বিচারব্যবস্থা

عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْقُضَاةُ ثَلَاثَةٌ وَاحِدٌ فِي الْجَنَّةِ وَاثْنَانِ فِي النَّارِ فَأَمَّا الَّذِي فِي الْجَنَّةِ فَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَقَضَى بِهِ وَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَجَارَ فِي الْحُكْمِ فَهُوَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ قَضَى لِلنَّاسِ عَلَى جَهْلٍ فَهُوَ فِي النَّارِ

ইবনে বুরাইদা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “বিচারকগণ তিন ধরনের। এদের মধ্যে এক ধরনের বিচারক জান্নাতি এবং বাকি দুই ধরনের বিচারক জাহান্নামি। যে বিচারক সত্যকে জেনে সেই অনুযায়ী ফয়সালা করে সে জান্নাতি। আর যে বিচারক সত্যকে জেনেও সত্যের বিপরীতে ফয়সালা করে সে জাহান্নামি এবং যে বিচারক সত্যকে না জেনে ফয়সালা করে সেও জাহান্নামি হবে।”

“হে ইমানদারগণ! আল্লাহকে সাক্ষী রেখে ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী হয়ে যাও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে অথবা তোমাদের পিতা-মাতা বা আত্মীয়ের বিরুদ্ধে যায়। সে ধনী হোক বা গরীব হোক, আল্লাহ উভয়ের জন্য তোমাদের চেয়ে বেশি মঙ্গলকামী। কাজেই ন্যায়বিচার করার সময় প্রবৃত্তির অনুসরণ করিও না। যদি তোমরা প্যাঁচালো কথা বলো বা সত্যকে পাশ কাটিয়ে যাও, তবে মনে রাখো তোমরা যা কিছু করছো আল্লাহ তার সম্পূর্ণ খবর রাখছেন।” (সুরা আন-নিসা ৪:১৩৫)

عَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لاَ يَقْضِيَنَّ حَكَمٌ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَهُوَ غَضْبَانُ

আবু বাকরাহ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “কোনো বিচারক যেন রাগান্বিত অবস্থায় দুই জনের মধ্যে ফয়সালা না করে।”

আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাদকারী (বাদী-আসামী) দুই ব্যক্তিকে বিচারকের সামনে বসতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সুনান আবু দাউদ ৩৫৮৮)

وَالصُّلْحُ خَيْرٌ (সমঝোতা করা অতি উত্তম; সুরা আন-নিসা ৪:১২৮) বাক্যটি ব্যাপক অর্থবোধক হওয়ার কারণে এর আওতায় স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্য, পারিবারিক ঝগড়া-বিবাদ তথা দুনিয়ার যাবতীয় দ্বন্দ্ব-বিরোধ-ই এসে গেছে। অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে (উভয় পক্ষের জন্য সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে হলেও) আপোষ ও সমঝোতার পন্থা-ই সর্বোত্তম। (মা’আরেফুল কোরআন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৪২)

عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ دَعَا إِلَى عَصَبِيَّةٍ وَلَيْسَ مِنَّا مَنْ قَاتَلَ عَلَى عَصَبِيَّةٍ وَلَيْسَ مِنَّا مَنْ مَاتَ عَلَى عَصَبِيَّةٍ

জুবাইর ইবনে মুতইম ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সে লোক আমার উম্মতের মধ্যে নয়, যে মানুষকে পক্ষপাতের দিকে ডাকে। সে লোক আমার উম্মতের মধ্যে নয়, যে পক্ষপাতিত্বের ভিত্তিতে লড়াই করে। আর সে লোক আমার উম্মতের মধ্যে নয় যে পক্ষপাতিত্ব করা অবস্থায় মারা যায়।”

রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, স্বগোত্রীয় লোককে ভালোবাসা কি পক্ষপাতিত্বের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন, “না বরং অন্যায়ের ক্ষেত্রে স্বগোত্রীয় লোককে সমর্থন করা হলো পক্ষপাতিত্ব করা।” (সুনান ইবনে মাজাহ ৩৯৪৯)

عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ وَإِنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إِلَيَّ وَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَنْ يَكُونَ أَلْحَنَ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ فَأَقْضِي عَلَى نَحْوِ مَا أَسْمَعُ فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ مِنْ حَقِّ أَخِيهِ شَيْئًا فَلاَ يَأْخُذْهُ فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنَ النَّارِ

