আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “নিশ্চয় একজন মুমিন তার উত্তম চরিত্র গুণে সেই সব লোকের মর্যাদা লাভ করতে পারে, যারা (সারা বছরই) দিনে রোজা রাখে এবং রাত নামাজে কাটায়।”
আনাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমরা একদিন রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বসেছিলাম। তিনি বললেন, “এক্ষুণি তোমাদের সামনে একজন জান্নাতী ব্যক্তি আগমন করবে।” একটু পরেই জনৈক আনসারি আসলেন। তাঁর দাড়ি থেকে ওজুর পানি ঝরছিল। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দিনে তিনি একই কথা বললেন এবং একই ব্যক্তি আসলেন। এদিন আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু ব্যাপারটি জানার জন্য ঐ ব্যক্তির বাড়িতে তিন দিন থাকার অনুমতি চাইলেন। তিনি খুশি হয়ে অনুমতি দিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু তিন দিন তার বাড়িতে থেকে লক্ষ করলেন, আনসারি রাতে তাহাজ্জুদের জন্য ওঠেন না। তবে নিদ্রায় যাওয়ার আগে আল্লাহর জিকির করেন। এরপর ফজরের নামাজের জন্য ওঠেন। তবে এ সময়ে তার মুখে ভালো কথা ছাড়া কিছু শুনি নি। আমি তাকে বললাম, রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদের বললেন, “তোমাদের কাছে একজন জান্নাতী আসবেন।” দেখলাম, আপনিই আসলেন। তাই তিন দিন আপনার আমল দেখার জন্য থাকলাম। কিন্তু আমি আপনাকে কোনো বড় আমল করতে দেখলাম না। তিনি বললেন: আপনি যা দেখলেন, এছাড়া আমার কাছে অন্য কোনো আমল নেই। এই কথা শুনে আমি যাওয়ার জন্য উঠছিলাম, তখন তিনি আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন: হাঁ, একটি বিষয় আছে। তা এই যে, আমি আমার অন্তরে কোনো মুসলিমের প্রতি জিঘাংসা ও কুধারণা খুঁজে পাই না এবং এমন কারো প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করি না, যাকে আল্লাহ কল্যাণ দান করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: মনে হয় এই গুণটিই আপনাকে এই উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছে।১(মা’আরেফুল কোরআন, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৪৪৪)
আবু দারদা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন মুমিনের পাল্লায় যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি ভারী হবে তা হচ্ছে সুন্দর আচরণ। আর নিশ্চয় আল্লাহ অশ্লীলভাষী এবং নির্লজ্জ লোকের প্রতি শত্রুতা পোষণ করেন।”
সুন্দর আচরণের ছয়টি দিকের প্রতি হাদিস শরিফে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: (১) সকলের সাথে হাস্যেজ্জ্বল মুখে সাক্ষাত করা ও কথা বলা (২) বিনয়ী হওয়া ও অহংকার বর্জন করা (৩) বিতর্ক পরিহার করা (৪) মানুষের আচরণে কষ্ট পেলে ধৈর্য ধারণ করা (৫) মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও যথাসম্ভব কম কথা বলা (৬) উপকারকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। (খুতবাতুল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৪০৪)
নাওয়াস ইবনে সিমআন আনসারি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নেকি ও গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, “নেকি হলো উত্তম চরিত্র এবং গুনাহ হলো ঐ কাজ যা করতে গেলে তোমার মনে খটকা লাগবে। আর কোনো মানুষ এটা জেনে ফেলুক তা তুমি অপছন্দ করবে।”
সাহল ইবনে সাদ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে লোক তার দুই চোয়ালের মাঝের (জবানের) এবং দুই পায়ের মাঝের (লজ্জাস্থানের) জামানত আমাকে দিবে, আমি তার জান্নাতের জামিন।”
সহিহ আল-বুখারি ৬১৩৮ থেকে: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ইমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে বা চুপ থাকে।”
আবু উমামা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কাউকে ভালোবাসলো তো আল্লাহর জন্যই ভালোবাসলো, কাউকে ঘৃণা করল তো আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করল, কাউকে দিল তো আল্লাহর জন্যই দিল এবং কাউকে দেওয়া বন্ধ করল তো আল্লাহর জন্যই দেওয়া বন্ধ করল, তবে সে তার ইমানকে পূর্ণ করল।”
আনাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ পরিপূর্ণ ইমানদার হতে পারে না যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে।”
মুফতি মুহাম্মদ শফী (2010). মা’আরেফুল কোরআন. ১ম বাংলা সংস্করণ. ঢাকা, বাংলাদেশ: মাকতাবাতুল আযহার.