জামাআত ও আনুগত্য

عَنِ الْحَارِثِ الْأَشْعَرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا آمُرُكُمْ بِخَمْسٍ أَمَرَنِي اللَّهُ بِهَا بِالْجَمَاعَةِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَالْهِجْرَةِ وَالْجِهَادِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَمَنْ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ قِيدَ شِبْرٍ فَقَدْ خَلَعَ رِبَقَ الْإِسْلَامِ مِنْ عُنُقِهِ إِلَّا أَنْ يُرَاجِعَ وَمَنْ دَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ فَهُوَ مِنْ جُثَا جَهَنَّمَ قَالَ رَجُلٌ وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى قَالَ وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى

হারিস আল আশআরি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি তোমাদেরকে পাঁচটি ব্যাপারে নির্দেশ দিচ্ছি যে ব্যাপারে আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। জামাআতবদ্ধ হওয়া, নেতার আদেশ শোনা ও তার আনুগত্য করা, হিজরত করা এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। আর যে লোক জামাআত থেকে এক বিঘত দূরে সরে গেল সে যেন ইসলামের রজ্জু তার গলদেশ থেকে খুলে ফেললো, যতক্ষণ না সে পুনরায় জামাআতে ফিরে আসে। আর যে লোক জাহিলি (আইন-কানুনের) দিকে মানুষকে ডাকবে, সে জাহান্নামের লাকড়ি হবে।” এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল: যদি সে রোজা করে ও নামাজ পড়ে? তিনি উত্তর দিলেন, “যদিও সে রোজা করে ও নামাজ পড়ে।”

জামাআত সম্পর্কে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: لَا إِسْلَامَ إِلَّا بِجَمَاعَةٍ وَلَا جَمَاعَةَ إِلَّا بِإِمَارَةٍ وَلَا إِمَارَةَ إِلَّا بِطَاعَةٍ (জামাআত ছাড়া ইসলাম নেই, নেতৃত্ব ছাড়া জামাআত নেই এবং আনুগত্য ছাড়া নেতৃত্ব নেই)। (সুনান আদ-দারিমি ২৫৭)

আখেরি দোয়া ও মাজলিসের কাফফারা:

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

পবিত্রতা তোমার, হে আল্লাহ! এবং তোমারই প্রশংসা, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি এবং তওবা করছি।

রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাজলিসের শেষে মাজলিস থেকে ওঠার আগে এ কথাগুলো বলতেন। তিনি বলেছেন, “কোনো মাজলিস বা বৈঠক থেকে ওঠার সময় যদি কেউ এ কথাগুলো বলে, তবে তা মাজলিসের কাফফারা হবে, এর কারণে আল্লাহ তার মাজলিসের অন্যায় কথাবার্তা ও পাপগুলো ক্ষমা করবেন।”১ (রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৬৯২)

عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُسْلِمُونَ كَرَجُلٍ وَاحِدٍ إِنِ اشْتَكَى عَيْنُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ وَإِنِ اشْتَكَى رَأْسُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ

নুমান ইবনে বাশির ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সকল মুসলিম একজন লোকের দেহের মতো। যদি তার চোখ অসুস্থ হয় তবে তার সকল অঙ্গ অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর যদি তার মাথা ব্যথা হয় তাহলে তার সর্বাঙ্গ ব্যথিত হয়।”

عَنْ عَرْفَجَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّهُ سَتَكُونُ هَنَاتٌ وَهَنَاتٌ فَمَنْ أَرَادَ أَنْ يُفَرِّقَ أَمْرَ هَذِهِ الْأُمَّةِ وَهِيَ جَمِيعٌ فَاضْرِبُوهُ بِالسَّيْفِ كَائِنًا مَنْ كَانَ

আরফাজা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “শীঘ্রই বিভিন্ন রকম নতুন নতুন বিশৃঙ্খলা ও বিবাদের সৃষ্টি হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই উম্মতের ঐক্যে ভাঙন সৃষ্টির চেষ্টা করে, তরবারি দ্বারা তাকে শাস্তি দাও (অর্থাৎ হত্যা করো), সে যেই হোক না কেন।”

ঐক্যে ভাঙ্গনের ব্যাধি সম্পর্কে রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “পূর্ববর্তী উম্মাতগুলোর ব্যাধি তোমাদের মধ্যে ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে। সে ব্যাধি হলো তোমাদের হিংসা ও বিদ্বেষ। বিদ্বেষ মুণ্ডনকারী, আমি বলি না যে তা মাথার চুল মুণ্ডন করে; বরং তা দীন মুণ্ডন করে।”২ (ইসলামী আকীদা, পৃষ্ঠা ৬১৪)

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ عَلَى الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ فِيمَا أَحَبَّ وَكَرِهَ مَا لَمْ يُؤْمَرْ بِمَعْصِيَةٍ فَإِذَا أُمِرَ بِمَعْصِيَةٍ فَلاَ سَمْعَ وَلاَ طَاعَةَ

আব্দুল্লাহ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আদেশ শোনা এবং আনুগত্য করা মুসলিম ব্যক্তির অবশ্য কর্তব্য। সে আদেশ তার পছন্দ হোক বা না হোক, অবশ্য তা যদি নাফরমানিমূলক কাজের আদেশ না হয়। আর যখন তাকে আল্লাহর নাফরমানিমূলক কাজের আদেশ করা হয়, তখন তা শুনবেও না এবং মানবেও না।”

