকে যিকরের আদেশ করা হয়েছে শুধু তারই উপকারের জন্য। এ যিকর যখন মানুষের দিলে সন্নিবেশিত হয়ে যাবে তখন তা শয়তানের প্ররোচনা থেকে নিজেকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখবে। এ কারণে সে গুনাহ ও অপরাধ থেকে বেঁচে থাকবে। (তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন)
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতে দশটি আয়াত পাঠ করবে, তাকে গাফেল বা অমনোযোগিদের মধ্যে লেখা হবে না।”১(রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ২২৭)
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি বলি, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’ (আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, আল্লাহ মহান) পড়া আমার কাছে সেইসব বিষয়ের চেয়ে বেশি প্রিয়, যার উপর সূর্য উদিত হয় (অর্থাৎ পৃথিবীর সকল বস্তুর চেয়ে বেশি প্রিয়)।”
মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যার সর্বশেষ কথা হবে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (সুনান আবু দাউদ ৩১১৬)
বস্তুত, যে ব্যক্তি সর্বদা এ যিকরে তার জিহ্বাকে রত রাখবে, ইনশাআল্লাহ, এ বাক্য তার জীবনের শেষ বাক্য হবে। (রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৯১)।
আবার কেউ চলতে ফিরতে, অবসর সময়ে রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয় চারটি যিকর: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার নিম্নস্বরে পড়তে থাকে তবে ইনশাআল্লাহ তার জীবনের শেষ বাক্য হবে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” (যেহেতু এটি চারটি যিকর-এর মধ্যে রয়েছে)।
মুআজ ইবনে জাবাল ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম: কোন্ আমলটি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশি প্রিয়? রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তুমি যখন মৃত্যুবরণ করবে, তখনও তোমার জিহ্বা আল্লাহর যিকরে আর্দ্র থাকবে।”
সহিহ হাদিস থেকে আমরা নিশ্চিতরূপে জানতে পারি যে, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবিগণের সুন্নাত হলো দাওয়াত, জিহাদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, পারিবারিক ও সামাজিক সকল কর্মের সাথে, কর্ম ও ওয়াজ-নসিহতের যিকরের পাশাপাশি সকল সময় তাসবিহ, তাহলিল ইত্যাদি মুখে আওড়ে বা জপ করে অনবরত যিকর করা। পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পরে বিশেষত ফজর, আসর ও মাগরিবের পরে, বিছানায় শুয়ে, হাঁটতে-চলতে, বাজারে-ঘাটে সর্বদা ও সর্বাবস্থায় তাঁরা একা একা মনে মনে বা অত্যন্ত মৃদু শব্দে সকল মাসনুন যিকরগুলি মুখে জপ করতেন। তাকওয়া অর্জনের জন্য, বাতিলের বিরুদ্ধে ইমানি শক্তি অর্জনের জন্য, দুনিয়ার বহুমুখী প্রলোভন থেকে আত্মরক্ষার শক্তি অর্জনের জন্য, আত্মার শান্তির জন্য, জান্নাতের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য ও সর্বোপরি আল্লাহর বেলায়াত ও মুহাব্বত অর্জনের জন্য সুন্নাত পদ্ধতিতে সুন্নাত বাক্যে আল্লাহর যিকর সহজতম ও শ্রেষ্ঠতম ইবাদত।
শুধু মুখের বা শুধু মনের যিকরও যিকর। তবে অর্থের দিকে লক্ষ্ রেখে মন ও মুখের একত্র যিকর হলো সর্বোত্তম যিকর। (খুতবাতুল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৩৮৮)
মনে রাখবেন, যিকর এবং দরুদ ওজুসহ, ওজু ছাড়া, গোসলসহ, গোসল ছাড়া, হাঁটতে, বসতে, শুয়ে সর্বাবস্থায় করা যায়। (জিজ্ঞাসা ও জবাব, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪০)
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন দোয়ার সময় না বলে, হে আল্লাহ, আপনি যদি চান আমাকে ক্ষমা করুন। বরং সে যেন দৃঢ়তার সাথে দোয়া করে। সে যেন আগ্রহ নিয়ে দোয়া করে। কেননা আল্লাহ তাকে যা দান করেন তা আল্লাহর কাছে তেমন কোনো বিশাল জিনিস নয়।”
দোয়া, যিকর ও ইবাদত কবুলের শর্ত হালাল উপার্জন। মুসলিম শরিফের বর্ণনা থেকে: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির উল্লেখ করেন, যে ব্যক্তি (হজ, উমরা ইত্যাদি পালনের জন্য, আল্লাহর পথে) দীর্ঘ সফরে রত থাকে, তার ধূলি ধূসরিত দেহ ও এলোমেলো চুল, তার হাত দুটি আকাশের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে সে দোয়া করতে থাকে: يَا رَبِّ يَا رَبِّ (হে প্রভু! হে প্রভু!)। কিন্তু তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম এবং হারাম উপার্জনের জীবিকাতেই তার রক্তমাংস গড়ে উঠেছে। তার দোয়া কবুল হবে কীভাবে!২(রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ১২২)
