মৃত্যু

عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ هَذِهِ الْقُلُوبَ تَصْدَأُ كَمَا يَصْدَأُ الْحَدِيدُ إِذَا أَصَابَهُ الْمَاءُ قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا جِلَاؤُهَا قَالَ كَثْرَةُ ذِكْرِ الْمَوْتِ وَتِلَاوَةُ الْقُرْآنِ

ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “অন্তরে (কলবে) মরিচা পড়ে যেমন পানির স্পর্শে লোহায় মরিচা পড়ে।” জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসুলাল্লাহ, অন্তরের মরিচা (কালিমা) কিভাবে দূর করা যায়? তিনি (নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “মৃত্যুর কথা বেশি করে স্মরণ করা এবং কুরআন অধ্যয়ন করা।”

عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ

ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “মহান আল্লাহ গড়গড় করার (মৃত্যুর চিহ্ন প্রকাশের) পূর্ব পর্যন্ত বান্দার তওবা কবুল করেন।”

মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ইমান আনা বা তওবা করা অর্থহীন। যেমন: ফেরাউন সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, “যখন সে ডুবতে লাগল, তখন সে বলল: আমি ইমান আনলাম সেই সত্তার (আল্লাহর) প্রতি যাঁর প্রতি বনি ইসরাইল ইমান এনেছিল। যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।” (সুরা ইউনুস ১০:৯০) কিন্তু তার সেই ইমান কাজে লাগে নি।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَابَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا تَابَ اللهُ عَلَيْهِ

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের পূর্বে (অর্থাৎ কিয়ামতের বড় এ আলামত প্রকাশের পূর্বে) তওবা করে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।”

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জীবনের স্বাদ বিনাশকারীকে (অর্থাৎ মৃত্যুকে) বেশি বেশি স্মরণ করো।”

জামি আত-তিরমিজি ২১৪৬ থেকে: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ যখন কোনো স্থানকে কোনো বান্দার মৃত্যুর জন্য নির্ধারণ করেন, তখন সেই স্থানে তার জন্য একটি হাজত (প্রয়োজন) সৃষ্টি করে দেন (ফলে সেই স্থানে গিয়ে সে মৃত্যুবরণ করে)।”

عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ لِضُرٍّ نَزَلَ بِهِ فَإِنْ كَانَ لَا بُدَّ مُتَمَنِّيًا فَلْيَقُلْ اللهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي

আনাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ যেন বিপদে পড়ার কারণে মৃত্যু আকাঙ্ক্ষা না করে। তবে মৃত্যু যদি তাকে কামনা করতেই হয় তবে সে যেন বলে, হে আল্লাহ, তুমি আমাকে জীবিত রাখো যতক্ষণ পর্যন্ত আমার হায়াত আমার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয় তবে আমাকে মৃত্যু দাও।”

সহিহ মুসলিম ৯৬০/৭৮ থেকে: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একটি জানাজা বা মৃতদেহকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তা দেখে রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন, তার সাথে আমরাও দাঁড়ালাম। অতঃপর আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ, সে (মৃতদেহ) তো একজন ইহুদি মহিলার। তিনি বললেন, “নিশ্চয় মৃত্যু ভয়ংকর। অতএব যখন তোমরা মৃতদেহ (নিয়ে যেতে) দেখো তখন দাঁড়াও।”

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ

আবু সাইদ খুদরি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা তোমাদের মৃত্যুগামী ব্যক্তিদেরকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বেশি করে পড়াও।”

মৃত্যুগামী (তখনও জীবিত আছে) ব্যক্তির পাশে সুরা ইয়াসিন পড়ার কথা একটা হাদিসে আছে। হাদিসটা সনদগতভাবে দুর্বল। তবে মৃত মানুষের পাশে কুরআন পড়লে কোনো সওয়াব বা বরকত হয়, এটা কুরআন-হাদিস কোথাও নেই। রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবিদের জীবনে অগণিত মানুষ মারা গিয়েছেন, কেউ মৃত মানুষের পাশে কুরআন পড়েন নি। তাই মরার পরে তার পাশে কুরআন পড়া এটা কুরআনকে এক ধরনের অবজ্ঞা করা। এটা থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিত। (জিজ্ঞাসা ও জবাব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১)

عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ يَقُولُ صَلَّى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى جَنَازَةٍ فَحَفِظْتُ مِنْ دُعَائِهِ وَهُوَ يَقُولُ اللهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ وَوَسِّعْ مَدْخَلَهُ وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ وَأَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ أَوْ مِنْ عَذَابِ النَّارِ قَالَ حَتَّى تَمَنَّيْتُ أَنْ أَكُونَ أَنَا ذَلِكَ الْمَيِّتَ

আউফ ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জানাজায় যে দোয়া পড়লেন, আমি তাঁর সে দোয়া মুখস্ত করেছি, দোয়ায় তিনি এ কথা গুলো বলেছিলেন, “আল্লাহুম্মাগফিরলাহু ওয়ারহামহু ওয়া আ-ফিহি ওয়াফু আনহু ওয়া আকরিম নুজুলাহু ওয়া ওয়াসসি মাদখালাহু ওয়াগসিলহু বিল মা’য়ে ওয়াস সালজি ওয়াল বারাদি ওয়ানাক্কিহি মিনাল খাতাইয়া কামা নাক্কায়তাস সাওবাল আব ইয়াজা মিনাদ দানাসি ওয়া আবদিলহু দারান খায়রাম মিন দারিহি ওয়া আহলান খায়রাম মিন আহলিহি ওয়া যাওজান খায়রাম মিন যাওজিহি ওয়া আদখিলহুল জান্নাতা ওয়া আয়েযহু মিন আযাবিল কাবরি আও মিন আযাবিন নার” (হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করে দাও ও তার প্রতি রহম করো। তাকে নিরাপদে রাখো ও তার ত্রুটি মার্জনা করো। তার উত্তম আপ্যায়নের ব্যবস্থা করো ও তার আশ্রয়স্থলকে প্রশস্ত করে দাও। তাকে পানি, বরফ ও শিশির দিয়ে ধুয়ে দাও। তাকে পাপ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দাও যেভাবে সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। তাকে তার ঘরের পরিবর্তে উত্তম ঘর দান করো, তার পরিবার থেকে উত্তম পরিবার দান করো, বর্তমান স্ত্রী অপেক্ষা উত্তম স্ত্রী দান করো। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং কবরের আজাব ও জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচাও)। (বর্ণনাকারী) আউফ ইবনে মালিক বলেন: তাঁর মূল্যবান দোয়া শুনে আমার মনে আকাঙ্ক্ষা জাগলো আমি যদি সে মৃত ব্যক্তি হতাম।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى عَلَى جِنَازَةٍ يَقُولُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ وَلَا تُضِلَّنَا بَعْدَهُ

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাজা পড়তেন তখন বলতেন, “আল্লাহুম্মাগফিরলি হাইয়িনা ওয়া মাইয়িতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িবিনা ওয়া সাগিরিনা ওয়া কাবিরিনা ওয়া যাকারিনা ওয়া উনসানা আল্লাহুম্মা মান আহ ইয়াইতাহু মিন্না ফাআহইহি আলাল ইসলাম ওয়ামান তাওয়াফ ফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহু আলাল ইমান আল্লাহুম্মা লা তাহরিমনা আজরাহু ওয়ালা তুযিল্লানা বা’দাহু” (হে আল্লাহ, আমাদের জীবিত-মৃত, উপস্থিত-অনুপস্থিত, ছোট-বড়, পুরুষ-স্ত্রী সকলকে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ, আমাদের মধ্যে যাকে তুমি জীবিত রাখো তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখো এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দান করো তাকে ইমানের সাথে মৃত্যু দাও। হে আল্লাহ, আমাদেরকে (আমলের) পুরস্কার থেকে বঞ্চিত কোরো না এবং আমাদেরকে ভ্রান্তিতে নিক্ষেপ কোরো না)।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اصْنَعُوا لِآلِ جَعْفَرٍ طَعَامًا فَإِنَّهُ قَدْ أَتَاهُمْ أَمْرٌ شَغَلَهُمْ

আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (যখন জাফরের শহিদ হবার সংবাদ মদিনাতে পৌঁছলো তখন) রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “জাফরের পরিবারের জন্য তোমরা খাবার তৈরি করো। কারণ তাদের নিকট বিপদ এসেছে যা তাদের শোকাভিভূত করে ফেলেছে।”

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَطَمَ الْخُدُودَ وَشَقَّ الْجُيُوبَ وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ

আব্দুল্লাহ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যারা (মৃতের জন্য শোকে) গালে চপেটাঘাত করে, জামার কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহিলি যুগের মতো চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।”

