আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মুসলিম বা মুমিন বান্দা অজু করার সময় যখন তার মুখমণ্ডল ধুয়ে ফেলে তখন পানির সাথে বা পানির শেষ ফোঁটার সাথে তার মুখমণ্ডল থেকে এমন প্রতিটি গুনাহ ঝরে পড়ে যা সে তার দুই চোখ দ্বারা করেছে। তারপর যখন সে তার দুই হাত ধুয়ে ফেলে, তখন পানির সাথে বা পানির শেষ ফোঁটার সাথে তার দুই হাত থেকে এমন প্রতিটি গুনাহ ঝরে পড়ে যা সে তার দুই হাত দ্বারা করেছে। এরপর যখন সে তার দুই পা ধুয়ে ফেলে, তখন পানির সাথে বা পানির শেষ ফোঁটার সাথে তার দুই পায়ের এমন প্রতিটি গুনাহ ঝরে পড়ে যা সে তার দুই পা দ্বারা করেছে। শেষ পর্যন্ত সে গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যায়।”
বিভিন্ন পুস্তকে ওজুর অঙ্গ ধৌত করার ভিন্ন ভিন্ন দোয়ার উল্লেখ করা হয়েছে। হাত ধোয়ার দোয়া, কুল্লি করার দোয়া, নাক পরিষ্কার করার দোয়া, ইত্যাদি। এ দোয়া যে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, সে হাদিসটি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
অজুর সময়ে কথা বলা যাবে না বা কথা বললে কোনোরূপ অন্যায় হবে—এ মর্মে কোনো হাদিস নির্ভরযোগ্য বা গ্রহণযোগ্য সনদে বর্ণিত হয় নি। (হাদীসের নামে জালিয়াতি, পৃষ্ঠা ৪৭৬)
আব্দুল্লাহর পিতা আবু কাতাদা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ পানি পান করার সময় পানপাত্রে যেন নিঃশ্বাস না ফেলে। তোমাদের কেউ প্রস্রাব করার সময় যেন ডান হাতে লজ্জাস্থান স্পর্শ না করে এবং তোমাদের কেউ শৌচকার্য সম্পাদনের সময় যেন ডান হাত ব্যবহার না করে।”
রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা তাঁর সাহাবিগণ ইসতিনজার সময় পাথর বা কুলুখ ব্যবহার করতে গিয়ে কখনো উঠে দাঁড়ান নি, হাঁটাচলা, লাফালাফি, গলা খাঁকারি ইত্যাদি কিছুই করেন নি। পেশাব ও পায়খানা উভয় ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে বসা অবস্থাতেই পাথর বা পানি অথবা প্রথমে পাথর এবং পরে পানি ব্যবহার করে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করেছেন। (হাদীসের নামে জালিয়াতি, পৃষ্ঠা ৪৭৩)
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে তার গোড়ালি ধৌত করে নি। তখন তিনি বললেন, “ধ্বংস গোড়ালির সেইসব স্থানের জন্য (যেসব স্থান শুকনো রয়েছে)। সেগুলোর ঠিকানা জাহান্নাম।”
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে উঠবে তখন সে যেন তার হাত তিনবার না ধোয়া পর্যন্ত পাত্রে না ঢুকায়। কারণ সে জানে না যে, তার হাত রাতে কোথায় ছিল।”
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমার উম্মতের জন্য যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তবে তাদেরকে আমি (প্রত্যেক ওয়াক্তে) মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।”
হে আল্লাহ! এ পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত সলাতের মালিক, মুহাম্মাদ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অসিলা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে সেই মাকামে মাহমুদে পৌঁছে দিন, যার ওয়াদা আপনি করেছেন
তবে কিয়ামতের দিন সে আমার শাফায়াত লাভের অধিকারী হবে।”
অনেক ধার্মিক মুসলমান আজানের সময় ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’ বাক্যটি শুনলে দুই হাতের আঙ্গুলে চুমু খেয়ে তা দিয়ে চোখ মুছেন। এটি বানোয়াট। (হাদীসের নামে জালিয়াতি, পৃষ্ঠা ৪৭৯)
আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কাতারগুলি ঠিক করো, পরস্পরের নিকটবর্তী হও এবং কাঁধের সাথে কাঁধ মিলাও (স্পর্শ করাও)। যার হাতে আমার প্রাণ নিবদ্ধ তার কসম, আমি অবশ্যই শয়তানকে কাতারের ফাঁকে এমনভাবে ঢুকতে দেখি যেমন ঢোকে ছোট ছাগল।”
