জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেকটি ভালো কাজ সদকাহ (নেকি)। তোমার কোনো ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে মিলিত হওয়াও একটি নেকির কাজ। এমনিভাবে নিজ বালতির পানি অপরের পাত্রে ঢেলে দেওয়াও নেকির কাজ।”
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা একে অপরকে হাদিয়া (উপঢৌকন) দাও তাহলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে।”
হাদিয়া হিসেবে পছন্দের যে কোনো জিনিস দেওয়া যায়। তবে (১) মা’আরেফুল কোরআন (২) তাফহীমুল কুরআন (৩) তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন (৪) আর-রাহীকুল মাখতূম (৫) রিয়াদুস সালেহিন (৬) এহ্ইয়াউস সুনান (৭) রাহে বেলায়াত (৮) ইসলামী আকীদা (৯) হাদীসের নামে জালিয়াতি (১০) খুতবাতুল ইসলাম (১১) পোশাক, পর্দা ও দেহ-সজ্জা (১২) আল-ফিকহুল আকবার (১৩) ইযহারুল হক (১৪) পবিত্র বাইবেল: পরিচিতি ও পর্যালোচনা—বইগুলো হাদিয়া হিসেবে ব্যবহার করুন। এর ফলে পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। আর বইগুলো অধ্যয়নের ফলে রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসা ও ভক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং হৃদয় ও মন তাঁর অনুসরণের দিকে ধাবিত হবে।
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “এক মুমিন আর এক মুমিনের আয়নাস্বরূপ এবং এক মুমিন অপর মুমিনের ভাই। সে তার ভাইকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে এবং পিছন থেকে তাকে হেফাজত করে।”
আবু দারদা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন কোনো মুসলিম বান্দা তার ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে দোয়া করে তখন একজন ফেরেশতা বলে, তোমার জন্যও অনুরূপ।”
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, “এক ব্যক্তি অন্য গ্রামে তার এক ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেল। মহান আল্লাহ তার জন্য রাস্তায় একজন ফেরেশতা নির্দিষ্ট করে দিলেন। যখন ফেরেশতা তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, তোমার কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা? সে বলল: এই গ্রামে আমার এক ভাই আছে, তার সাথে দেখা করার জন্য। ফেরেশতা বলল: তার কাছে কি কিছু পাওনা আছে, যার জন্য চেষ্টা করছো? সে বলল: না, আমি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তাকে ভালোবাসি। ফেরেশতা বলল: আমি আল্লাহর দূত হিসেবে তোমার কাছে এসেছি এটা জানানোর জন্য যে, তুমি যেমন তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসো, আল্লাহও তোমাকে তেমন ভালোবাসেন।”
এক ব্যক্তি নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে বসেছিল, অন্য এক লোক অতিক্রম করে চলে গেল। বসা ব্যক্তি বলল: ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি লোকটিকে ভালোবাসি। নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “তুমি কি তাকে জানিয়েছো?” সে বলল: না। তিনি বললেন, “তাকে জানাও।” সুতরাং সে তার সাথে দেখা করে তাকে বলল: আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি তোমাকে ভালোবাসি। ঐ লোক বলল: আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসুন, যার জন্য তুমি আমাকে ভালোবাসো। (সুনান আবু দাউদ ৫১২৫)
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলবেন, তারা কোথায়! যারা আমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পরস্পর ভালোবেসেছিলে? আজ আমি তাদেরকে আমার সুশীতল ছায়ায় স্থান দিবো যেদিন আমার ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না।”
আনাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু হিজরত করে আমাদের কাছে আসলে রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ও সাদ ইবনে রাবি ﵄রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মাঝে ভ্রাতৃত্ব জুড়ে দিলেন। তিনি অধিক ধনী ছিলেন। সাদ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আনসারগণ জানেন যে, আমি তাদের মধ্যে অধিক সম্পদশালী। আমি আমার ও তোমার মধ্যে আমার সম্পদ দুইভাগে ভাগ করে দেবো। আমার দুজন স্ত্রী আছে। তোমার যাকে পছন্দ হয় বলো, আমি তাকে তালাক দিয়ে দেবো। ইদ্দত শেষে তুমি তাকে বিয়ে করবে। আব্দুর রহমান ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আল্লাহ আপনার পরিবার-পরিজনের মধ্যে বরকত দান করুন।
সহিহ আল-বুখারি ৩৭৮০-এর বর্ণনায় রয়েছে: এ প্রস্তাব পেশ করলে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু সাদ ইবনে রাবি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেন: আল্লাহ আপনার পরিবারে ও সম্পদে বরকত দান করুন। আপনাদের বাজার কোথায়? তারা তাকে বনু কায়নুকার বাজার দেখিয়ে দিলেন।
হাদিসের বর্ণনা থেকে আমরা দেখতে পাই সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা তা অতুলনীয়। সাধারণত স্থায়ী লোকেরা অন্য এলাকা থেকে তাদের এলাকায় কেউ আসলে তা ভালো চোখে দেখে না। ইমানের ভিত্তিতে ঐ ভ্রাতৃত্ব বন্ধন আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। আল্লাহ বলেন, “তোমরা ছিলে একে অপরের দুশমন। তিনি তোমাদের দিলে মুহব্বত সৃষ্টি করে দিয়েছেন। ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেছো।” (সুরা আলে ইমরান ৩:১০৩)