আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি চায় তার রিজক প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বর্ধিত হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখে।”
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহারের বদলে সদ্ব্যবহারকারীরা প্রকৃতপক্ষে সদাচারী নয়। বরং প্রকৃত সদাচারী ঐ ব্যক্তি, যখন আত্মীয়তা ছিন্ন করা হয়, তখন সে আবার তাতে জোড়া লাগায়।”
সালমান ইবনে আমের ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মিসকিনকে দান করলে শুধু দানের সওয়াব পাওয়া যাবে। আর গরীব আত্মীয়কে দান করলে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যাবে। দানের জন্য এক সওয়াব এবং আত্মীয়তার জন্য আর এক সওয়াব।”
আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জিবরাইল ﵇আলাইহিস সালাম প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করার জন্য আমাকে বার বার তাগিদ করতে থাকেন। এমনকি আমার ধারণা হলো, প্রতিবেশীকে ওয়ারিশ বানিয়ে দেওয়া হবে।”
আবু শুরাইহ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহর কসম! ঐ ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম! ঐ ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম! ঐ ব্যক্তি মুমিন নয়।” জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কে সেই ব্যক্তি? তখন তিনি বললেন, “যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদে থাকতে পারে না।”
ইবনে আব্বাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “যে লোক পেট পুরে খায় এবং তার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে সে লোক মুমিন নয়।”
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলমানগণ নিরাপদ থাকে সেই মুসলিম। আর প্রকৃত মুহাজির হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা ত্যাগ করে।”
জাবির ইবনে সামুরা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমরা যখন নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মজলিসে যেতাম তখন আমরা সবার পিছনে বসতাম।
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “এক মুসলিমের উপর অন্য মুসলিমের হক ছয়টি।” বলা হলো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সেগুলো কী কী? তিনি বললেন,
কারো সাথে সাক্ষাৎ হলে তাকে সালাম দিবে (দ্বিতীয় জন সালামের জবাব দিবে),
কেউ দাওয়াত দিলে তার দাওয়াত গ্রহণ করবে,
কেউ তোমার কাছে পরামর্শ চাইলে তাকে (ভালো) পরামর্শ দিবে,
কেউ হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললে তার জবাব দিবে (ইয়ারহামুকাল্লাহ বলবে),
কেউ অসুস্থ হলে তার দেখাশোনা করবে,
কেউ ইন্তেকাল করলে তার জানাজায় যাবে।
রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হাঁচি দিতেন তখন মুখের উপর নিজের হাত বা কাপড় রাখতেন এবং হাঁচির আওয়াজ নিম্নগামী করতেন। (জামি আত-তিরমিজি ২৭৪৫)
রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ হাই তোলে, সে যেন তার হাত নিয়ে মুখ চাপা দেয়। কারণ (খোলা মুখে) শয়তান প্রবেশ করে।” (সহিহ মুসলিম ২৯৯৫/৫৯)
আবু শুরাইল কাবি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ইমান রাখে, সে যেন অবশ্যই তার মেহমানের সম্মান করে। একদিন এবং একরাত পর্যন্ত তাকে উত্তম খাদ্য পরিবেশন করতে হবে। আর মেহমানদারী হলো তিনদিন, এর অতিরিক্ত হলে তা হবে সদাকা। মেজবানের কষ্ট হতে পারে এতটা বেশি সময় মেহমানের থাকা হালাল নয়।”
মেহমানের দোয়া মেজবানের জন্য: اَللَّهُمَّ أّطْعِمْ مَنْ أَطْعَمَنِىْ وَاسْقِ مَنْ سَقَانِىْ (হে আল্লাহ! আমাকে যে খাইয়েছে তাকে আপনি খাদ্য প্রদান করুন এবং আমাকে যে পান করিয়েছে তাকে আপনি পানীয় প্রদান করুন)।১(রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৫৮০)
খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (2017). রাহে বেলায়াত ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যিক্র ওযীফা. অনলাইন. সপ্তম সংস্করণ. ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ: আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স. ISBN 9789849005315. প্রাপ্ত থেকে: https://assunnahtrust.org/publication/product/rahe-belayat/