সহিহ আল-বুখারি ৭২৫-এর বর্ণনা থেকে: আনাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (নামাজের কাতারে) আমাদের প্রত্যেকই তার পাশের ব্যক্তির কাঁধের সাথে কাঁধ এবং পায়ের সাথে পা মেলাতেন।
আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন রাতের খাবার উপস্থিত হয় এবং সালাতের ইকামাতও দেওয়া হয় তখন প্রথমে খাবার খেয়ে নিবে।”
আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “খাবার হাজির হলে কোনো সালাত আদায় করবে না এবং পায়খানা-পেশাবের বেগ নিয়ে সালাত আদায় করবে না।” (সহিহ মুসলিম ৫৬০/৬৭)
আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নামাজের মধ্যে কোনো ব্যক্তির এদিক-ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন, “এটা একটি ছোবল যা শয়তান বান্দার নামাজ থেকে ছোবল মেরে নিয়ে যায়।”
রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নামাজের মধ্যে আকাশের দিকে দৃষ্টি দেওয়া থেকে লোকদেরকে বিরত থাকতে হবে, অন্যথায় তাদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেয়া হবে।” (সুনান আবু দাউদ ৯১৩)
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সালাতের জন্য ইকামাত দেওয়া হলে তোমরা দৌড়াদৌড়ি বা তাড়াহুড়া করে সালাতে এসো না। বরং প্রশান্তি সহকারে সালাতে শরিক হও। এরপর ইমামের সাথে যতটুকু সালাত পাও তা পড়ে নাও। আর যতটুকু পাবে না তা পূরণ করে নাও। কেননা যখন কেউ সালাত আদায়ের সংকল্প করে তখন সে সালাতে রত বলে গণ্য করা হয়।”
নামাজের নিয়ত হলো অন্তরের সংকল্প (দিলের ইরাদা)। ‘জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণ করিয়া নিয়ত করা’ হযরত নবিয়ে করিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে সাব্যস্ত হয় নাই।‘সহীহ’ কিংবা ‘যয়ীফ’ কোনো প্রকারের রেওয়ায়েত-ই এ বিষয়ে নাই। কোনো সাহাবি বা কোনো তাবেয়ি হইতেও বর্ণিত নাই। বরঞ্চ বর্ণিত আছে যে, যখন ইকামত বলা হইত, তখন তাহারা তাকবীরে তাহরীমা বলতেন। কাজেই জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণ করে নিয়ত করা বিদআত। (এহ্ইয়াউস সুনান, পৃষ্ঠা ১৬০–১৬১)
কেউ জামাআতে শামিল হতে এসে ইমামকে সিজদারত অবস্থায় পেলে অপেক্ষা না করে তাকবিরে তাহরিমা বলে সাথে সাথেই সিজদায় যাবে। অর্থাৎ ইমামকে যে অবস্থায় পাবে সে অবস্থায় শামিল হবে। (সুনান আবু দাউদ ৮৯৩)
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শিক্ষা দিয়ে বলতেন, “তোমরা ইমামের আগে আগে কোনো কাজ করিও না। সে যখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলে, তখন তোমরাও ‘আল্লাহু আকবার’ বলো। সে যখন ‘ওয়ালায্যল্লিন’ বলে, তোমরা তখন ‘আমিন’ বলো। সে যখন রুকুতে যায়, তোমরাও তখন রুকুতে যাও। সে যখন ‘সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে, তোমরা তখন ‘আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ’ বলো।”
সাধারণভাবে ইমাম-মুয়াজ্জিনকে মসজিদের কর্মচারী মনে করা হয়। ইমাম দুই মিনিট দেরি করে আসলে মসজিদ কমিটি রাগ করে। আর মন্ত্রী-এমপি সাহেব কয়েক ঘণ্টা দেরি করে আসলেও রাগ করে না … মানসিকভাবে আমরা ইমামদেরকে চাকর মনে করি আর তাদেরকে মালিক মনে করি। অথচ আইনত তারা চাকর। তারা আমার ট্যাক্সের টাকার বেতন নিয়ে চলে। আর ইমাম হলো আমার নেতা। আল্লাহ তাকে নেতা বানিয়েছেন। এটা মানসিকতার অভাব। (জিজ্ঞাসা ও জবাব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০৪)
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ইমাম যখন ‘আমিন’ বলেন তখন তোমরাও ‘আমিন’ বলো। কেননা নিশ্চয় যার ‘আমিন’ এবং ফেরেশতাদের ‘আমিন’ এক হয় (মিলে যায়) তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।” (বর্ণনাকারী) ইবনে শিহাব ﵀রহিমাহুল্লাহ বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও “আমিন” বলতেন।
