রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর মু’জিযা

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنَ الْأَنْبِيَاءِ نَبِيٌّ إِلَّا أُعْطِيَ مَا مِثْلهُ آمَنَ عَلَيْهِ الْبَشَرُ وَإِنَّمَا كَانَ الَّذِي أُوتِيتُ وَحْيًا أَوْحَاهُ اللَّهُ إِلَيَّ فَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَكْثَرَهُمْ تَابِعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক নবিকে তাঁর যুগের প্রয়োজন মোতাবেক কিছু মু’জিযা দান করা হয়েছে, যা দেখে লোকেরা তাঁর প্রতি ইমান এনেছে। আমাকে যে মু’জিযা দেওয়া হয়েছে তা হচ্ছে, ওহি (অর্থাৎ আল কুরআন), যা আল্লাহ আমার প্রতি নাজিল করেছেন। কাজেই আমি আশা করি, কিয়ামতের দিন তাঁদের অনুসারীদের তুলনায় আমার অনুসারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হবে।”

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَمَّا كَذَّبَتْنِي قُرَيْشٌ قُمْتُ فِي الْحِجْرِ فَجَلَا اللهُ لِي بَيْتَ الْمَقْدِسِ فَطَفِقْتُ أُخْبِرُهُمْ عَنْ آيَاتِهِ وَأَنَا أَنْظُرُ إِلَيْهِ

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ ﵄রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “(মিরাজের সংবাদে) কুরায়শরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে অপবাদ দিলো। তখন আমি হাজরে আসওয়াদের পাশে দাঁড়ালে আল্লাহ তায়ালা আমার সম্মুখে বায়তুল মাকদাসকে তুলে ধরেন, আর আমি চোখে দেখেই তার সকল চিহ্ন তাদেরকে বলে যেতে লাগলাম।”

عَنِ ابْنِ عُمَرَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ إِلَى جِذْعٍ فَلَمَّا اتَّخَذَ الْمِنْبَرَ تَحَوَّلَ إِلَيْهِ فَحَنَّ الْجِذْعُ فَأَتَاهُ فَمَسَحَ يَدَهُ عَلَيْهِ

ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন (মিম্বার তৈরির পূর্বে) নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি খেজুরের খুঁটির সাথে হেলান দিয়ে খুতবা দিতেন। মিম্বার তৈরি হয়ে গেলে যখন তিনি তাতে আসন গ্রহণ করলেন, তখন খেজুরের খুঁটিটি কান্না জুড়ে দিল। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তার নিকটে আসলেন এবং তার গায়ে হাত বুলিয়ে দিলেন (তখন খুঁটিটি শান্ত হলো)।

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ عَطِشَ النَّاسُ يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ يَدَيْهِ رِكْوَةٌ فَتَوَضَّأَ فَجَهِشَ النَّاسُ نَحْوَهُ فَقَالَ مَا لَكُمْ قَالُوا لَيْسَ عِنْدَنَا مَاءٌ نَتَوَضَّأُ وَلاَ نَشْرَبُ إِلَّا مَا بَيْنَ يَدَيْكَ فَوَضَعَ يَدَهُ فِي الرِّكْوَةِ فَجَعَلَ الْمَاءُ يَثُورُ بَيْنَ أَصَابِعِهِ كَأَمْثَالِ الْعُيُونِ فَشَرِبْنَا وَتَوَضَّأْنَا قُلْتُ كَمْ كُنْتُمْ قَالَ لَوْ كُنَّا مِائَةَ أَلْفٍ لَكَفَانَا كُنَّا خَمْسَ عَشْرَةَ مِائَةً

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: হুদাইবিয়ার দিন লোকেরা পিপাসিত হয়ে পড়ল। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একটি ছোট পানির পাত্র ছিল। তিনি (তা থেকে) অজু করলেন। লোকেরা তাঁর দিকে ছুটে এলো। তিনি বললেন, “তোমাদের কী হয়েছে?” তারা বললেন: আমাদের কাছে অজু করা ও পান করার মত অল্প পানিও নেই, আপনার কাছের পানিটুকু ছাড়া। তখন তিনি তাঁর হাত ঐ পাত্রের মধ্যে রাখলেন। ফলে তার আঙুলগুলোর ফাঁক দিয়ে ঝর্ণা ধারার মতো পানি প্রবাহিত হতে শুরু করল। তারপর আমরা পানি পান করলাম এবং অজু করলাম। (বর্ণনাকারী সালিম বলেন) আমি (জাবির ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু -কে) বললাম, আপনারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন: যদি আমরা এক লাখও হতাম তবুও তা আমাদের জন্য যথেষ্ট হতো। আমরা ছিলাম সংখ্যায় পনেরোশত জন।

বিষয়বস্তুতে যান

যোগাযোগ

মতামত, সংশোধনী বা যে কোনো পরামর্শ জানাতে এই ফর্মটি ব্যবহার করুন।