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْمَعُوا وَأَطِيعُوا وَإِنِ اسْتُعْمِلَ عَلَيْكُمْ عَبْدٌ حَبَشِيٌّ كَأَنَّ رَأْسَهُ زَبِيبَةٌ

আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যদি আঙ্গুরের মতো (ছোট) মাথা বিশিষ্ট কোনো হাবশি দাসকেও তোমাদের শাসক (নেতা) বানানো হয় তবুও তোমরা তার কথা শোনো এবং তার আনুগত্য করো।”

عنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ خَلَعَ يَدًا مِنْ طَاعَةٍ لَقِيَ اللهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا حُجَّةَ لَهُ وَمَنْ مَاتَ وَلَيْسَ فِي عُنُقِهِ بَيْعَةٌ مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে হাত সরিয়ে নিল, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে, তার কোনো দলিল থাকবে না এবং তার কাঁধে বাইয়াতের রজ্জু না থাকা অবস্থায় যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করল, তার মৃত্যু হলো জাহিলিয়াতের উপর।”

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَمَنْ أَطَاعَ أَمِيرِي فَقَدْ أَطَاعَنِي وَمَنْ عَصَى أَمِيرِي فَقَدْ عَصَانِي

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে আমাকে অমান্য করল, সে আল্লাহকেই অমান্য করল। যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে নিযুক্ত আমিরের আনুগত্য করল, সে আমারই আনুগত্য করল। আর যে আমার পক্ষ থেকে নিযুক্ত আমিরকে অমান্য করল, সে আমাকেই অমান্য করল।”

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَهَبَ الرِّجَالُ بِحَدِيثِكَ فَاجْعَلْ لَنَا مِنْ نَفْسِكَ يَوْمًا نَأْتِيكَ فِيهِ تُعَلِّمُنَا مِمَّا عَلَّمَكَ اللَّهُ فَقَالَ اجْتَمِعْنَ فِي يَوْمِ كَذَا وَكَذَا فِي مَكَانِ كَذَا وَكَذَا فَاجْتَمَعْنَ فَأَتَاهُنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَّمَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَهُ اللَّهُ ثُمَّ قَالَ مَا مِنْكُنَّ امْرَأَةٌ تُقَدِّمُ بَيْنَ يَدَيْهَا مِنْ وَلَدِهَا ثَلاَثَةً إِلَّا كَانَ لَهَا حِجَابًا مِنَ النَّارِ فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوِ اثْنَيْنِ قَالَ فَأَعَادَتْهَا مَرَّتَيْنِ ثُمَّ قَالَ وَاثْنَيْنِ وَاثْنَيْنِ وَاثْنَيْنِ

আবু সাইদ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একজন মহিলা রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসুল, পুরুষরা তো আপনার হাদিস বর্ণনা করে, সুতরাং আপনার তরফ থেকে আমাদের জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট করুন যেদিন আমরা আপনার কাছ থেকে এমন সব জিনিস শিখবো যা আল্লাহ আপনাকে শিখিয়েছেন। তিনি বললেন, “তোমরা অমুক অমুক দিন অমুক অমুক স্থানে সমবেত হও।” অতঃপর মহিলারা সমবেত হলো। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে আসলেন ও আল্লাহ তাঁকে যা শিখিয়েছেন তা তিনি তাদেরকে শিখালেন। তারপর তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে এমন কোনো মহিলা নেই যার তিনটি সন্তান ইতিপূর্বে মারা গেছে আর তারা জাহান্নামে যাওয়ার পথে আড়াল সৃষ্টি করবে না।” এরপর তাদের মধ্যের এক মহিলা বলল: ইয়া রাসুলাল্লাহ, আর দুটি সন্তান হলে? রাবি বলেন, মহিলা একথা দু’বার বলল। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “দুটি হলেও, দুটি হলেও, দুটি হলেও।”

عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ لَا يَجْمَعُ أُمَّتِي أَوْ قَالَ أُمَّةَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى ضَلَالَةٍ وَيَدُ اللَّهِ مَعَ الْجَمَاعَةِ وَمَنْ شَذَّ شَذَّ إِلَى النَّارِ

ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ আমার উম্মতকে (অথবা বলেন) মুহাম্মাদের উম্মতকে কখনো গোমরাহির উপর জমায়েত করবেন না। আল্লাহর (রহমত ও সাহায্যের) হাত জামাআতের উপর রয়েছে। আর যে ব্যক্তি জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, সে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে।”

জামাআতবদ্ধ অবস্থায় পরামর্শ করে কাজ করতে হয়। পরামর্শ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, “তারা তাদের কাজ নিজেদের মধ্যে পরামর্শের মাধ্যমে সম্পন্ন করে।” (সুরা আশ-শুরা ৪২:৩৮)


  1. সুনান আবু দাউদ ৪৮৫৯↩︎

  2. জামি আত-তিরমিজি ২৫১০↩︎

বিষয়বস্তুতে যান

যোগাযোগ

মতামত, সংশোধনী বা যে কোনো পরামর্শ জানাতে এই ফর্মটি ব্যবহার করুন।