যাকাত ও যাকাতুল ফিতর

قَالَ جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بَايَعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى إِقَامِ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ

জারির ইবনে আব্দুল্লাহ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সালাত কায়েম করা, যাকাত দেওয়া ও সকল মুসলমানের কল্যাণ কামনা করার উপর বায়াত করেছি।

সহিহ আল-বুখারি ১৪৯৬-এ যাকাত দানের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করা হয়েছে। এ হাদিস থেকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ (ইবনে জাবাল) ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় বললেন, “তুমি সেখানকার অধিবাসীদেরকে কালেমা ও নামাজের দিকে আহবান জানাবে। যদি তারা মেনে নেয় তবে তাদেরকে জানাবে যে, আল্লাহ তাদের উপর তাদের মালের মধ্যে যাকাত ফরজ করেছেন। যা ধনীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হবে।”

عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا خَالَطَتِ الصَّدَقَةُ مَالًا إِلَّا أَهْلَكَتْهُ

আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে সম্পদ থেকে যাকাত আদায় করা হয় না, সে সম্পদ যাকাতের সাথে মিশে পরিণামে ধ্বংস হয়।”

قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَاللَّهِ لَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلاَةِ وَالزَّكَاةِ فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا كَانُوا يُؤَدُّونَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهَا قَالَ عُمَرُ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ قَدْ شَرَحَ اللَّهُ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ

আবু বকর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আল্লাহর কসম! তাদের বিরুদ্ধে নিশ্চয় আমি যুদ্ধ করবো, যারা সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। কেননা যাকাত হলো সম্পদের উপর আরোপিত হক। আল্লাহর কসম! যদি তারা একটি মেষ শাবক যাকাত দিতেও অস্বীকৃতি জানায় যা আল্লাহর রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিতো, তাহলে যাকাত না দেয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আমি অবশ্যই যুদ্ধ করবো। উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আল্লাহর কসম! আল্লাহ আবু বকর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হৃদয়কে বিশেষ জ্ঞানালোকে উদ্ভাসিত করে দিয়েছেন বলে তাঁর এ দৃঢ়তা। এতে আমি বুঝতে পারলাম তাঁর সিদ্ধান্তই সঠিক।

রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন কিন্তু সে এর যাকাত দেয় নি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে টেকো মাথা বিশিষ্ট বিষধর সাপের আকৃতিতে তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। সাপটি তার দুই গালে কামড়াবে আর বলবে, আমি তোমার মাল, আমি তোমার জমাকৃত সম্পদ।” অতঃপর রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেলাওয়াত করেন, “যাদেরকে আল্লাহ অনুগ্রহ দান করেছেন, এরপরও তারা কৃপণতা করে, তারা যেন মনে না করে যে, এটা তাদের জন্য ভালো বরং তা তাদের জন্য খুবই খারাপ। কৃপণতা করে তারা যা কিছু সঞ্চয় করেছে কিয়ামতের দিন সেটাই তাদের গলার রশি হয়ে দাঁড়াবে। (সুরা আলে ইমরান ৩:১৮০)” (সহিহ আল-বুখারি ১৪০৩)

عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ قَالَ اسْتَعْمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا مِنَ الْأَسْدِ عَلَى صَدَقَاتِ بَنِي سُلَيْمٍ يُدْعَى ابْنَ اللُّتْبِيَّةِ فَلَمَّا جَاءَ حَاسَبَهُ

আবু হুমাইদ সায়িদী ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আসাদ গোত্রের ইবনে লুতবিয়া নামক জনৈক ব্যক্তিকে রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু সুলাইম গোত্রের যাকাত আদায় করার কাজে নিয়োগ করেন, ঐ ব্যক্তি ফিরে আসলে তার নিকট থেকে নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিসাব নিলেন।

লোকজন যখন নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সদাকা নিয়ে আসতো তখন তিনি তাদের জন্য দোয়া করতেন, “হে আল্লাহ! অমুকের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।” (সহিহ আল-বুখারি ১৪৯৭)

عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِيمَا سَقَتِ السَّمَاءُ وَالْعُيُونُ أَوْ كَانَ عَثَرِيًّا الْعُشْرُ وَمَا سُقِيَ بِالنَّضْحِ نِصْفُ الْعُشْرِ

সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ  ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যেসব ভূমি বৃষ্টি বা ঝর্ণার পানিতে সিক্ত হয় অথবা জলাশয়ের ধারে হয়, সে ভূমির উৎপন্ন ফসলের উশর (দশ ভাগের এক ভাগ) আদায় করতে হবে। আর যেসব ভূমিতে পানি সেচ করতে হয় তাতে উশরের অর্ধাংশ (বিশ ভাগের এক ভাগ) আদায় করতে হবে।”

عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ عَلَى الْعَبْدِ وَالْحُرِّ وَالذَّكَرِ وَالْأُنْثَى وَالصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَأَمَرَ بِهَا أَنْ تُؤَدَّى قَبْلَ خُرُوجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلاَةِ

ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক গোলাম, আজাদ, পুরুষ, নারী, প্রাপ্তবয়স্ক, অপ্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের উপর সাদাকাতুল ফিতর হিসেবে খেজুর বা যব এক সা পরিমাণ আদায় করা ফরজ করেছেন। আর লোকজনকে ইদের সালাতে বের হবার পূর্বেই তা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।

রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন যা রোজা অবস্থায় কথা ও কাজের ত্রুটিগুলোকে পবিত্র করবে এবং মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করবে। ইদের সালাতের পূর্বে আদায় করলে তা যাকাতুল ফিতর হিসেবে গণ্য হবে। আর সালাতের পর আদায় করলে তা সাধারণ দান হিসেবে গণ্য হবে। (সুনান আবু দাউদ ১৬০৯)

বিষয়বস্তুতে যান

যোগাযোগ

মতামত, সংশোধনী বা যে কোনো পরামর্শ জানাতে এই ফর্মটি ব্যবহার করুন।