সালামের প্রসার

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا أَوَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা ইমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর পরস্পরকে না ভালোবাসলে (প্রকৃত) ইমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদেরকে এমন কাজ বলে দিবো না যা তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করবে? (আর তা হলো) তোমরা নিজেদের মধ্যে ব্যাপক সালামের প্রচলন করো।”

“যখন তোমাদের কোনো ব্যক্তি সালাম দিবে তখন তোমরা তাকে তার চেয়ে উত্তম পন্থায় সালাম দিবে অথবা (অন্তত) তার অনুরূপ বাক্যে জবাব দিবে।” (সুরা আন-নিসা ৪:৮৬)

মনে রাখতে হবে, মুসলমানের সালামের জবাব না দেওয়া অপরাধ। (তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন)

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ مَرَّ عَلَى صِبْيَانٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ وَقَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُهُ

আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি ছোটদের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে সালাম দিতেন এবং বলতেন, নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সালাম দিতেন।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْإِسْلاَمِ خَيْرٌ قَالَ تُطْعِمُ الطَّعَامَ وَتَقْرَأُ السَّلاَمَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করল, ইসলামে সবচেয়ে ভালো কাজ কী? তিনি জবাব দিলেন, “অভুক্তদের আহার করানো এবং চেনা-অচেনা নির্বিশেষে সবাইকে সালাম করা।”

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا انْتَهَى أَحَدُكُمْ إِلَى الْمَجْلِسِ فَلْيُسَلِّمْ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَقُومَ فَلْيُسَلِّمْ فَلَيْسَتِ الْأُولَى بِأَحَقَّ مِنَ الْآخِرَةِ

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ কোনো মজলিসে আসলে সালাম করা উচিত। তারপর যখন মজলিস থেকে উঠে যেতে চাইবে তখনও সালাম করা উচিত। কারণ প্রথম সালামটির তুলনায় শেষ সালামটির গুরুত্ব কম নয়।”

রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবিগণ যখন পরস্পর সাক্ষাত করতেন তখন মুসাফাহা করতেন (হাত মিলাতেন)। আর যখন সফর থেকে আগমন করতেন তখন মুআনাকা করতেন। (আল-মুজামুল আওসাত ৯৭) উভয়ের ডান ঘাড় ও বুক মিলিয়ে ঘাড়ের উপর দিয়ে হাত দিয়ে একবার জড়িয়ে ধরাই হলো মুআনাকা।

রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যদি দুজন মুসলিম সাক্ষাত করে পরস্পর হাত মিলান (মুসাফাহা করেন) তবে তাদের পৃথক হওয়ার আগেই তাদের গুনাহ ক্ষমা করা হয়।” (জামি আত-তিরমিজি ২৭২৭)

মূলত ‘সালাম ও মুসাফাহা’-ই হলো ইসলামি শিষ্টাচারের সুন্নাত নিয়ম। এ দুটি কাজের-ই সওয়াব, ফজিলত ও গুরুত্ব হাদিসে বলা হয়েছে এবং উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। হস্ত চুম্বন ও কোলাকুলির প্রচলনটি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবিগণের মধ্যে প্রচলন ছিল বলে জানা যায়, তবে এর ফজিলতে কিছু বর্ণিত হয় নি। (খুতবাতুল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৪৩৪–৪৩৫)

বিষয়বস্তুতে যান

যোগাযোগ

মতামত, সংশোধনী বা যে কোনো পরামর্শ জানাতে এই ফর্মটি ব্যবহার করুন।