আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমাদের উপর দিয়ে মাস কেটে যেতো, আমরা এর মধ্যে ঘরে (চুলার) আগুন জ্বালাতাম না। আমরা কেবল খুরমা ও পানির উপর চলতাম। তবে যৎ সামান্য গোশত আমাদের নিকট এসে যেতো।
আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারবর্গ মদিনায় আসার পর থেকে এক নাগাড়ে তিন দিন গমের রুটি পরিতৃপ্ত হয়ে খান নি। আর এরূপ অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে আমিরুল মুমিনিন থাকা অবস্থায় (মদিনায়) দেখেছি তাঁর জামার দুই কাঁধে একটির উপর আর একটি সেলাই করা তিনটি তালি ছিল।
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি আসহাবে সুফ্ফার সত্তর জন সদস্যকে দেখেছি যাদের একজনেরও গায়ে জড়ানোর মতো চাদর ছিল না। তাদের একটি মাত্র লুঙ্গি কিংবা কম্বল ছিল যা তারা গলায় বেঁধে রাখতেন। এতে কারো অর্ধ হাঁটু পর্যন্ত আবার কারো পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ঢেকে থাকতো। ফলে লজ্জাস্থান দেখা যাবার ভয়ে তারা হাত দিয়ে ধরে একত্রিত করে রাখতেন।
“আসহাবে সুফফা” হচ্ছেন রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই সব সাহাবি যারা মসজিদে নববির একপাশে একসাথে থাকতেন এবং সর্বদা রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ পালনের অপেক্ষা করতেন। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হাদিয়া স্বরূপ যে খাদ্য আসতো তা থেকে তিনি তাদেরকে দিতেন। কখনো কোনো সাহাবি বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাদেরকে খাওয়াতেন। কখনো তারা অনাহারে থাকতেন। এভাবে তারা ফকিরী জীবন-যাপন করতেন। প্রকৃতপক্ষে তারা আল্লাহর পথে নিজেদের জীবনকে ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন।
আবু মুসা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আশআরি গোত্রের লোকেরা যখন জিহাদে যায় বা মদিনায় তাদের পরিবারে অল্প খাবার থাকে তখন যার কাছে যা কিছু (খাবার) থাকে তা তারা একই কাপড়ে জমা করে মিশায়। অতঃপর একটি পাত্র দ্বারা সমপরিমাণে তাদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়। তাই (তিনি বলেন) তারা আমার এবং আমি তাদের।”