মুসনাদ আহমাদ ১১১৩৩ থেকে: আবু সাইদ খুদরি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখনই কোনো মুসলিম পাপ ও আত্মীয়তা নষ্ট করা ছাড়া অন্য যে কোনো বিষয় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে তখনই আল্লাহ তার প্রার্থনা পূরণ করে তাকে তিনটি বিষয়ের একটি দান করেন। হয় তার প্রার্থিত বস্তুই তাকে তাড়াতাড়ি দান করেন অথবা তার প্রার্থনাকে (প্রার্থনার সওয়াব) তার আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে রাখেন অথবা দোয়ার সমপরিমাণ তার অন্য কোনো বিপদ তিনি দূর করে দেন।”
সাদ (ইবনে আবু ওয়াক্কাস) ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যুন-নুন (ইউনুস ﵇আলাইহিস সালাম) মাছের পেটে যে দোয়া করেছিলেন, ‘লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যলিমীন’-এ দোয়া দ্বারা যে কোনো মুসলিম যে কোনো বিষয়ে দোয়া করবে, আল্লাহ অবশ্যই তার দোয়া কবুল করবেন।”
“সকল দোয়া পর্দার আড়ালে থাকবে (আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে না) যতক্ষণ না নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর সালাত (দরুদ) পাঠ করবে।”৩(রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ২০৭)
সুতরাং দোয়া কবুলের জন্য আমাদেরকে দোয়ার শুরুতেই দোয়া ইউনুস (ইসমে আযম বা শ্রেষ্ঠতম নাম) এবং নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর সালাত (দরুদ) পাঠ করে দোয়া শুরু করতে হবে।
আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বলে দোয়া করতেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুজনি ওয়াল আজজি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি ওয়া জালা ইদ্দাইনি ওয়া গলাবাতির রিজাল (হে আল্লাহ, আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই ভাবনা, দুশ্চিন্তা, অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, ঋণের কঠিন বোঝা এবং লোকদের আধিপত্য থেকে)।”
সহিহ আল-বুখারি ২৪৭ থেকে: বারা ইবনে আযিব ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন নামাজের অজুর মতো অজু করে নেবে। তারপর ডান পাশে শুয়ে বলবে: اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ (হে আল্লাহ! আমার জীবন তোমার নিকট সমর্পণ করলাম। আমার সকল কাজ তোমার নিকট অর্পণ করলাম এবং আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করলাম তোমার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে। তুমি ছাড়া প্রকৃত কোনো আশ্রয়স্থল ও কোনো মুক্তির স্থান নেই। হে আল্লাহ! আমি ইমান এনেছি যে কিতাব তুমি নাজিল করেছ তার উপর এবং তুমি যে নবি প্রেরণ করেছ তাঁর উপর।) এ কথা তোমার শেষ কথা হবে। এ রাতে মৃত্যু বরণ করলে ফিতরাতের উপরে (নিষ্পাপভাবে) মৃত্যু বরণ করবে। (আর বেঁচে থাকলে তুমি কল্যাণ লাভ করবে।৪)”
আনাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দোয়াসমূহ পাঠ করতেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল বুখলি ওয়ালকাসালি ওয়া আরযালিল উমুরি ওয়া আযাবিল কবরি ওয়া ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত” (হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে বখিলতা, অলসতা, বার্ধক্যের দুরাবস্থা, কবরের আজাব এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই)।
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন ঘুমানোর জন্য তার বিছানায় যাবে তখন কাপড়ের কোনা দিয়ে বিছানা তিনবার ঝাড়বে আর বলবে, ‘বিইসমিকা রাব্বি ওয়াজা’তু জামবি ওয়াবিকা আরফাউহু ইন আমসাকতা নাফসি ফাগফিরলাহা ওয়াইন আরসালতাহা ফাহফাজহা বিমা তাহফাজু বিহি ইবাদাকাস সালিহিন।’ (অর্থ: হে আমার রব, তোমার নামে আমি আমার (শরীরের) পার্শ্বদেশকে বিছানায় রাখলাম এবং তোমার নামে তা আবার ওঠাব। যদি তুমি আমার প্রাণ বের করে নাও, তাহলে ক্ষমা করে দিও। আর যদি তা ফিরিয়ে দাও, তাহলে তোমার নেক বান্দাদেরকে যেভাবে হেফাজত করে থাকো সেভাবে হেফাজত করিও।)”
