আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার আছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” এক ব্যক্তি বলল: নিশ্চয় কোনো কোনো লোক পছন্দ করে তার কাপড় সুন্দর হোক এবং তার জুতা জোড়া সুন্দর হোক। (এটা কি অহংকার?) তিনি বললেন, “আল্লাহ নিজে সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। অহংকার হলো সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।”
আল্লাহ বলেন, “পৃথিবীতে গর্ব ভরে চলাফেরা কোরো না। তুমি জমিনকে বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং পর্বতের ন্যায় উচ্চতা লাভ করতে পারবে না।” (সুরা বনি ইসরাইল ১৭:৩৭)
আল্লাহ কারুনকে অঢেল মাল-সম্পদ দিয়েছিলেন। তাকে বলা হলো, “আল্লাহ তোমাকে যে সম্পদ দিয়েছেন, তা দ্বারা (দান করার মাধ্যমে) পরকালের ঘর তৈরি করো। আর দুনিয়ায় তোমার অংশও ভুলিও না। সে জবাব দিল, এ সম্পদ আমি আমার জ্ঞানবলে পেয়েছি। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাকে তার প্রাসাদসহ জমিনে গর্ভে পুঁতে দিলেন।” (সুরা আল-কাসাস ২৮:৭৬-৮১) অহংকারের ফল আল্লাহ তাকে এ দুনিয়ায় দেখিয়ে দিয়েছেন এবং পরকালের শাস্তি তো রয়েছেই।
“আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টি করেন এরপর তিনি তোমাদের রুহ কবজ করেন। তোমাদের কেউ অকর্মণ্য বয়সে পৌঁছে যায় তখন তারা সবকিছু জানা সত্ত্বেও যেন কিছু জানে না। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বোচ্চ, সর্বশক্তিমান।” (সুরা আন-নাহল ১৬:৭০)
এখানে অত্যন্ত বয়োবৃদ্ধকে অকর্মণ্য বয়স বলা হয়েছে। যে বয়সে মানুষ দৈহিক ও মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। এ সময় মানুষ তার জীবনের জানাশোনা অনেক কিছু ভুলে যায়। তাকে কোনো কথা বললে একটু পরেই মনে হয় তাকে কিছু বলাই হয় নি। এ বাস্তবতা তুলে ধরে গাফেল মানুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, তারা যেন তাদের শক্তি ও সামর্থ্যের অহংকার না করে। (তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন)
জুনদাব ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এক ব্যক্তি বলল: আল্লাহর শপথ! অমুক ব্যক্তিকে আল্লাহ মাফ করবেন না। এতে মহান আল্লাহ বললেন: সে কে! যে আমার নামে শপথ করে বলে যে আমি অমুককে মাফ করবো না। (যাও) আমি তাকে মাফ করে দিলাম এবং তোমার (নেক) আমল নষ্ট করে দিলাম।”
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তিনি বর্ণনা করেন। নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ইজারের (লুঙ্গির) যে অংশ পায়ের টাখনুর নিচে থাকবে, সে অংশ জাহান্নামে যাবে।”
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ يَتَبَخْتَرُ يَمْشِي فِي بُرْدَيْهِ قَدْ أَعْجَبَتْهُ نَفْسُهُ فَخَسَفَ اللَّهُ بِهِ الأَرْضَ فَهُوَ يَتَجَلْجَلُ فِيهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
আবু হুরাইরা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জনৈক ব্যক্তি তার দুটি চাদর পরিধান করে অহংকারের সাথে চলাফেরা করছিলো। সে অতি আনন্দে মেতেছিলো। অকস্মাৎ আল্লাহ তাকে জমিনে ধসিয়ে দিলেন। কিয়ামত অবধি সে ধসতে থাকবে।”
সহিহ আল-বুখারি ৬০৬৯ থেকে: আবু হুরাইরা বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “আমার উম্মাতের সকলের গুনাহ মাফ হবে। তবে যে প্রকাশ্যে গুনাহ করে কিংবা গুনাহ করে প্রকাশ্যে বলে বেড়ায়, তার গুনাহ মাফ হবে না।” (এরূপ আচরণও অহংকার প্রদর্শন)
আবু মুসা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে অন্য লোকের প্রশংসা করতে শুনলেন। সে ঐ লোকের প্রশংসা করতে গিয়ে বাড়িয়ে বলছিল। তখন তিনি বললেন, “তোমরা তাকে ধ্বংস করলে অথবা তোমরা (রাবির সন্দেহ) লোকটির মেরুদণ্ড ভেঙে দিলে।”
আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত ঐ লোক যে কোনো বিরোধের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি অটল থাকে।”
সহিহ আল-বুখারি ৬০৫৪ থেকে: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয় সবচেয়ে খারাপ লোক সে-ই যার অশালীনতা থেকে বাঁচার জন্য মানুষ তার সংসর্গ পরিত্যাগ করে।”
মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী (2021). তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন. ১ম বাংলা সংস্করণ. ঢাকা, বাংলাদেশ: মাকতাবাতুল আশরাফ.