উম্মে সালামা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি মানুষ ছাড়া কিছু নই। তোমরা আমার কাছে ঝগড়া-বিবাদ নিয়ে আসো। হয়ত তোমাদের একজন অন্যজন অপেক্ষা প্রমাণ হাজিরের ব্যাপারে অধিক বাকপটু। আর আমি যেমন শুনি, তার ভিত্তিতে বিচার করে থাকি। কাজেই আমি যদি কাউকে তার অন্য ভাইয়ের হক দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিই, তাহলে সে যেন তা গ্রহণ না করে। কেননা আমি তার জন্য যা নির্ধারিত করলাম তা তার জন্য এক টুকরা আগুন।”

عَنْ أَبِي بُرْدةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لاَ يُجْلَدُ فَوْقَ عَشْرِ جَلَدَاتٍ إِلَّا فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ

আবু বুরদাহ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, “আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি ছাড়া অন্য কোনো অপরাধে দশ দোররার বেশি দোররা মারা যাবে না।”

حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَنَّ يَهُودِيًّا رَضَّ رَأْسَ جَارِيَةٍ بَيْنَ حَجَرَيْنِ فَقِيلَ لَهَا مَنْ فَعَلَ بِكِ هَذَا أَفُلاَنٌ أَفُلاَنٌ حَتَّى سُمِّيَ الْيَهُودِيُّ فَأَوْمَأَتْ بِرَأْسِهَا فَجِيءَ بِالْيَهُودِيِّ فَاعْتَرَفَ فَأَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرُضَّ رَأْسُهُ بِالْحِجَارَةِ وَقَدْ قَالَ هَمَّامٌ بِحَجَرَيْنِ

আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। এক ইহুদি (অলংকারের লোভে) একটি বালিকার মাথা দুটি পাথরের মধ্যে রেখে চূর্ণ করে দিল। তখন তাকে (মুমূর্ষু বালিকাকে) জিজ্ঞেস করা হলো, কে তোমার সাথে এরূপ ব্যবহার করেছে? অমুক না অমুক? শেষে ঐ ইহুদির নাম উল্লেখ করা হলে সে তার মাথা দিয়ে (হাঁ সূচক) ইশারা করল। (বালিকাটি মৃত্যু বরণ করল) তখন ঐ ইহুদিকে আনা হলে সে স্বীকার করল। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে আদেশ করলেন। অতঃপর তার (ইহুদির) মাথা পাথর দিয়ে চূর্ণ করা হলো (মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো)।

হে ইমানদারেরা, হত্যার বদলা নেওয়া তোমাদের জন্য ফরজ করে দেওয়া হয়েছে। (সুরা আল-বাকারা ২:১৭৮)

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا نَزَلَ عُذْرِي قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَذَكَرَ ذَاكَ وَتَلَا تَعْنِي الْقُرْآنَ فَلَمَّا نَزَلَ مِنَ الْمِنْبَرِ أَمَرَ بِالرَّجُلَيْنِ وَالْمَرْأَةِ فَضُرِبُوا حَدَّهُمْ

আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: যখন আমার পবিত্রতার আয়াত নাজিল হলো, তখন নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে দাঁড়িয়ে তা ঘোষণা করলেন। যখন তিনি মিম্বার থেকে নামলেন তখন দুজন পুরুষ ও একজন মহিলার ব্যাপারে আদেশ দিলে তাদেরকে নির্দিষ্ট সংখ্যক বেত্রাঘাত করা হলো।

যারা পবিত্র মহিলাদের উপর ব্যভিচারের অপবাদ দেয়, অতঃপর চারজন সাক্ষী আনতে না পারে তাদের প্রত্যেককে আশিটি বেত মারো। (সুরা আন-নুর ২৪:৪)

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফহীমুল কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে, আয়াতে যদিও “যারা চরিত্রবতী, সতী নারীদের সম্পর্কে মিথ্যা দোষারোপ করে” বলা হয়েছে, কিন্তু ফিকাহবিদগণ এ সম্পর্কে একমত যে, এখানে কেবল স্ত্রীলোকদের উপর মিথ্যা দোষারোপ করার কথাই বলা হয় নাই, পাক চরিত্রের পুরুষদের উপর মিথ্যা দোষারোপ করলেও এ বিধান-ই কার্যকর হবে। অতএব আইনের রূপটি হবে এই: যে নারী বা পুরুষ-ই অপর কোনো পাক চরিত্রের নারী বা পুরুষের উপর মিথ্যা দোষারোপ করবে, তাকে এই শাস্তি দিতে হবে। (তাফহীমুল কুরআন, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১১৫)

عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ جُهَيْنَةَ أَتَتْ نَبِيَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ حُبْلَى مِنَ الزِّنَى فَقَالَتْ يَا نَبِيَّ اللهِ أَصَبْتُ حَدًّا فَأَقِمْهُ عَلَيَّ فَدَعَا نَبِيُّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلِيَّهَا فَقَالَ أَحْسِنْ إِلَيْهَا فَإِذَا وَضَعَتْ فَأْتِنِي بِهَا فَفَعَلَ فَأَمَرَ بِهَا نَبِيُّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَشُكَّتْ عَلَيْهَا ثِيَابُهَا ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَرُجِمَتْ ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهَا فَقَالَ لَهُ عُمَرُ تُصَلِّي عَلَيْهَا يَا نَبِيَّ اللهِ وَقَدْ زَنَتْ فَقَالَ لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ قُسِمَتْ بَيْنَ سَبْعِينَ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ لَوَسِعَتْهُمْ وَهَلْ وَجَدْتَ تَوْبَةً أَفْضَلَ مِنْ أَنْ جَادَتْ بِنَفْسِهَا لِلَّهِ تَعَالَى

ইমরান ইবনে হুসাইন ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। জুহায়না গোত্রের এক মহিলা (আল্লাহর শাস্তির ভয় থেকে বাঁচার জন্য) আল্লাহর নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর নবি, আমি ”হাদ্” (ব্যভিচারের শাস্তি)-এর উপযোগী হয়েছি। অতএব আমার উপর তা কার্যকর করুন। তখন আল্লাহর নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিভাবক ডাকালেন এবং বললেন: তাকে ভালোভাবে দেখাশোনা করো। অতঃপর সে যখন সন্তান প্রসব করবে তখন তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে। সে তাই করল। এরপর আল্লাহর নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি (শাস্তি প্রদানের) নির্দেশ দিলেন। তখন মহিলার কাপড় শক্ত করে বাঁধা হলো। এরপর তিনি শাস্তি কার্যকর করার আদেশ দিলেন। তাকে রজম করা (মৃত্যুদণ্ড দেওয়া) হলো। অতঃপর তিনি তার জানাজা পড়লেন। তখন উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর নবি, আপনি তার জানাজা পড়লেন অথচ সে তো ব্যভিচার করেছিল! তিনি বললেন, “নিশ্চয় সে এমনভাবে তওবা করেছে যদি তা মদিনার সত্তর জন লোকের মধ্যে বণ্টন করা হতো তবে তাদের জন্য তাই যথেষ্ট হতো। যে মহিলা আল্লাহর জন্য জীবন দিয়ে দিয়েছে, তুমি কি তার চেয়ে অধিক উত্তম তাওবাকারী কাউকে পেয়েছো?”

অবিবাহিত হলে জিনার শাস্তি একশ বেত্রাঘাত, বিবাহিত হলে রজম করে হত্যা করা। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি মাথা পেতে নেয়, আল্লাহ ও রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তার মর্যাদা বেড়ে যায়। তাকে তখন অপরাধী বলা যাবে না।

নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় একজন মহিলাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই মহিলাকে নির্ধারিত শাস্তি থেকে অব্যহতি দিলেন এবং ধর্ষণকারী লোকটির উপর শাস্তি প্রয়োগ করলেন। (জামি আত-তিরমিজি ১৪৫৪)

একজন নারী যাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, সে তার সমপর্যায়ের নারীদের মোহর পাবে, সে কুমারী বা পূর্বে বিবাহিত যা-ই হোক না কেন। (জীবন ও কর্ম: আলী ইবনে আবি তালিব, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৫৩)

عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ قُرَيْشًا أَهَمَّهُمْ شَأْنُ الْمَرْأَةِ الَّتِي سَرَقَتْ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ الْفَتْحِ فَقَالُوا مَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا وَمَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلَّا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ حِبُّ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُتِيَ بِهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَلَّمَهُ فِيهَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ فَتَلَوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللهِ فَقَالَ لَهُ أُسَامَةُ اسْتَغْفِرْ لِي يَا رَسُولَ اللهِ فَلَمَّا كَانَ الْعَشِيُّ قَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاخْتَطَبَ فَأَثْنَى عَلَى اللهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمِ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمِ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ وَإِنِّي وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا ثُمَّ أَمَرَ بِتِلْكَ الْمَرْأَةِ الَّتِي سَرَقَتْ فَقُطِعَتْ يَدُهَا

নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। কুরাইশরা এক মহিলার ব্যাপারে চিন্তিত হয়ে পড়ল। যে মহিলাটি নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়কালে মক্কা বিজয়ের সময় চুরি করেছিল। তখন তারা বলল: এ ব্যাপারে কে রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কথা বলবে? তখন তারা বলল: এ ব্যাপারে রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয়পাত্র উসামা ইবনে যায়েদ ব্যতীত আর কার হিম্মত থাকতে পারে? তিনি হলেন রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুবই প্রিয় পাত্র। অতঃপর উক্ত মহিলাকে নিয়ে উসামা ইবনে যায়েদ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তার ব্যাপারে কথা বললেন। এতে রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন, “তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হাদ্-এর ব্যাপারে সুপারিশ করতে চাও। তখন উসামা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমার জন্য (আল্লাহর নিকট) ক্ষমা প্রার্থনা করুন। যখন সন্ধ্যা হলো তখন রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দণ্ডায়মান হয়ে এক ভাষণ দিলেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করলেন। অতঃপর বললেন, “তোমাদের পূববর্তী উম্মাতগণকে ধ্বংস করা হয়েছে এজন্য যে, যখন তাদের মধ্যে কোনো সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন তাদের মধ্যে কোনো দুর্বল লোক চুরি করত, তখন তার উপর হাদ প্রয়োগ করত। সেই মহান আল্লাহর কসম! যার হাতে আমার জীবন। যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে অবশ্যই আমি তার হাত কেটে দিতাম।” এরপর যে মহিলা চুরি করেছিল, তিনি তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। সুতরাং তার হাত কেটে দেওয়া হল।

সহিহ মুসলিমের অতিরিক্ত বর্ণনায় আছে, অতঃপর সেই মহিলা খাঁটিভাবে তাওবা করল এবং এরপর তার বিয়ে হলো। আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: এ ঘটনার পর ঐ মহিলা প্রায়ই আমার কাছে আসত। তার কোনো প্রয়োজন থাকলে আমি তা রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তুলে ধরতাম।

“চোর পুরুষ হোক আর নারী হোক উভয়েরই হাত কেটে দাও। এটা তাদের কর্মফল এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।” (সুরা আল-মায়েদা ৫:৩৮)

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَرَبَ فِي الْخَمْرِ بِالْجَرِيدِ وَالنِّعَالِ وَجَلَدَ أَبُو بَكْرٍ أَرْبَعِينَ

আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদপানের জন্য লাঠি ও জুতো দ্বারা প্রহার করতেন। এবং আবু বকর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু চল্লিশ বেত মারতেন।

আল্লাহ বলেন, “তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার সময় ইমানদারদের একটি দল যেন সেখানে উপস্থিত থাকে।” (সুরা আন-নুর ২৪:২)

এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সব ধরনের শাস্তি জনসমক্ষে কার্যকর করতে হবে। যেন জনগণ এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ادْرَءُوا الْحُدُودَ عَنِ الْمُسْلِمِينَ مَا اسْتَطَعْتُمْ فَإِنْ كَانَ لَهُ مَخْرَجٌ فَخَلُّوا سَبِيلَهُ فَإِنَّ الْإِمَامَ أَنْ يُخْطِئَ فِي الْعَفْوِ خَيْرٌ مِنْ أَنْ يُخْطِئَ فِي الْعُقُوبَةِ

আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যথাসাধ্য মুসলিমদেরকে হদ্দের আওতাভুক্ত শাস্তির দণ্ড থেকে রেহাই দেওয়ার চেষ্টা করো। যদি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার সামান্য সুযোগও থাকে তবে তার পথ ছেড়ে দাও। কারণ শাসকের ভুল করে মাফ করা, ভুল করে শাস্তি দেওয়ার চেয়ে উত্তম।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِقَامَةُ حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ مَطَرِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً فِي بِلَادِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তিগুলোর একটি কায়েম করা মহান আল্লাহর নগরসমূহে চল্লিশ রাত বৃষ্টিপাতের চেয়েও উত্তম।

প্রচণ্ড খরা এলাকায় বৃষ্টিপাত হলে জমিন ফুলে-ফলে সুশোভিত হয়ে যায়। এ হাদিসে বৃষ্টিপাত অর্থ আল্লাহর রহমত বুঝানো হয়েছে। তাই কোনো দেশে আল্লাহর দণ্ডবিধান কায়েম হলে দেশবাসী শান্তি ও নিরাপদে থাকবে। উপরে বর্ণিত অপরাধের শাস্তিগুলো জারি করা রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব। তিনি বিধানগুলো জারি করলে আল্লাহর কাছে বিরাট পুরস্কার পাবেন। দেশ যেন এরূপ রাষ্ট্রপ্রধানের কর্তৃত্বে আসে সে জন্য মুসলিম জনগণের চেষ্টা করা কর্তব্য।

বিষয়বস্তুতে যান

যোগাযোগ

মতামত, সংশোধনী বা যে কোনো পরামর্শ জানাতে এই ফর্মটি ব্যবহার করুন।