সালাতের ভেতরে আস্তে আস্তে তিলাওয়াতের নিয়ম: আস্তে আস্তে তিলাওয়াতের সর্বনিম্ন পর্যায় হলো, পরিপূর্ণ মাখরাজ উচ্চারণ করে পড়তে হবে যাতে যিনি পড়ছেন তিনি নিজ কানে শুনতে পান। এর কম হলে এটা পড়া হবে না (মনে মনে ধ্যান করা হবে)। (জিজ্ঞাসা ও জবাব, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৩)
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আমাকে সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এ সময় চুল ও পরনের কাপড় গুটাবে না। অঙ্গগুলো হচ্ছে: কপাল ও নাক, উভয় হাত, উভয় হাঁটু এবং উভয় পায়ের পাতা।”
রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সিজদা দেয়ার সময় কেউ যেন তার বাহুদ্বয় কুকুরের মতো বিছিয়ে না দেয়। উভয় হাতের কনুইকে যেন মেঝে থেকে উঁচুতে রাখে।” রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার সময় উভয় বাহু পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক রাখতেন তখন তার বগলের শুভ্রতা দেখা যেতো। (সহিহ মুসলিম৪৯৩/২৩৩, ৪৯৪/২৩৪ এবং ৪৯৫/২৩৬)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, তিনি যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন উভয় হাত কাঁধ বরাবর ওঠাতেন এবং যখন তিনি রুকুর জন্য তাকবির বলতেন তখনও এ রকম করতেন। আবার যখন রুকু থেকে মাথা ওঠাতেন তখনও এ রকম করতেন এবং “সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলতেন। তবে সিজদার সময় এ রকম করতেন না।
আলকামা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি কি তোমাদেরকে সাথে নিয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামাজ পড়বো? অতঃপর তিনি নামাজ পড়লেন, কিন্তু তাকবিরে উলা ব্যতীত দুই হাত ওঠালেন না।
আবু কাতাদা সালামি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন বসার পূর্বে দুই রাকাত সালাত আদায় করে নেয়।”
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি ইচ্ছা করেছিলাম যে, (কাউকে ইমাম করে) সালাত আদায় করার আদেশ করবো। সালাতে দাঁড়ানোর পর যে লোকেরা সালাতে (জামাআতে) শামিল হয় না, আমি তাদের বাড়ি গিয়ে তা জ্বালিয়ে দেবো।”
জামাআত শেষে সুন্নাত সালাত মসজিদে আদায় করলে ফরজের স্থান থেকে সরে যাওয়া সুন্নাত। সালাম ফেরানোর পর ইমাম মসজিদে সুন্নাত পড়লে স্বস্থান থেকে উঠে অন্য স্থানে পড়বেন। (রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৪৩০)
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সবচাইতে নিকৃষ্ট চোর হচ্ছে ঐ লোক যে তার নামাজে চুরি করে।” (কেউ) জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! নামাজে কিভাবে চুরি করে? তিনি বললেন, “(নামাজে চুরি হলো) নামাজে রুকু এবং সিজদা ঠিকমত না করা।”
হাদিসে জিবরাইলের বর্ণনা থেকে জানা যায়: রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তাহলে তিনি তোমাকে দেখছেন (তা অনুভব করবে)।” (সহিহ আল-বুখারি ৫০)
রুকু-সিজদা করার নিয়ম: রুকু থেকে উঠে পরিপূর্ণ সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে এবং কয়েক মুহূর্ত দাঁড়ানোর পর সিজদায় যাবে। প্রথম সিজদা থেকে উঠে স্থির হয়ে বসতে হবে এবং কয়েক মুহূর্ত বসার পর দ্বিতীয় সিজদায় যাবে।
রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যতক্ষণ রুকু এবং সিজদায় থাকতেন, রুকু থেকে দাঁড়িয়ে ও দুই সিজদার মাঝে বসে প্রায় ততো সময় কাটাতেন।১ রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে মুসল্লি পুরোপুরি শান্তভাবে রুকু সিজদা আদায় করে না, তার সালাতের দিকে আল্লাহ তাকান না।”২(রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৩৭৯–৩৮০)
রুকু থেকে উঠে দাঁড়িয়ে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ পড়ার অভ্যাস করলে কিছু সময় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার ওয়াজিবটা আদায় হয়ে যায়।
