عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ
আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাদের শরিয়তে নতুন কিছু প্রবর্তন করবে যা তাতে নাই, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।”
জাগতিক ও উপকরণ বিষয়ে নব উদ্ভাবন বা নতুন কিছু প্রবর্তন করা ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত নয়। যেমন: খেজুর ও রুটি খাওয়ার চেয়ে কোর্মা-পোলাও খাওয়া, হেঁটে মসজিদে যাওয়ার চেয়ে গাড়িতে মসজিদে যাওয়া, মাহফিলে এমনি বক্তৃতা দেওয়ার চেয়ে মাইকে বক্তৃতা দেয়া ইত্যাদিতে সওয়াবের কম-বেশি হয় না। তাই জাগতিক ও উপকরণ বিষয়ে নব উদ্ভাবন বিদআত নয়। পক্ষান্তরে কর্মটি যদি ইবাদতমূলক হয়, যেমন: যদি সাহাবিদের মতো সুন্নাত পদ্ধতিতে বসে বসে একা একা দরুদ পড়ার চেয়ে সমবেতভাবে দাঁড়িয়ে সশব্দে দরুদ পড়াকে বেশি সওয়াব মনে করা হয় তাহলে সুন্নাত পদ্ধতিতে ইবাদত করাকে অপূর্ণ মনে করা বা অপছন্দ করা হয়। তাই ইবাদতমূলক সকল নব উদ্ভাবিত কর্মই বিদআত। যেমন: যিকর-এর ক্ষেত্রে কেউ যদি যিকর-এর এমন শব্দ, সংখ্যা, নিয়ম, রীতি বা পদ্ধতি চালু করেন যা রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবিগণের যুগে ছিল না, তাহলে নিঃসন্দেহে তা বিদআত হবে এবং তা রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতকে অপছন্দ করা হবে যার শাস্তি ভয়ঙ্কর। (এহ্ইয়াউস সুনান, পৃষ্ঠা ৩৪৯)
গুদাইফ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখনই কোনো সম্প্রদায় কোনো বিদআতের উদ্ভাবন ঘটায় তখনই সেই পরিমাণ সুন্নাত তাদের মধ্য থেকে বিদায় নেয়।”১ (এহ্ইয়াউস সুনান, পৃষ্ঠা ৮৪)