সহিহ আল-বুখারি ৬৩১৪ থেকে: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ বিছানায় শোওয়ার সময় নিজ হাত গালের নিচে রাখতেন। অতঃপর বলতেন, اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا (হে আল্লাহ, তোমার নামেই মরি, তোমার নামেই জীবিত হই)। আর যখন জেগে উঠতেন, তখন বলতেন: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ (সেই আল্লাহর প্রশংসা যিনি মৃত্যুর পর আমাদেরকে জীবন দান করলেন এবং তারই দিকে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে)।
সুনান আবু দাউদ ৫০৪৫ থেকে: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শোবার ইচ্ছা করতেন তখন ডান হাত গালের নিচে রাখতেন অতঃপর তিনবার বলতেন: اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ (হে আল্লাহ, তুমি আমাকে তোমার আজাব থেকে রক্ষা করিও যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে কবর থেকে ওঠাবে)। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরজ সালাতের পরেও এই দোয়াটি বলতেন। (রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৫৬৪)
আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। প্রতি রাতে নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানায় শোওয়ার সময় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে দু’হাত একত্র করে ফুঁ দিয়ে যতদূর সম্ভব সমস্ত শরীরে হাত বুলাতেন। মাথা ও মুখ থেকে শুরু করে তাঁর দেহের সম্মুখ ভাগের উপর হাত বুলাতেন, এভাবে তিনি তিন বার করতেন।
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি যে, কেউ রাতে বিছানায় শয়ন করার পরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে সারারাত আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে হেফাজত করা হয় এবং কোনো শয়তান তাঁর কাছে আসতে পারে না।৫(রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৫৬১)
উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,“যে ব্যক্তি তার নির্ধারিত ওজিফা পালন না করে ঘুমিয়ে পড়বে, সে যদি তা ফজর ও যোহরের মধ্যবর্তী সময়ে পড়ে নেয়, তাহলে সে যথা সময়ে রাতের বেলায় আদায় করার সওয়াব পাবে।”৬(রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৩৫৪–৩৫৫)
আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আমি উট বেঁধে আল্লাহর উপর ভরসা করবো, না তাকে ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করবো? তিনি (নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “প্রথমে উটকে বাঁধো তারপর আল্লাহর উপর ভরসা করো।”
কোনো উদ্দেশ্য লাভে ক্ষমতা অনুযায়ী চেষ্টা করে আল্লাহর সাহায্য চাওয়াই তাওয়াককুল বা আল্লাহর উপর ভরসা।
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “এমন দুইটি বাক্য আছে যা পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়, উচ্চারণ করতে খুবই সহজ, ওজনদণ্ডের পরিমাপে খুবই ভারী। বাক্য দুইটি হলো- ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম।’ (অর্থ: মহা পবিত্র আল্লাহ, তাঁর জন্য সমস্ত প্রশংসা, মহা পবিত্র আল্লাহ, তিনি মহামহিম।)”
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِىْ وَارْحَمْنِىْ وَاهْدِنِىْ وَعَافِنِىْ وَارْزُقْنِىْ (হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করো, আমাকে দয়া করো, আমাকে সঠিক পথে চালাও, আমাকে সার্বিক নিরাপত্তা ও সুস্থতা দান করো এবং আমাকে রিজক দাও)। আসিম বলেন, কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এই দোয়া বেশি বেশি শিখাতেন। (সহিহ মুসলিম ২৬৯৭/৩৫)
এ দোয়ার মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতের সব কিছুই চাওয়া হয়েছে। মুমিনের উচিত সকল ব্যস্ততার মধ্যে সর্বদা এ মুনাজাতটি বলতে থাকা। (রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৫৫১)
মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী (2021). তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন. ১ম বাংলা সংস্করণ. ঢাকা, বাংলাদেশ: মাকতাবাতুল আশরাফ.
খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (2017). রাহে বেলায়াত ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যিক্র ওযীফা. অনলাইন. সপ্তম সংস্করণ. ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ: আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স. ISBN 9789849005315. প্রাপ্ত থেকে: https://assunnahtrust.org/publication/product/rahe-belayat/