পরম দয়ালু আল্লাহর দয়া

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَقُولُ اللَّهُ إِذَا أَرَادَ عَبْدِي أَنْ يَعْمَلَ سَيِّئَةً فَلاَ تَكْتُبُوهَا عَلَيْهِ حَتَّى يَعْمَلَهَا فَإِنْ عَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا بِمِثْلِهَا وَإِنْ تَرَكَهَا مِنْ أَجْلِي فَاكْتُبُوهَا لَهُ حَسَنَةً وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَعْمَلَ حَسَنَةً فَلَمْ يَعْمَلْهَا فَاكْتُبُوهَا لَهُ حَسَنَةً فَإِنْ عَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا لَهُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةٍ

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তায়ালা (তাঁর ফেরেশতাদেরকে) বলেন: আমার বান্দা কোনো গুনাহের কাজ করার ইচ্ছা করলে তা না করা পর্যন্ত তার জন্য কোনো গুনাহ লিখ না। তবে সে যদি গুনাহর কাজটি করে ফেলে, তাহলে কাজটির অনুপাতে তার গুনাহ লিখ। আর যদি আমার কারণে তা পরিত্যাগ করে, তাহলে তার জন্য একটি নেকি লিপিবদ্ধ করো। আর সে যদি কোনো নেকির কাজ করতে ইচ্ছা করে কিন্তু এখনো তা করে নি তাহলেও তার জন্য একটি নেকি লিপিবদ্ধ করো। আর যদি তা করে তাহলে কাজটির অনুপাতে তার জন্য দশগুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত নেকি লিপিবদ্ধ করো।”

عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِلَّهِ مِائَةَ رَحْمَةٍ فَمِنْهَا رَحْمَةٌ بِهَا يَتَرَاحَمُ الْخَلْقُ بَيْنَهُمْ وَتِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ

সালমান আল-ফারেসি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তায়ালার একশ ভাগ রহমত আছে। তার মধ্যে এক ভাগ রহমতের দ্বারাই সৃষ্ট জীব একে অপরের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে। বাকি নিরানব্বই ভাগ রহমত রাখা হয়েছে কিয়ামত দিবসের জন্য।”

عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ قَالَ قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَبْيٍ فَإِذَا امْرَأَةٌ مِنَ السَّبْيِ تَبْتَغِي إِذَا وَجَدَتْ صَبِيًّا فِي السَّبْيِ أَخَذَتْهُ فَأَلْصَقَتْهُ بِبَطْنِهَا وَأَرْضَعَتْهُ فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَرَوْنَ هَذِهِ الْمَرْأَةَ طَارِحَةً وَلَدَهَا فِي النَّارِ قُلْنَا لَا وَاللهِ وَهِيَ تَقْدِرُ عَلَى أَنْ لَا تَطْرَحَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَلَّهُ أَرْحَمُ بِعِبَادِهِ مِنْ هَذِهِ بِوَلَدِهَا

উমর ইবনে খাত্তাব ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: এক সময় কয়েকজন বন্দী রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আনা হলো। বন্দীদের মধ্যে একজন নারী খোঁজাখুঁজি করে কোনো শিশুকে পেলে তাকে কোলে নিয়ে পেটের সাথে জড়িয়ে ধরে তার দুধ পান করাতো। এ দেখে রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা কি মনে করো, এ মহিলা তার সন্তানকে আগুনে নিক্ষেপ করতে পারে?” আমরা বললাম, না, আল্লাহর শপথ! সে কোনো সময় তার সন্তানকে আগুনে ফেলতে পারবে না। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সন্তানের উপর এ মহিলাটির দয়া হতেও আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি বেশি দয়ালু।”

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْ يَعْلَمُ الْمُؤْمِنُ مَا عِنْدَ اللهِ مِنَ الْعُقُوبَةِ مَا طَمِعَ بِجَنَّتِهِ أَحَدٌ وَلَوْ يَعْلَمُ الْكَافِرُ مَا عِنْدَ اللهِ مِنَ الرَّحْمَةِ مَا قَنَطَ مِنْ جَنَّتِهِ أَحَدٌ

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর কাছে যে পরিমাণ শাস্তি রয়েছে তা যদি কোনো মুমিন ব্যক্তি জানতে পারতো তবে সে জান্নাতের আশা করতো না। তেমনিভাবে আল্লাহর কাছে যে পরিমাণ দয়া আছে তা যদি কোনো কাফের ব্যক্তি জানতে পারতো তবে সে জান্নাত পাওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হতো না।”

আল্লাহ বলেন, “(হে নবি!) বলে দিন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছো, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না (লা তাকনাতু মির রহমাতিল্লাহ)। নিশ্চয় আল্লাহ সকল গুনাহ মাফ করে দেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল ও মেহেরবান।” (সুরা আজ-জুমার ৩৯:৫৩)

