আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জাহান্নামের যোগ্য দুনিয়ার সবচেয়ে সচ্ছল ও ধনী লোককে কিয়ামতের দিন আনা হবে এবং জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করিয়ে (বের করে) বলা হবে, হে আদম সন্তান, দুনিয়াতে তুমি কখনো আরাম-আয়েশে ছিলে? স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে দিন অতিবাহিত করেছো কি? সে বলবে, আল্লাহর কসম! না, হে আমার রব (আমি কখনো আরাম-আয়েশে ছিলাম না)। এরপর জান্নাতের যোগ্য দুনিয়ার সর্বাধিক অভাবগ্রস্ত লোককে আনা হবে এবং জান্নাতে একবার প্রবেশ করিয়ে (বের করে) বলা হবে, হে আদম সন্তান, দুনিয়াতে তুমি কি কখনো কষ্ট ভোগ করেছো? দুঃখ ও বেদনাদায়ক অবস্থায় দিন অতিবাহিত করেছো কি? সে বলবে, আল্লাহর কসম! না, হে আমার রব। আমি কখনো কষ্টে দিনাতিপাত করি নি এবং দুঃখ কখনো দেখি নি।
নু’মান (ইবনে বাশির) ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “জাহান্নামিদের মধ্যে সবচেয়ে সহজ আজাব কিয়ামতের দিন ঐ লোকের হবে যার দুই পায়ের তালুতে জ্বলন্ত অঙ্গার রাখা হবে, এর ফলে মাথার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে।”
আল্লাহ বলেন, “(জাহান্নামীদের জন্য) জখমের পুঁজ ছাড়া অন্য কোনো খাবার নেই। অপরাধী (জাহান্নামী) ছাড়া অন্য কেউ এ খাবার খাবে না।” (সুরা আল-হাক্কাহ ৬৯:৩৬-৩৭)
সামুরা ইবনে জুনদাব ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জাহান্নামের আগুন জাহান্নামীদের কারো গোড়ালী পর্যন্ত, কারো হাঁটু পর্যন্ত, কারো কোমর পর্যন্ত এবং কারো গলা পর্যন্ত পুড়াবে।” (অর্থাৎ প্রত্যেকেরই গুনাহ অনুযায়ী শাস্তি হবে।)
সহিহ আল-বুখারি ৩২৬৫ থেকে: আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের (এ দুনিয়ার) আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ।” জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, কেন, এ আগুনই কি যথেষ্ট ছিল না? তিনি (নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “দুনিয়ার আগুনের চাইতে জাহান্নামের আগুনকে (উত্তাপের দিক দিয়ে) উনসত্তর গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর প্রত্যেক গুণ পৃথকভাবে দুনিয়ার আগুনের সমান।”