হজ

عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا يُوجِبُ الْحَجَّ قَالَ الزَّادُ وَالرَّاحِلَةُ

ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল! কোন বস্তু হজকে ফরজ করে? তিনি উত্তরে বললেন, “(নিজের ও পরিবারের) খাওয়া খরচ এবং (মক্কা পর্যন্ত) নিজের সফর খরচ।”

আল্লাহ বলেন, “তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও উমরা পূর্ণভাবে আদায় করো।” (সুরা আল-বাকারা ২:১৯৬)

সহিহ আল-বুখারি ১৮৬৩ থেকে: নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “রমজান মাসে একটি উমরা আদায় করা একটি ফরজ হজ আদায় করার সমান।”

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ تَلْبِيَةَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَبَّيْكَ اللهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তালবিয়া নিম্নরূপ ছিল: লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা। লাব্বাইকা লা শারিকালাকা লাব্বাইকা। ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক লা শারিকালাক। (তোমার দরবারে হাজির হে আল্লাহ! তোমার নিকট হাজির, তোমার কাছে হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই। তোমার নিকট হাজির। নিশ্চয় যাবতীয় প্রশংসা ও নিয়ামত তোমারই। সমগ্র রাজত্ব তোমারই। তোমার কোনো শরীক নেই।)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ حَجَّ لِلَّهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ করে, সেখানে বাজে কথা বলে না এবং কোনো গুনাহর কাজও করে না, তবে সে এমনভাবে পাক-পবিত্র হয়ে ফিরে যায় যেমনভাবে তার মা তাকে প্রসব করেছে।”

সহিহ আল-বুখারি ১৭৭৩ থেকে: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মাবরুর হজের প্রতিদান হচ্ছে একমাত্র জান্নাত।” আল-মাবরুর অর্থ এমন কাজ যে কাজ সম্পাদনকারী ব্যক্তি কোনো গুনাহ করে নি।

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَاءَتِ امْرَأَةٌ مِنْ خَثْعَمَ عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الْحَجِّ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا لاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَسْتَوِيَ عَلَى الرَّاحِلَةِ فَهَلْ يَقْضِي عَنْهُ أَنْ أَحُجَّ عَنْهُ قَالَ نَعَمْ

ইবনে আব্বাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: বিদায় হজের বছর খাস’আম গোত্রের একজন মহিলা এসে বলল: ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর তরফ থেকে বান্দার উপর যে হজ ফরজ হয়েছে তা আমার বৃদ্ধ পিতার উপর এমন সময় ফরজ হয়েছে যখন তিনি সওয়ারির উপর বসে থাকতে পারেন না। আমি তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করলে হবে কি? তিনি বললেন, “হাঁ।”

আল-মুজামুল আওসাত ৫৩২১-এর বর্ণনা থেকে: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হজ, উমরা বা জিহাদের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি নিজ গৃহ থেকে বের হয়ে পথে মৃত্যুবরণ করল। তবে আল্লাহ তায়ালা তাকে গাজী, হাজি ও উমরা আদায়কারীর সমান সওয়াব দিবেন।”

أُسَيْدَ بْنَ ظُهَيْرٍ الْأَنْصَارِيَّ يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِ قُبَاءَ كَعُمْرَةٍ

উসাইদ ইবনে জুহাইর আনসারি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মসজিদে কুবায় একবার নামাজ পড়লে একটা উমরার সমান সওয়াব হয়।”

عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِي أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ وَصَلَاةٌ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَفْضَلُ مِنْ مِائَةِ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ

জাবির ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমার মসজিদে (মসজিদে নববিতে) আদায়কৃত নামাজ মসজিদুল হারাম বাদে অন্য যে কোনো মসজিদে আদায়কৃত নামাজের এক হাজার গুণ অপেক্ষা বেশি। আর মসজিদুল হারামে আদায়কৃত নামাজ অন্য যে কোনো মসজিদে আদায়কৃত নামাজের এক লক্ষ গুণ বেশি।”

বিষয়বস্তুতে যান

যোগাযোগ

মতামত, সংশোধনী বা যে কোনো পরামর্শ জানাতে এই ফর্মটি ব্যবহার করুন।