যে সব ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা বৈধ

عَنْ أُمِّ كُلْثُومٍ بِنْتِ عُقْبَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَيْسَ الْكَذَّابُ الَّذِي يُصْلِحُ بَيْنَ النَّاسِ فَيَنْمِي خَيْرًا أَوْ يَقُولُ خَيْرًا

উম্মে কুলসুম বিনতে উকবা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, “সে ব্যক্তি প্রকৃত পক্ষে মিথ্যাবাদী নয়, যে ব্যক্তি (মীমাংসার মাধ্যমে) মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনে অসত্য কথা বলে। বরং সে ভালো কথা পৌঁছে দেয় বা ভালো কথা বলে।

“যাদেরকে কুফরির জন্য বাধ্য করা হয় এবং তাদের অন্তর ইমানের উপর দৃঢ় থাকে তাদের কোনো দোষ নেই।” (সুরা আন-নাহল ১৬:১০৬)

এ ছাড়া কাফিরদের অসহনীয় নির্যাতন থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য কুফরি কথা বলা বৈধ যদি অন্তর ইমানে পরিপূর্ণ থাকে। আম্মার (কাফির কর্তৃক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে) প্রাণের ভয়ে কুফরির মৌখিক স্বীকারোক্তি করলেও তাঁর অন্তর ইমানে অটল ছিল। শত্রুর কবল থেকে মুক্তি পেয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তিনি অত্যন্ত দুঃখের সাথে ঘটনা বর্ণনা করেন। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি যখন কুফরি কালাম বলেছিলে তখন তোমার অন্তরের অবস্থা কী ছিল?” তিনি আরজ করলেন: আমার অন্তর ইমানের উপর স্থির ও অটল ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আশ্বাস দেন যে, “তোমাকে এজন্য কোনো (পরকালে) শাস্তি ভোগ করতে হবে না।” রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ সিদ্ধান্তের সত্যায়নে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। (মা’আরেফুল কোরআন, সুরা আন-নাহলের ১০৬ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা)

কখনো মহৎ উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে যদি মিথ্যা বলতে হয় তাহলে মহৎ উদ্দেশ্যের কারণে এ মিথ্যা বৈধ হয়ে যায়, যেমন: ধরুন, কোনো হত্যাকারী যদি কাউকে হত্যা করার জন্য খুঁজে এবং এক ব্যক্তির কাছে তার অবস্থান বা ঠিকানা জানতে চায় তবে ঐ ব্যক্তি যদি মিথ্যা বলে হত্যার হাত থেকে তাকে বাঁচাতে পারে, তাহলে তার এই মিথ্যা বলা শুধু জায়েজই নয় বরং ওয়াজিব। পরস্পর দুজনের মধ্যে ঝগড়া মিটানোর উদ্দেশ্যে কোনো অসত্য কথা বললে তাও জায়েজ হওয়ার ফতওয়া আলেমরা দিয়েছেন। (হাদীসের আলোকে মানব জীবন, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৭২)

মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনের জন্য মিথ্যা কথা বলা জায়েজ, কিন্তু সম্পর্ক নষ্টকারী সত্য কথা বলা জায়েজ নয়। (সহীহ মাসনুন ওযীফা, পৃষ্ঠা ২৫)

বিষয়বস্তুতে যান

যোগাযোগ

মতামত, সংশোধনী বা যে কোনো পরামর্শ জানাতে এই ফর্মটি ব্যবহার করুন।