আবার প্রথম সিজদা থেকে উঠে اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَاجْبُرْنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي وَارْفَعْنِي পড়ার অভ্যাস করলে দু’সিজদার মাঝখানে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসার ওয়াজিবটুকু আদায় হয়ে যায়।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: কোনো ব্যক্তিকে আমরা ফজর ও ইশার নামাজে (জামাআতে) না পেলে তার সম্পর্কে খারাপ ধারণা করতাম।
রাফি ইবনে খাদিজ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমরা নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আসরের নামাজ পড়তাম, অতঃপর উট জবেহ করা হত এবং তা কেটে দশ ভাগে ভাগ করা হত। অতঃপর রান্না করা হত এবং আমরা রান্না করা গোশত খেতাম সূর্য ডুবার পূর্বে।
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন ইমামতি করবে, তখন যেন সে স্বল্প কিরাত করে। কেননা জামাআতে দুর্বল, অসুস্থ ও বৃদ্ধ লোক থাকে। কিন্তু তোমরা কেউ একাকী নামাজ আদায় করলে যতটা ইচ্ছা কিরাত দীর্ঘ করতে পার।”
রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।”৩(মা’আরেফুল কোরআন, আয়াতুল কুরসির ব্যাখ্যা)
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মানুষ যদি আজান ও প্রথম কাতারের মর্যাদা জানত আর লটারি করা ছাড়া তা পাওয়ার সুযোগ না থাকলে লটারি করেই তা পেতে চাইত। জোহর নামাজে যাওয়ার কত মর্যাদা তা যদি জানত তাহলে দৌড়িয়ে দৌড়িয়ে যেত। আর ইশা ও ফজরের জামাআতে শামিল হওয়ার মর্যাদা যদি জানত তা হলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে হাজির হত।”
রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইশার জামাআতে শামিল হলো সে অর্ধ রাত পর্যন্ত নামাজ পড়ার সওয়াব পেল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজও জামাআতের সাথে পড়ল সে সারারাত ধরে নামাজ পড়ার সওয়াব পেল।” (সহিহ মুসলিম ৬৫৬/২৬০)
রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “বিতর প্রত্যেক মুসলিমের উপর হক (দায়িত্ব), কাজেই যে পাঁচ রাকআত বিতর আদায় করতে ভালোবাসে, সে যেন তাই করে; যে তিন রাকআত বিতর আদায় করতে ভালোবাসে সে যেন তাই করে এবং যে এক রাকআত বিতর আদায় করতে ভালোবাসে, সে যেন তাই করে।”৪(সালাত, দু’আ ও যিকর, পৃষ্ঠা ১৫২)
আব্দুল্লাহ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহরের নামাজ পাঁচ রাকাত পড়লে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, নামাজ কি বর্ধিত করা হয়েছে? তিনি বললেন, “তা আবার কেমন?” সবাই বলল: আপনি তো পাঁচ রাকাত পড়েছেন। তিনি সালাম ফেরানোর পর দুটি সাহু সিজদা করলেন (এবং সালাম ফিরে নামাজ শেষ করলেন)।
সুনান আবু দাউদ ১০১৮ থেকে: ইমরান ইবনে হুসাইন ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আসরের তিন রাকাত নামাজ পড়েই রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফেরালেন এবং হুজরাতে প্রবেশ করলেন। তখন খিরবাক নামে লম্বা হাতওয়ালা এক ব্যক্তি উঠে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! নামাজ কি সংক্ষিপ্ত করে দেওয়া হয়েছে? একথা শুনে রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্ত্রস্ত হয়ে চাদর টানতে টানতে বেরিয়ে এসে লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন: “সে কি সত্য বলেছে?” লোকজন বলল: হ্যাঁ। তখন তিনি অবশিষ্ট এক রাকাত নামাজ পড়ে সালাম ফেরালেন এবং দুটি সাহু সিজদা দেওয়ার পরে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করলেন।
খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (2002). হাদীসের নামে জালিয়াতি: প্রচলিত মিথ্যা হাদীস ও ভিত্তিহীন কথা. ৫ম সংস্করণ (২০১৭). ঢাকা, বাংলাদেশ: আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স.