আব্দুল্লাহ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সত্যবাদিতা লোকদেরকে নেক কাজের দিকে নিয়ে যায় এবং নেক কাজ লোকদের জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। এক লোক নিয়তই যখন সত্য কথা বলতে থাকে তখন আল্লাহর দরবারে সে সত্যবাদী হিসেবে লিখিত হয়ে যায়। আর মিথ্যা লোকদেরকে খারাপ কাজের দিকে নিয়ে যায় আর খারাপ কাজ লোকদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। এক লোক যখন নিয়তই মিথ্যা বলতে থাকে তখন আল্লাহর দরবারে তার নাম মিথ্যাবাদী হিসেবে লিখিত হয়ে যায়।”
সাফওয়ান বিন সুলাইম ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একদা রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, মুমিন ব্যক্তি কি ভীরু হতে পারে? তিনি বললেন, “হাঁ, হতে পারে।” আবার জিজ্ঞেস করা হলো, মুমিন ব্যক্তি কি কৃপণ হতে পারে? তিনি বললেন, “হাঁ, হতে পারে।” পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো, মুমিন ব্যক্তি কি মিথ্যাবাদী হতে পারে? তিনি বললেন, “না।”
মুমিন ব্যক্তির ভীরুতা ও কৃপণতার দোষ থাকতে পারে কিন্তু মিথ্যাবাদী হতে পারে না।
আবু বাকরাহ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একদা নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বললেন, “আমি কি তোমাদেরকে গুনাহসমূহের মধ্য হতে সবচেয়ে বড় গুনাহ সম্পর্কে বলবো না?” তাঁরা বললেন, হাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ! বলুন। তিনি বললেন, “আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।” তিনি হেলান দিয়ে বসেছিলেন, হঠাৎ তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, “শুনে রাখো! আর মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া,” এভাবে তিনি বার বার বলতেই থাকেন, এমনকি আমাদের মনে হলো আহা! তিনি যদি থেমে যেতেন।
মিথ্যা কথা বলা কাবিরা গুনাহ কিন্তু মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া মিথ্যা কথার চেয়েও ভয়াবহ। এজন্যই রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেলান দেওয়া অবস্থা থেকে হঠাৎ সোজা হয়ে বসে মিথ্যা সাক্ষ্য দান কথাটি বারবার বলতে থাকেন। মিথ্যা সাক্ষ্য দান এতো ঘৃণিত কাজ যে, একজন বড় অপরাধী মিথ্যা সাক্ষ্য দানের কারণে আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়। আবার মিথ্যা সাক্ষ্য দানের কারণে আদালত একজন নিরপরাধ সম্মানী ব্যক্তিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধী বানিয়ে দেয়।