আবু সালামা বর্ণনা করেছেন, আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের কাছে (এ) হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কোনো বিধবা মহিলাকে তার মৌখিক অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কোনো কুমারীকেও তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।” লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল! তার অনুমতি কিভাবে নেব? তিনি উত্তরে বললেন, “তার চুপ থাকাই (তার অনুমতি)।”
আল্লাহ বলেন, “তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে একটা হলো তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাঁদের কাছে শান্তি লাভ কর আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়ামায়া দান করেছেন। নিশ্চয়ই এসবের মধ্যে তাদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে যারা চিন্তাভাবনা করে।” (সুরা আর-রুম ৩০:২১)
রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ কোনো মেয়ের নিকট বিবাহের প্রস্তাব দেয় তখন সে যেন মেয়েকে দেখে নেয় যা তাকে বিয়েতে উৎসাহিত করবে।” (সুনান আবু দাউদ ২০৮২)
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কাছে এমন কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে যার দীনদারী ও চরিত্র সম্পর্কে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তার সাথে বিয়ে দিয়ে দাও। যদি তা না করো তবে পৃথিবীতে ফিতনা-ফাসাদ এবং বিরাট বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।”
রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “বিবাহ আমার সুন্নাত। কাজেই যে ব্যক্তি আমার সু্ন্নাত অনুযায়ী কর্ম করবে না, সে আমার সাথে সম্পর্কিত নয়। তোমরা বিবাহ কর, কারণ আমি আমার উম্মতের বর্ধিত সংখ্যা দিয়ে অন্যান্য জাতির কাছে গৌরব প্রকাশ করব।”১(খুতবাতুল ইসলাম, পৃষ্ঠা ২৪৮)
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদেরকে বিয়ে করা হয়। তার সম্পদ, তার বংশ মর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দীনদারী। তুমি তার দীনদারীকে অগ্রাধিকার দাও। তোমার হাত ধুলি-মলিন হোক! (কেউ দীনদারীকে অগ্রাধিকার না দিলে)”
বিয়ের ব্যাপারে পাত্র-পাত্রীর দীনদারী এবং চরিত্রই মূল বিবেচ্য বিষয়। রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন, “তোমরা মেয়েদের কেবল তাদের রূপ-সৌন্দর্য দেখেই বিয়ে করো না। কেননা এরূপ সৌন্দর্যই অনেক সময় তাদের ধ্বংসের কারণ হতে পারে। তাদের ধন-মালের লোভে পড়েও বিয়ে করবে না কেননা এ ধন-মাল তাদের বিদ্রোহী ও অনমনীয় বানাতে পারে। বরং তাদের দীনদারীর গুণ দেখেই বিয়ে করবে। বস্তুত একজন দীনদারী কৃষ্ণাঙ্গ দাসীও কিন্তু অনেক ভালো।” (সুনান ইবনে মাজাহ ১৮৫৯)
উকবা ইবনে আমের ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সবার আগে তোমরা সেই শর্ত পূরণ করবে যার বিনিময়ে তোমরা স্ত্রীর যৌনাঙ্গ হালাল করে নিয়েছ।”
আনাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুর রহমান ইবনে আউফ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর গায়ে সুফরা (হলুদ রঙ)-এর চিহ্ন দেখতে পেয়ে বললেন, “এ কী?” আব্দুর রহমান ইবনে আউফ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমি এক মহিলাকে একটি খেজুরের আঁটি (বিচি) পরিমাণ স্বর্ণের বিনিময়ে বিয়ে করেছি। নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আল্লাহ তোমার এ বিয়েতে বরকত দান করুন। তুমি একটি ছাগলের দ্বারা হলেও ওয়ালিমার ব্যবস্থা করো।”
খেয়াল করুন! আব্দুর রহমান ইবনে আউফ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বিয়ে করেছেন অথচ নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানেন না। না জানানোর কারণে কিছু না বলে বরং বরের জন্য দোয়া করলেন এবং ওয়ালিমা করতে বললেন। বর্তমানে আমাদের সমাজের অবস্থা এই যে, আত্মীয় ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে বিয়ের খবর না দিলে নাখোশ হন। আমাদেরকে নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করতে হবে। বিয়ের খবর না জানালে, জানার পর অসন্তুষ্ট না হয়ে দম্পতির জন্য দোয়া করতে হবে। আর নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ের সংবাদ প্রচার করতে বলেছেন।
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: যে বিবাহ ভোজে শুধু ধনীদের দাওয়াত দেওয়া হয় এবং গরীবদের বাদ দেওয়া হয় তা সবচেয়ে নিকৃষ্ট খাদ্য। আর যে ব্যক্তি (বিবাহ ভোজের) দাওয়াত কবুল করে না, সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাফরমানি করে।
রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ خَيْرُ النِّكَاحِ أَيْسَرُهُ (সাদাসিধে সহজভাবে সম্পন্ন বিবাহই উত্তম)।” (সুনান আবু দাউদ ২১১৭)