অসুস্থ ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ

عَنْ ثَوْبَانَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا عَادَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ لَمْ يَزَلْ فِي خُرْفَةِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَرْجِعَ

সাওবান ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কোনো মুসলমান যখন তার কোনো রুগ্ন মুসলমান ভাইকে দেখতে যায়, তখন সে যেন জান্নাতের ফল আহরণে ব্যস্ত থাকে, যতক্ষণ না সে ফিরে আসে।”

সহিহ মুসলিম ২৫৬৯/৪৩ থেকে: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বলবেন, “হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ হয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমার সেবা করো নি।” সে বলবে: হে আমার রব! আমি কী করে তোমার সেবা করবো, অথচ তুমি সারা জাহানের রব। আল্লাহ বলবেন, “তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিলো, তুমি তার সেবা করলে আমাকে তার কাছেই পেতে।”

“হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমাকে খেতে দাও নি।” সে (বান্দা) বলবে: হে আমার পরওয়ারদিগার! আমি কি করে তোমাকে আহার করাতে পারি! তুমি তো সারা জাহানের প্রতিপালক। আল্লাহ বলবেন, “তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে আহার চেয়েছিল? তুমি তাকে খেতে দাও নি। তুমি কি জানতে না যে, যদি তুমি তাকে আহার করাতে, তাহলে তা অবশ্যই আমার কাছে পেতে।”

“হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে পানীয় চেয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাও নি।” সে (বান্দা) বলবে: হে আমার পরওয়ারদিগার! আমি কী করে তোমাকে পান করাব, অথচ তুমি সারা জাহানের প্রতিপালক। আল্লাহ বলবেন, “আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানীয় চেয়েছিল, তুমি তাকে পান করাও নি। যদি তুমি তাকে পান করাতে, তবে তা আমার কাছে পেতে।”

عن سعدِ بن أَبي وقاصٍ قَالَ عَادَنِي رسول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا

সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমার অসুস্থ অবস্থায় রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে আসলেন। তিনি দোয়া করলেন, “হে আল্লাহ! সাদকে রোগমুক্তি দান করো; হে আল্লাহ! সাদকে রোগমুক্তি দান করো; হে আল্লাহ! সাদকে রোগমুক্তি দান করো।”

নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে রোগীর অন্তিম সময় আসে নি, কেউ তার সামনে যদি ৭ বার বলে أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ (আমি বিশাল আরশের রব মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি তোমাকে রোগমুক্তি দান করুন), তবে আল্লাহ তাকে সেই রোগ থেকে মুক্তি দান করেন।” (সুনান আবু দাউদ ৩১০৬)

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَى رَجُلٍ يَعُودُهُ فَقَالَ لاَ بَأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

ইবনে আব্বাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রোগীকে দেখার জন্য তার কাছে গেলেন। তখন তিনি বললেন, “লা বা’সা তহুরুন ইনশাআল্লাহ” (কোনো চিন্তা নেই, ইনশাআল্লাহ এ রোগ গুনাহ থেকে পাক করবে)।

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلاَ وَصَبٍ وَلاَ هَمٍّ وَلاَ حُزْنٍ وَلاَ أَذًى وَلاَ غَمٍّ حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا إِلَّا كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ

আবু সাইদ খুদরি এবং আবু হুরায়রা ﵄রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কোনো মুসলমান কোনো যন্ত্রণা, রোগ-কষ্ট, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, নির্যাতন ও শোকের কবলে পড়লে, এমনকি কাঁটা বিদ্ধ হলেও, আল্লাহ তায়ালা এর বদলে তার গুনাহ-খাতা মাফ করে দেন।”

বিষয়বস্তুতে যান

যোগাযোগ

মতামত, সংশোধনী বা যে কোনো পরামর্শ জানাতে এই ফর্মটি ব্যবহার করুন।