সহিহ মুসলিম ৯২৭/১৭ থেকে: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মৃত ব্যক্তিকে তার প্রতি তার স্বজনদের অধিক কান্নাকাটির দরূন কবরে আজাব দেয়া হয়।”

তাই মৃত ব্যক্তি তার পরিবারকে আগেই বলে রাখবেন, “আমার মৃত্যুর সময় তোমরা কান্নাকাটি করিও না।”

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ شَهِدْنَا بِنْتًا لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ عَلَى الْقَبْرِ قَالَ فَرَأَيْتُ عَيْنَيْهِ تَدْمَعَانِ

আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক কন্যা (উম্মে কুলসুম ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর জানাজায় উপস্থিত হলাম। আল্লাহর রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের পার্শ্বে উপবিষ্ট ছিলেন। আনাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: তখন আমি তাঁর চক্ষু হতে অশ্রু ঝরতে দেখেছি।

عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو فِي الصَّلَاةِ اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ

নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের মধ্যে শেষ রাকাতে এ বলে দোয়া করতেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবরি ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল মা’সামি ওয়াল মাগরাম।” (হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাই, আমি তোমার কাছে মাসিহি দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে গুনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় চাই।)

রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের পরে পাঠ করতেন: اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ (হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কুফরি থেকে ও দারিদ্র্য থেকে এবং আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব থেকে)।১ (রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৫০৪)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ شَهِدَ الْجَنَازَةَ حَتَّى يُصَلِّيَ فَلَهُ قِيرَاطٌ وَمَنْ شَهِدَ حَتَّى تُدْفَنَ كَانَ لَهُ قِيرَاطَانِ قِيلَ وَمَا الْقِيرَاطَانِ قَالَ مِثْلُ الْجَبَلَيْنِ الْعَظِيمَيْنِ

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি (কোনো মৃতের) জানাজার সালাতে উপস্থিত থাকবে, তার জন্য এক কিরাত। আর যে ব্যক্তি দাফন হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে তার জন্য দুই কিরাত।” জিজ্ঞেস করা হলো, দুই কিরাত কী? তিনি বললেন, “দুটি বিরাট পাহাড়ের সমতুল্য।”

জানাজার সালামের পরেই রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবিগণের সুন্নাত ছিল মৃতদেহ তুলে দাফনের জন্য অগ্রসর হওয়া (এবং দাফনের আগে কোনো ধরনের দুআ বা যিকর না করা)। কিন্তু আমাদের দেশে (অনেক স্থানে) মৃতদেহ বহনের সময় মুখে শব্দ করে বিভিন্ন যিকর করা হয় যা সুন্নাতের খেলাফ। হাদিসে বলা হয়েছে যে, সুন্নাতের খেলাফ কর্ম কবুল হবে না। (রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৪৮৭)

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ مُرَّ بِجَنَازَةٍ فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا خَيْرًا فَقَالَ نَبِيُّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَبَتْ وَجَبَتْ وَجَبَتْ وَمُرَّ بِجَنَازَةٍ فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا شَرًّا فَقَالَ نَبِيُّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَبَتْ وَجَبَتْ وَجَبَتْ قَالَ عُمَرُ فِدًى لَكَ أَبِي وَأُمِّي مُرَّ بِجَنَازَةٍ فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا خَيْرٌ فَقُلْتَ وَجَبَتْ وَجَبَتْ وَجَبَتْ وَمُرَّ بِجَنَازَةٍ فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا شَرٌّ فَقُلْتَ وَجَبَتْ وَجَبَتْ وَجَبَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ خَيْرًا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ وَمَنْ أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ شَرًّا وَجَبَتْ لَهُ النَّارُ أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللهِ فِي الْأَرْضِ أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللهِ فِي الْأَرْضِ أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللهِ فِي الْأَرْضِ

আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লোকেরা তার প্রশংসা করল। আল্লাহর নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে।” (আরেকবার) অন্য একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু লোকেরা তার দুর্নাম করল। আল্লাহর নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে।” তখন উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আপনার উপর আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক! একটি জানাজা অতিক্রম করলে তার প্রতি ভালো মন্তব্য করা হলে আপনি ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে বললেন। আর একটি জানাজা অতিক্রম করলে তার প্রতি খারাপ মন্তব্য করা হলে আপনি ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে বললেন। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন, “তোমরা যার সম্পর্কে ভালো মন্তব্য করেছো তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর তোমরা যার সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করেছো তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللهِ فِي الْأَرْضِ (তোমরা জমিনের বুকে আল্লাহর সাক্ষী, তোমরা জমিনের বুকে আল্লাহর সাক্ষী, তোমরা জমিনের বুকে আল্লাহর সাক্ষী)।”

عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ فَقَالَ اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ وَسَلُوا لَهُ بِالتَّثْبِيتِ فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ

উসমান ইবনে আফফান ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃতের দাফন শেষ করে সেখানে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, “তোমাদের ভাইয়ের জন্য তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সে যেন (সত্যের উপর) প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে সেজন্য দোয়া করো। কেননা এখনই তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে।”

মানুষের পরকালীন সফলতা বা ব্যর্থতা নির্ভর করে তার নিজের কর্মের উপর। একজন ইমানদার সৎ ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার জন্য কোথাও কিছু করা না হলে এমনকি তার মৃতদেহের সৎকার করা না হলেও তার কিছুই আসে যায় না (ভালো আমলের জন্য সে জান্নাতি হবে)। অপরদিকে জীবদ্দশায় যে ব্যক্তি শিরক, কুফরে জড়িত ইসলামের বিধি-বিধান মানেন নাই, জুলুম, অত্যাচার, অবৈধ উপার্জন, ফাঁকি, ধোঁকা ইত্যাদিতে লিপ্ত থেকেছে। তার জন্য তার মৃত্যুর পরে বিশ্বের সকল মানুষ একযোগে সকল প্রকার ‘শ্রাদ্ধ,’ অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ইত্যাদি করলেও তার কোনোলাভ হবে না (বদ আমলের জন্য সে জাহান্নামে যাবে)। হাদিস শরিফে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও দান-সদকা করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবিদের যুগে কারো মৃত্যু হলে ইসলামি বিধানমতে তিন দিন শোক পালনের জন্য তাঁরা মৃতের আত্মীয়দেরকে সমবেদনা জানাতে ও শোক প্রকাশ করতে তাদের বাড়িতে আসতেন। কিন্তু মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে ৩য়, ৭ম, ৪০তম দিনে বা মৃত্যু দিনে তার কবরের কাছে বা মৃতের বাড়িতে বা অন্য কোথাও কোনোভাবে তাঁরা কোনো অনুষ্ঠান করেন নি। তাঁদের সুন্নাত ছিলো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই মৃত ব্যক্তির কবর যিয়ারত করে তাকে সালাম দেয়া ও তাঁর জন্য দোয়া করা। (এহ্ইয়াউস সুনান, পৃষ্ঠা ৪৪২–৪৪৪)

عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدْ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ كَأَنَّمَا عَلَى رُءُوسِنَا الطَّيْرُ وَفِي يَدِهِ عُودٌ يَنْكُتُ بِهِ فِي الْأَرْضِ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا زَادَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ هَاهُنَا وَقَالَ وَإِنَّهُ لَيَسْمَعُ خَفْقَ نِعَالِهِمْ إِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِينَ حِينَ يُقَالُ لَهُ يَا هَذَا مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ وَمَنْ نَبِيُّكَ قَالَ هَنَّادٌ قَالَ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ لَهُ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ فَيَقُولَانِ لَهُ مَا دِينُكَ فَيَقُولُ دِينِيَ الْإِسْلَامُ فَيَقُولَانِ لَهُ مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ قَالَ فَيَقُولُ هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَقُولَانِ وَمَا يُدْرِيكَ فَيَقُولُ قَرَأْتُ كِتَابَ اللَّهِ فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُ زَادَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا الْآيَةُ ثُمَّ اتَّفَقَا قَالَ فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنْ قَدْ صَدَقَ عَبْدِي فَأَفْرِشُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ قَالَ فَيَأْتِيهِ مِنْ رَوْحِهَا وَطِيبِهَا قَالَ وَيُفْتَحُ لَهُ فِيهَا مَدَّ بَصَرِهِ قَالَ وَإِنَّ الْكَافِرَ فَذَكَرَ مَوْتَهُ قَالَ وَتُعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ لَهُ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ هَاهْ هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي فَيَقُولَانِ لَهُ مَا دِينُكَ فَيَقُولُ هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي فَيَقُولَانِ مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ فَيَقُولُ هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنْ كَذَبَ فَأَفْرِشُوهُ مِنَ النَّارِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ النَّارِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى النَّارِ قَالَ فَيَأْتِيهِ مِنْ حَرِّهَا وَسَمُومِهَا قَالَ وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلَاعُهُ زَادَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ قَالَ ثُمَّ يُقَيَّضُ لَهُ أَعْمَى أَبْكَمُ مَعَهُ مِرْزَبَّةٌ مِنْ حَدِيدٍ لَوْ ضُرِبَ بِهَا جَبَلٌ لَصَارَ تُرَابًا قَالَ فَيَضْرِبُهُ بِهَا ضَرْبَةً يَسْمَعُهَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ إِلَّا الثَّقَلَيْنِ فَيَصِيرُ تُرَابًا قَالَ ثُمَّ تُعَادُ فِيهِ الرُّوحُ

