খুরাইম ইবনে ফাতিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে বিন্দুমাত্র খরচ করবে, তার জন্য সাতশত গুণ বেশি সওয়াব লিখে দেওয়া হবে।”
আলি ইবনে আবু তালিব, আবু দারদা, আবু হুরায়রা, আবু উমামা বাহেলি, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ ও ইমরান ইবনে হুসাইন ﵄রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সকলেই রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি বাড়িতে বসে থেকেই আল্লাহর পথে দান পাঠায় তার জন্য প্রত্যেক দিরহামে ৭০০ (সাতশত) দিরহামের সওয়াব হবে। আর যে ব্যক্তি নিজেই আল্লাহর পথে জিহাদ করে এবং সেজন্য দান করে, তার জন্য প্রত্যেক দিরহামে ৭,০০,০০০ (সাত লক্ষ) দিরহামের সওয়াব হবে।” অতঃপর তিনি তেলাওয়াত করলেন, “আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন।” (সুরা আল-বাকারা ২:২৬১)
জামি আত-তিরমিজি ৩৭০১ থেকে: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাবুক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তখন উসমান ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর জামার আস্তিনে পুরে এক হাজার দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) নিয়ে রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন এবং দিনারগুলো নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোলে ঢেলে দিলেন। (বর্ণনাকারী বলেন), আমি দেখলাম রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোলের মুদ্রাগুলো ওলট-পালট করছেন এবং বলতে লাগলেন, “আজকের পর উসমান যে আমলই করুক না কেন তা তার ক্ষতি করতে পারবে না।”
আবু উমামা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “উত্তম দান হলো- আল্লাহর পথে ছায়ার জন্য একটি তাবু দান করা, আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্য একজন খাদেম দেওয়া অথবা আল্লাহর পথে (মুজাহিদকে) উট দেওয়া।”
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে আদম সন্তান, খরচ করো, তোমার জন্য খরচ করা হবে।’ অর্থাৎ মহান আল্লাহ তার জন্য খরচ করবেন।”
উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: যখনই রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে দুটি দিরহাম জমা হতো তখনই তিনি তার একটি দিরহাম দিয়ে খাদ্য ক্রয় করতেন এবং অন্যটি তিনি দান করতেন (অর্থাৎ একটি সংসারের জন্য এবং অপরটি সমাজের জন্য ব্যয় করতেন)।১(মুসলমানী নেসাব, পৃষ্ঠা ১১২)
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি হালাল উপার্জন থেকে একটি খেজুরের মূল্য পরিমাণ দান করে আর আল্লাহ পবিত্র বস্তু ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না। তবে আল্লাহ তা তাঁর (কুদরতি) ডান হাতে গ্রহণ করেন। অতঃপর তাকে তার দানকারীর জন্য বৃদ্ধি করতে থাকেন, যেরূপ তোমাদের কেউ তার অশ্ব শাবককে লালন পালন করতে থাকে। অবশেষে এক সময় তা পাহাড় সমতুল্য হয়ে যায়।”
আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন কোনো নারী (স্বামীর সম্পদ) নষ্ট করার ইচ্ছা না রেখে স্বামীর ঘর থেকে কিছু দান করে তবে দান করার কারণে সে সওয়াব পাবে এবং তার স্বামীও অনুরূপ সওয়াব পাবে। আর খাজাঞ্চি বা খাদেমও অনুরূপ সওয়াব পাবে কিন্তু এতে কারো সওয়াবে ঘাটতি হবে না।”
সহিহ আল-বুখারি ৫৩৫১ থেকে: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “পরকালে সওয়াবের আশায় কোনো মুসলিম তার পরিবার পরিজনের জন্য যা খরচ করে তা সবই তার পক্ষে সদাকা (দান) হয়ে যায়।”
ইবনে আব্বাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দান করে আবার ফেরত নেওয়া ব্যক্তির তুলনা এমন কুকুরের সাথে হতে পারে, যে বমি করে তা আবার গলাধঃকরণ করে। এরূপ খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন আমাদের শোভা পায় না।”
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “একদা এক ব্যক্তি এক শুষ্ক প্রান্তর দিয়ে হাঁটছিল। ঐ সময় সে একখণ্ড মেঘ থেকে একটা আওয়াজ শুনতে পেলো ‘অমুকের বাগানে পানি বর্ষাও।’ ফলে মেঘ খণ্ডটি এক দিকে এগিয়ে গেল এবং এক প্রস্তরময় ভূমিতে পানি বর্ষণ করল। অতঃপর পানি ছোট ছোট নালা দিয়ে বড় নালার দিকে অগ্রসর হলো। এভাবে এই পানি পুরো বাগানটাকে বেষ্টন করে নিল। ঐ ব্যক্তি পানির পিছন পিছন যেতে থাকলো। এমন সময় সে দেখল এক ব্যক্তি তার বাগানে দাঁড়িয়ে আছে। সে তার বেলচা দিয়ে পানিকে এদিক ওদিক ছিটিয়ে দিচ্ছে। সে ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর বান্দা, তোমার নাম কী? সে উত্তরে ঐ নামই বলল যা সে মেঘ থেকে শুনতে পেয়েছিল। বাগানওয়ালা বলল: হে আল্লাহর বান্দা, কেন তুমি আমার নাম জানতে চাচ্ছ? সে বলল: যে মেঘ থেকে এই পানি বর্ষিত হয়েছে তাতে এক আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলাম। তা ছিল এই যে, ‘অমুকের বাগানে পানি বর্ষাও।’ তাতে তোমার নামই বলা হয়েছিল। তাই তুমি বাগানে এমন কী আমল করেছ (যে তোমার এ মর্যাদা)? বাগানওয়ালা বলল: যখন তুমি জানতে চাচ্ছ তাহলে বলি, শোনো, এ বাগানে যা কিছু (ফল-ফসল) উৎপন্ন হয়, তা আমিই দেখাশোনা করি। উৎপন্ন ফসলকে তিনভাগে ভাগ করে এক ভাগ দান করে দিই, আমি ও আমার পরিবারের খাওয়ার জন্য এক ভাগ রাখি আর এক ভাগ এ বাগানে লাগাই।”
ইবনে আব্বাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইদের দিন বের হলেন এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, এর আগে ও পরে কোনো সালাত আদায় করেন নি। এরপর তিনি বিলাল ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে সাথে নিয়ে মহিলাদের কাছে গেলেন। তাদের উপদেশ দিলেন এবং সদাকা করার নির্দেশ দিলেন। তখন মহিলাগণ কানের দুল ও হাতের কঙ্কণ ছুঁড়ে ফেলতে লাগলেন।
খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ([তারিখ নেই]). মুসলমানী নেসাব: আরাকানে ইসলাম ও ওযীফায়ে রাসূল (সা.). ঢাকা, বাংলাদেশ: আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স.