আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমাদের প্রভু মহান আল্লাহ প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং বলতে থাকেন, ‘কে আছ? আমাকে ডাক, আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আছ? আমার কাছে চাও, আমি তাকে দেব। কে আছ? আমার কাছে (পাপ থেকে) ক্ষমা চাও, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’”
তাহাজ্জুদের ক্ষেত্রে অন্যতম খেলাফে সুন্নাত হলো তাহাজ্জুদ বর্জন করা। কারণ, সারাদিনের দাওয়াত, জিহাদ, কর্ম ইত্যাদি শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ, তাঁর সাহাবিগণ, নেককার তাবেয়িগণ, তাবে-তাবেয়িগণ তাহাজ্জুদ পরিত্যাগ করেন নি। কুরআন কারিমে কোনো সুন্নাত বা নফল নামাজের কথা বলা হয় নি কিন্তু তাহাজ্জুদের কথা বারবার বলা হয়েছে। আল্লাহর ক্ষমা লাভে, রহমত লাভে, বরকত ও নৈকট্য অর্জনের, দোয়া কবুলের, হাজত পূরণের ও বেলায়াত অর্জনের জন্য রাতের কিছু সময় একান্তে প্রভুর সান্নিধ্যের চেয়ে বড় অসীলা আর কিছুই নেই। (এহ্ইয়াউস সুনান, পৃষ্ঠা ৩২৫)
আবু উমামা বাহেলি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা রাতের (তাহাজ্জুদের) নামাজ পড়ার চেষ্টা করো, কেননা তোমাদের আগের নেক বান্দাদের এটা অভ্যাস ছিল। আর এ নামাজ তোমাদেরকে তোমাদের রবের নিকটবর্তী করবে, ছোট ছোট গুনাহ দূর করবে এবং বড় গুনাহ থেকে বাঁচাবে।”
আবু সাইদ খুদরি ও আবু হুরায়রা ﵄রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে তার স্ত্রীকে জাগাবে এবং দুজনে মিলে দু’ রাকআত তাহাজ্জুদ আদায় করবে, আল্লাহর দরবারে তারা আল্লাহর শ্রেষ্ঠ যাকেরীনের অন্তর্ভুক্ত হবে।”১(রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৫৮)
অনেক সাহাবি বিতর পড়ে ঘুমিয়ে পড়তেন যদি শেষ রাতে ঘুম না ভাঙে সেজন্য। এরপর আবার উঠে তাহাজ্জুদ পড়তেন। এতে কোনো সমস্যা নেই। (জিজ্ঞাসা ও জবাব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭২)
আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই, আর তিনিই সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ পবিত্র, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। কোনো অবলম্বন নেই, কোনো ক্ষমতা নেই আল্লাহর (সাহায্য) ছাড়া।
এরপর সে বলে, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করো অথবা কোনো প্রকার দোয়া করে বা কিছু চায় তবে তার দোয়া কবুল করা হয়। আর যদি সে ওজু করে (তাহাজ্জুদের) সালাত আদায় করে তবে তা কবুল করা হয়।”
সুবহানাল্লাহ! (ঘুম থেকে জেগে) বিছানায় থেকেই, কোনোরূপ ওজু-গোসল ছাড়াই এ বাক্যগুলো পাঠ করলে এতো বড় পুরস্কার! এ যিকরের মধ্যে অতি পরিচিত যিকরের ৬টি বাক্য রয়েছে, যা প্রায় সকল মুসলমানের মুখস্ত রয়েছে। (রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৪৯০)
সালমান ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় তোমাদের মহান রব অধিক লজ্জাশীল ও সম্মানীয়। যখন তাঁর কোনো বান্দা দুই হাত তুলে দোয়া করে, তখন ঐ হাত দুইখানি তিনি ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।”
আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুবারক হাত দু’খানা উঠিয়ে দোয়া করতেন, এমনকি আমি তাঁর (বেশি বেশি) হাত উঠিয়ে দোয়া করাতে ক্লান্ত ও অস্থির হয়ে পড়তাম। তিনি এভাবে দোয়াতে বলতেন, اَللَّهُمَّ فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ فَلَا تُعَذِّبْنِيْ بِشَتْمِ رَجُلٍ شَتَمْتُهُ أَوْ أَذَيْتُهُ (হে আল্লাহ! আমি একজন মানুষ মাত্র; আমি কোনো মানুষকে গালি দিয়ে ফেললে বা কষ্ট দিলে আপনি সেজন্য আমাকে শাস্তি দিবেন না)।২(এহ্ইয়াউস সুনান, পৃষ্ঠা ৩৮২)
অনেকে নিজের জন্য নিজে আল্লাহর দরবারে দুআ চাওয়ার চেয়ে অন্য কোনো বুজুর্গের কাছে দুআ চাওয়াকেই বেশি উপকারী বলে মনে করেন। পিতা-মাতা, ওস্তাদ, আলিম বা নেককার কোনো জীবিত মানুষের কাছে দুআ চাওয়া জায়েজ। তবে নিজের দুআ নিজে করাই সর্বোত্তম। আমরা মনে করি, আমরা গুনাহগার, আল্লাহ কি আমাদের কথা শুনবেন? আসলে গুনাহগারের দুআই তো তিনি শোনেন। আমার মনের বেদনা, আকুতি আমার মতো করে অন্য কেউ কি প্রেমময় মালিকের কাছে জানাতে পারবে? এছাড়া এ দুআ আমার জন্য সাওয়াব বয়ে আনবে এবং আমাকে আল্লাহর প্রেম ও করুণার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: আমি প্রশ্ন করলাম: হে আল্লাহর রসুল, সর্বোত্তম দুআ কী? তিনি বললেন, “মানুষের নিজের জন্য নিজের দুআ।” (রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ১৩৮)