সহিহ মুসলিম ২৭৬৬/৪৬ থেকে: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমাদের পূর্ববর্তী জামানায় এক ব্যক্তি নিরানব্বই জন মানুষকে হত্যা করে সে একজন সংসার বিরাগী পাদ্রীর কাছে গমন করে তাকে বললো, সে নিরানব্বই জন মানুষকে হত্যা করেছে, এখন তার জন্য তাওবার কোনো সুযোগ আছে কি? পাদ্রী বললো, নেই। এতে ব্যক্তিটি ক্ষিপ্ত হয়ে পাদ্রীকে হত্যা করে একশো সংখ্যা পূর্ণ করল। এরপর আবার সে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আলেমের কাছে গিয়ে তাকে বললো, সে একশো ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। এখন তার জন্য তাওবার কোনো সুযোগ আছে কি? আলেম বললো, হ্যাঁ। তুমি অমুক স্থানে গমন করো, সেখানে কিছু ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করছে। তুমিও তাদের সাথে বন্দেগী করো, তোমার দেশে ফিরে যেও না। ব্যক্তিটি নির্দেশিত স্থানের দিকে চলতে লাগল। অর্ধেক স্থান যখন অতিক্রম করল তখন তার মৃত্যু ঘনিয়ে এলো। তখন রহমতের ফেরেশতা এবং আজাবের ফেরেশতাদের মধ্যে বিবাদ বেঁধে গেলো। রহমতের ফেরেশতারা বললেন: ঐ ব্যক্তি খালেস অন্তরে তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে এসেছে আর আজাবের ফেরেশতারা বললেন: ব্যক্তিটি কখনো ভালো আমল করে নি। এমন সময় একজন ফেরেশতা মানুষের আকার ধারণ করে তাদের কাছে আসলে তারা তাকেই বিচারক হিসেবে মেনে নিল। এরপর বিচারক বললেন: তোমরা উভয় দিকের স্থানের দূরত্ব মেপে দেখো, যেদিকটি কাছাকাছি হবে ব্যক্তিটি তার অন্তর্ভুক্ত হবে। এরপর স্থান মেপে দেখা গেলো তাকে নির্দেশিত দিকের কাছাকাছি পাওয়া গেলো। অতএব রহমতের ফেরেশতা ব্যক্তিটির রূহ কবজ করল।”

عَنْ أَبِي مُوسَى مِرَارًا يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا مَرِضَ الْعَبْدُ أَوْ سَافَرَ كُتِبَ لَهُ مِثْلُ مَا كَانَ يَعْمَلُ مُقِيمًا صَحِيحًا

আবু মুসা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি একাধিকবার বলেছেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর বান্দা যখন অসুস্থ হয় অথবা সফর করে, তখন সুস্থ ও মুকিম (বাড়িতে থাকা) অবস্থায় সে যে পরিমাণ নেক আমল করতো সেই পরিমাণ আমলের সওয়াব তার জন্য লেখা হয়।”

কিয়ামতের দিন আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হলো, তিনি বান্দার গোপন পাপ মাফ করে দেবেন।

সহিহ মুসলিম ২৭৬৮/৫২ থেকে: ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “কিয়ামতের দিন মুমিন ব্যক্তিকে তার রবের নিকটে নেয়া হলে মহান আল্লাহ তার উপর পর্দা ফেলে দেবেন এবং তার পাপের ব্যাপারে তাকে তিনি প্রশ্ন করবেন, তুমি তোমার পাপ সম্বন্ধে জানো কি? সে বলবে, হে আমার রব! আমি জানি। তখন তিনি বলবেন, তোমার এ পাপ দুনিয়ায় আমি গোপন করে রেখেছিলাম। আজ তোমার এ পাপগুলোকে আমি মাফ করে দিলাম। এরপর তার নেকির আমলনামা তার কাছে দেওয়া হবে।”

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا قَضَى اللَّهُ الْخَلْقَ كَتَبَ فِي كِتَابِهِ فَهُوَ عِنْدَهُ فَوْقَ الْعَرْشِ إِنَّ رَحْمَتِي غَلَبَتْ غَضَبِي

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ যখন সৃষ্টির কাজ শেষ করলেন তখন তিনি আরশের উপর তাঁর নিকট রক্ষিত তাঁর কিতাবে লিখেন, নিশ্চয় আমার রহমত আমার ক্রোধ (গজব)-এর উপর বিজয়ী (অধিক শক্তিশালী)।”

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبْلَ مَوْتِهِ بِثَلَاثَةِ أَيَّامٍ يَقُولُ لَا يَمُوتَنَّ أَحَدُكُمْ إِلَّا وَهُوَ يُحْسِنُ الظَّنَّ بِاللهِ عَزَّ وَجَلَّ

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর তিন দিন আগে আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, “তোমাদের সকলেই যেন মহান আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা নিয়ে মৃত্যু বরণ করে।”

বিষয়বস্তুতে যান

যোগাযোগ

মতামত, সংশোধনী বা যে কোনো পরামর্শ জানাতে এই ফর্মটি ব্যবহার করুন।