রোগব্যাধিতে ঝাড়-ফুঁক

عَنْ جَابِرٍ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ فَإِذَا أُصِيبَ دَوَاءُ الدَّاءِ بَرَأَ بِإِذْنِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ

জাবির ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “প্রত্যেক রোগেরই ঔষধ বিদ্যমান। যদি কোনো রোগের সঠিক ঔষধ প্রয়োগ করা হয় তবে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আরােগ্য লাভ হয়।”

عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعَوِّذُ بَعْضَ أَهْلِهِ يَمْسَحُ بِيَدِهِ الْيُمْنَى وَيَقُولُ اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا

আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সুরা আল-ফালাক ও আন-নাস পড়ে) তার কোনো কোনো স্ত্রীর ব্যথার স্থানে ডান হাত বুলিয়ে দিতেন এবং বলতেন (অর্থাৎ এ দোয়া পড়তেন),

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا

আল্লাহুম্মা রাব্বান্নাস আজহিবিল বাস আশফিহি ওয়া আনতাশ্ শাফি লা-শিফায়া ইল্লা শিফাউকা শিফায়াল্ লা-ইয়ুগাদিরু সাকামান

হে আল্লাহ! মানুষের রব, ব্যথা দূর করে দাও, তাকে আরোগ্য দান করো। তুমিই আরোগ্য দানকারী। তোমার দেওয়া আরোগ্য ভিন্ন আর কোনো আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দান করো যা কোনো রোগকেই বাদ দেয় না।

সহিহ মুসলিম ২১৯২/৫১ হতে: আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লে মুওয়াওবিযাত (সুরা আল-ফালাক ও আন-নাস) পাঠ করে স্বশরীরে ঝাড়-ফুঁক করতেন। অতঃপর যখন তাঁর ব্যাধি কঠিন রূপ ধারণ করল তখন আমি তা পড়ে তাঁর হাত দ্বারা তাঁর দেহ মুছে দিতাম, ঐ হাতের বরকতের আশায়।

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ رَخَّصَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَهْلِ بَيْتٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فِي الرُّقْيَةِ مِنَ الْحُمَةِ

আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারিদের একটি গৃহের লোকদের বিষধর প্রাণীর বিষক্রিয়া থেকে (রোগমুক্তির জন্য) ঝাড়-ফুঁক করার ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন।

সহিহ আল-বুখারি ৫৭৩৬ থেকে: আবু সাইদ খুদরি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু সাহাবি আরবের এক গোত্রের নিকট আসলেন। গোত্রের লোকেরা তাদের কোনো আতিথেয়তা করল না। তাঁরা সেখানে থাকতেই হঠাৎ সেই গোত্রের নেতাকে সর্প দংশন করল। তখন তারা এসে বলল: আপনাদের কাছে কি কোনো ঔষধ আছে? বা আপনাদের মাঝে ঝাড়-ফুঁককারী লোক আছেন কি? তাঁরা উত্তর দিলেন: হ্যাঁ। তবে তোমরা আমাদের কোনো আতিথেয়তা কর নি। কাজেই আমাদের জন্য কোনো পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট না করা পর্যন্ত আমরা তা করব না। ফলে তারা তাঁদের জন্য এক পাল বকরি পারিশ্রমিক দিতে রাজি হলো। তখন একজন সাহাবি উম্মুল কুরআন (সুরা ফাতিহা) পড়তে লাগলেন এবং মুখে থুতু জমা করে সে ব্যক্তির গায়ে ছিটিয়ে দিলেন। ফলে সে রোগমুক্ত হলো। এরপর তারা বকরিগুলো নিয়ে এসে বলল: আমরা নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করার পূর্বে এগুলো স্পর্শ করব না। এরপর তাঁরা এ বিষয়ে নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনে হেসে দিলেন এবং বললেন, “তোমরা কিভাবে জানলে যে এটি রোগ সারায়? ঠিক আছে বকরিগুলো নিয়ে যাও এবং তাতে আমার জন্যও এক ভাগ রেখে দিও।”

رُوَيْفِعَ بْنَ ثَابِتٍ يَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَا رُوَيْفِعُ لَعَلَّ الْحَيَاةَ سَتَطُولُ بِكَ بَعْدِي فَأَخْبِرِ النَّاسَ أَنَّهُ مَنْ عَقَدَ لِحْيَتَهُ أَوْ تَقَلَّدَ وَتَرًا أَوْ اسْتَنْجَى بِرَجِيعِ دَابَّةٍ أَوْ عَظْمٍ فَإِنَّ مُحَمَّدًا بَرِيءٌ مِنْهُ

রুওয়াইফি ইবনে সাবিত ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “হে রুওয়াইফি! হয়তো তুমি আমার পরেও জীবিত থাকবে। তুমি মানুষদেরকে জানাবে যে, যদি কোনো ব্যক্তি তার দাড়ি বক্র করে বা গিট দেয়, সুতা, রশি বা ধনুকের রশি লটকায় অথবা গোবর বা হাড় দিয়ে ইস্তেনজা করে তবে আমি মুহাম্মাদের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।”

উকবা ইবনে আমির আল জুহানি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদল মানুষ রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আগমন করেন। তিনি তাদের নয়জনের বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং একজনের বাইয়াত গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। তারা বলেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি নয়জনের বাইয়াত গ্রহণ করলেন কিন্তু একে পরিত্যাগ করলেন? তিনি বলেন, “এর দেহে একটি তাবিজ আছে।” তখন লোকটি তার হাত ঢুকিয়ে তাবিজটি ছিঁড়ে ফেলল। এরপর তিনি তার বাইয়াত গ্রহণ করেন। এবং বলেন, “যে তাবিজ ঝোলাল, সে শিরক করল।” (মুসনাদ আহমাদ ১৭৪২২)

দুআ পড়ে পানি, তেল, কালোজিরা, মধু বা অন্যকিছুতে ফুঁক দিয়ে সেগুলো ব্যবহার করার কোনো নমুনা আমরা হাদিসে পাই না। তবে কোনো কোনো সাহাবি থেকে এরূপ কর্ম বণিত। তাবেয়িগণের যুগেও তা বহুল প্রচলিত ছিল। এজন্য প্রসিদ্ধ মাজহাবের ফকিহগণসহ প্রায় সকল আলিম ও ফকিহ তা বৈধ বলেছেন। (রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৬১৮)

সামগ্রিক বিবেচনায় তাবিজ ব্যবহার র্বজন করা এবং শুধু ঝাড়-ফুঁক ও দুআর উপর নির্ভর করাই মুমিনের জন্য উত্তম ও নিরাপদ।

ঝাড়-ফুঁক বা দোয়ার অর্থ চিকিৎসা পরিত্যাগ নয়। যেহেতু চিকিৎসা গ্রহণ সুন্নাতের বিশেষ নির্দেশনা, সেহেতু চিকিৎসার পাশাপাশি দোয়া করতে হবে। দোয়ার মাধ্যমে সঠিক ঔষধ প্রয়োগের তাওফীক লাভ হতে পারে। (রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৬২৪)

বিষয়বস্তুতে যান

যোগাযোগ

মতামত, সংশোধনী বা যে কোনো পরামর্শ জানাতে এই ফর্মটি ব্যবহার করুন।