বারা ইবনে আযিব ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমরা রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আনসার গোত্রের এক ব্যক্তির জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য রওয়ানা হয়ে কবরের কাছে পৌঁছলাম। কিন্তু তখনও কবর খোঁড়া শেষ হয় নি। তাই রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসলেন এবং আমরাও তাঁর চারপাশে নীরবে বসলাম যেন আমাদের মাথার উপর পাখি বসে আছে। তাঁর হাতে একটি লাঠি ছিল, তা দিয়ে তিনি মাটিতে আঁচড় কাটছিলেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলে দুই বা তিনবার বললেন, “তোমরা আল্লাহর কাছে কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাও।” তিনি বলেন, “মৃত ব্যক্তি তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায় যখন লোকেরা দাফন করে ফিরে যেতে থাকে, আর তখনই তাকে বলা হয়, ওহে, তোমার রব কে? তোমার দীন কী? নবি কে?” (বর্ণনাকারী হান্নাদ বলেন) নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “এরপর তার কাছে দুজন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে জিজ্ঞেস করে, তোমার রব কে? তখন সে বলে, আমার রব আল্লাহ। তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার দীন কী? সে বলে, ইসলাম আমার দীন। এরপর তারা জিজ্ঞেস করে, এই যে ব্যক্তি তোমাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন, তিনি কে? সে বলে, তিনি আল্লাহর রাসুল। তারপর তারা আবার জিজ্ঞেস করে, তুমি কী করে জানতে পারলে? সে বলে, আমি আল্লাহর কিতাব (কুরআন) পড়েছি, তার প্রতি ইমান এনেছি এবং সত্য বলে স্বীকার করেছি।” (জারিরের বর্ণিত হাদিসে আছে) এটাই হলো আল্লাহর এ কালিমার অর্থ, “যারা এ শ্বাশ্বত বাণীতে ইমান এনেছে তাদেরকে ইহকালে ও পরকালে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন।” (সুরা ইবরাহিম ১৪:২৭)

নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “অতঃপর আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তার জন্য জান্নাতে একটি বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও। আর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। ফলে তার দিকে জান্নাতের স্নিগ্ধ বাতাস ও তার সুগন্ধি বইতে থাকে। ঐ দরজা তার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করা হয়।” নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফিরের মৃত্যু উল্লেখ করে বলেন, “তার রুহকে তার দেহে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং দুজন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে জিজ্ঞেস করেন, তোমার রব কে? সে বলে, হায়! হায়! আমি জানি না। তারপর ঐ দুজনে আবার জিজ্ঞেস করেন, তোমার দীন কী? সে বলে, হায়! হায়! আমি জানি না। পুনরায় তারা জিজ্ঞেস করে, এই যে ব্যক্তি তোমাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন, তিনি কে? সে বলে, হায়! হায়! আমি জানি না। তখন আকাশের দিক থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন, সে মিথ্যা বলেছে। সুতরাং তার জন্য জাহান্নামের একটি বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জাহান্নামের পোশাক পরিয়ে দাও। আর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। তারপর তার দিকে জাহান্নামের উত্তাপ ও উত্তপ্ত বাতাস আসতে থাকে। এছাড়া তার জন্য তার কবরকে সংকীর্ণ করে দেওয়া হয়। ফলে তার এক দিকের পাঁজর অপর দিকের পাঁজরের মধ্যে ঢুকে যায়।অতঃপর তার জন্য এক অন্ধ ও বধির ফেরেশতাকে নিযুক্ত করা হয়, যার সাথে একটি লোহার হাতুড়ি থাকে, যদি এ হাতুড়ি দ্বারা পাহাড়কে আঘাত করা হয় তাহলে তা ধুলা ধুলা হয়ে যেতো। ঐ ফেরেশতা তাকে ঐ হাতুড়ি দ্বারা জোরে আঘাত করতে থাকে যা মানুষ ও জিন ছাড়া পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সকল জীব-ই শুনতে পায়। আঘাতের ফলে সে মাটিতে বিলীন হয়ে যায়। পুনরায় তাতে রুহ ফেরত দেওয়া হয়। (এভাবে চলতে থাকে।)”

রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি বলবে: رَضِيْتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَ بِالْإِسْلَامِ دِيْنًا وَ بِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا (আমি সন্তুষ্ট-পরিতৃপ্ত আল্লাহকে প্রভু হিসেবে, ইসলামকে দীন হিসেবে ও মুহাম্মাদকে নবি হিসেবে গ্রহণ করে)। তবে তার জন্য জান্নাত পাওনা (ওয়াজিব) হয়ে যাবে।”২ (রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৫৩২)

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ فَإِنَّهُ يُعْرَضُ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ فَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের যখন কেউ মারা যায় তখন তাকে তার (পরকালের) ঠিকানা সকাল-সন্ধ্যায় দেখানো হয়। সে জান্নাতি হলে নিজেকে জান্নাতে এবং জাহান্নামি হলে জাহান্নামে দেখতে পায়।”

সহিহ আল-বুখারি ১৩৬৫ থেকে: আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে নিজেকে ফাঁস লাগাতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি বর্শার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে বর্শা বিদ্ধ হতে থাকবে।”

عَنْ عُثْمَانَ كَانَ إِذَا وَقَفَ عَلَى قَبْرٍ بَكَى حَتَّى يَبُلَّ لِحْيَتَهُ فَقِيلَ لَهُ تُذْكَرُ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَلَا تَبْكِي وَتَبْكِي مِنْ هَذَا فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْقَبْرَ أَوَّلُ مَنْزِلٍ مِنْ مَنَازِلِ الآخِرَةِ فَإِنْ نَجَا مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَشَدُّ مِنْهُ

উসমান ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি যখন কোনো কবরের কাছে দাঁড়াতেন তখন কাঁদতেন এমনকি তাঁর দাড়ি ভিজে যেতো। এজন্য তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কাঁদেন না অথচ এ কবরকে স্মরণ করে কাঁদছেন? তিনি উত্তরে বললেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আখিরাতের মঞ্জিল সমূহের মধ্যে কবর হলো প্রথম মঞ্জিল। কেউ যদি এ থেকে নাজাত পায় তবে তার কাছে পরবর্তী মঞ্জিলসমূহ এর চেয়েও সহজ হয়ে যাবে। আর কেউ যদি এ থেকে নাজাত না পায় তবে তার কাছে পরবর্তী মঞ্জিল সমূহ এর চেয়েও কঠিন হয়ে পড়বে।”

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: যে ব্যক্তি প্রতি রাতে তাবারাকাল্লাযি (সুরা মুলক) পড়বে, আল্লাহ তাকে কবরের আজাব থেকে হেফাজত করবেন। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে আমরা সুরাটিকে ‘আল মানিয়া’ (প্রতিরোধকারী) বলতাম। (আস-সুনানুল কুবরা ১০৪৭৯)

عَنْ جَابِرٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُجَصَّصَ الْقَبْرُ وَأَنْ يُقْعَدَ عَلَيْهِ وَأَنْ يُبْنَى عَلَيْهِ

জাবির ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর পাকা করা, কবরের উপর বসা এবং এর উপর কোনো রকম নির্মাণ কাজ করতে নিষেধ করেছেন।


  1. সুনান আন-নাসাই ১৩৪৭↩︎

  2. সহিহ মুসলিম ১৮৮৪/১১৬↩︎

বিষয়বস্তুতে যান

যোগাযোগ

মতামত, সংশোধনী বা যে কোনো পরামর্শ জানাতে এই ফর্মটি ব্যবহার করুন।