আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “ঐ ব্যক্তি প্রকৃত মিসকিন নয় যে দুই-এক লোকমা খাদ্যের জন্য দ্বারে দ্বারে ফেরে, বরং প্রকৃত মিসকিন সেই যে সচ্ছল নয় অথচ লজ্জায় চায় না বা লোকের কাছে ব্যাকুল হয়ে চায় না।”
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সর্বদা মানুষের কাছে চেয়ে বেড়ায়, সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠবে যে, তার মুখমণ্ডলে কোনো গোশত থাকবে না।”
জামি আত-তিরমিজি ২৩২৬ থেকে: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন অভাব কারো উপর আপতিত হয় তখন সে যদি তা জনসমক্ষে প্রকাশ করে, তবে তার এ অভাব দূর হবে না। আর যে ব্যক্তি তার অভাব আল্লাহর কাছে পেশ করে তাহলে আল্লাহ তাড়াতাড়ি হোক বা দেরিতে হোক তাকে রিজিক দান করবেন।”
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তার অন্তরের কাঠিন্য সম্পর্কে অভিযোগ করল। তিনি বললেন, “(অন্তরের কাঠিন্য দূর করতে চাইলে) এতিমের মাথায় হাত বুলাও এবং মিসকিনকে খেতে দাও।”
সাহল ইবনে সাদ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি এবং এতিমের লালন-পালনকারী জান্নাতে এরূপ থাকবো।” এ বলে তিনি (নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শাহাদাত ও মধ্যমা আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে দূরত্বটা দেখালেন।
আল্লাহ বলেন, “যারা এতিমের মাল অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা আগুন দ্বারা তাদের পেট ভর্তি করে এবং তারা অচিরেই জ্বলন্ত আগুনে জ্বলবে।” (সুরা আন-নিসা ৪:১০)
সাফওয়ান ইবনে সুলাইম ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু মারফু হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন, নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “বিধবা ও গরীব-মিসকিনদের সাহায্যে চেষ্টা-তদবিরকারী ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে রত অথবা যে ব্যক্তি (একাধারে) দিনভর রোজা রাখে এবং রাতভর (নামাজে) দাঁড়িয়ে কাটায়।”
আল্লাহ বলেন, “কিসে তোমাকে সাকার নামক জাহান্নামে ফেলেছে?” (উত্তরে তারা বলবে,) আমরা নামাজ পড়তাম না এবং মিসকিনদের খাওয়াতাম না। (সুরা আল-মুদদাসসির ৭৪:৪২-৪৪)
মনে রাখতে হবে, ইসলামে সেবামূলক কাজের পুরস্কার বেশি, যেমন: এতিম-মিসকিনকে দান, রোগীর সেবা, জানাজায় যাওয়া, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরানো, অন্যের বোঝা ওঠাতে সাহায্য করা, অন্য কোনো কাজ করে দেওয়া বা সহযোগিতা করা ইত্যাদি।