আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! দুনিয়া শেষ হবে না যতক্ষণ না এক লোক কবরের কাছে গিয়ে সেটির উপর গড়াগড়ি করে বলবে, হায়! এ কবরবাসীর স্থলে যদি আমি হতাম। তার কাছে দীন থাকবে না, থাকবে শুধু বিপদাপদ।”
সহিহ মুসলিম ২৯০১/৩৯ থেকে: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা দশটি আলামত দেখবে। তারপর তিনি ধুম্র, দাজ্জাল, দাব্বা, পশ্চিম দিক হতে সূর্যোদয়, মারইয়াম পুত্র ইসা ﵇আলাইহিস সালাম-এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজ এবং তিনবার ভূখণ্ড ধ্বস-পূর্বদিকে ভূখণ্ড ধ্বস, পশ্চিমদিকে ভূখণ্ড ধ্বস এবং আরব উপদ্বীপে ভূখণ্ড ধ্বসের উল্লেখ করেন। এরপর ইয়ামান থেকে অগ্নি উত্থিত হবে যা মানুষদেরকে তাদের একত্রিত হওয়ার স্থানে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! মানুষের কাছে এমন এক সময় আসবে যখন হত্যাকারী জানবে না যে, কী দোষে সে হত্যা করলো এবং নিহত ব্যক্তিও জানবে না যে, সে কী দোষে নিহত হলো।”
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ সারা পৃথিবী তাঁর হাতের মুষ্টিতে নিয়ে নিবেন এবং আকাশমণ্ডলী ভাঁজ করে তাঁর ডান হাতের মুঠোয় নিবেন। তারপর তিনি বলবেন: আমিই বাদশাহ! পৃথিবীর বাদশাহরা কোথায়?”
আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতে লোকদের প্রবেশ সম্পর্কে আমিই হবো সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং এতো অধিক সংখ্যক মানুষ আমার প্রতি ইমান এনেছে, যা নবিদের মধ্যে অন্য কোনো নবির বেলায় হবে না। নবিদের মধ্যে এমন নবিও থাকবেন যার প্রতি মাত্র এক ব্যক্তিই ইমান এনেছে।”
সহিহ মুসলিম ২২৭৮/৩ থেকে: আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানদের সর্দার হবো। এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যার কবর খুলে যাবে এবং আমি প্রথম সুপারিশকারী। এবং আমিই প্রথম যার সুপারিশ গৃহীত হবে।
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন মানুষের ঘাম ঝরতে থাকবে। এমনকি তাদের ঘাম সত্তর হাত পরিমিত ভূমিতে ছড়িয়ে পড়বে এবং তাদের মুখ পর্যন্ত ঘামে ডুবে গিয়ে কান পর্যন্ত পৌঁছবে।”
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি, “আল্লাহ যখন কোনো গোত্রকে শাস্তি দেয়ার ইচ্ছা করেন তখন এ শাস্তি ঐ গোত্রে অবস্থিত প্রত্যেকের উপরই নিপতিত হয়। অতঃপর কিয়ামতের দিন (তাদের প্রত্যেককে) নিজ নিজ আমলের উপর পুনরুত্থিত করা হবে।”
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন আল্লাহ সাত শ্রেণির লোককে তাঁর (আরশের) ছায়ায় স্থান দেবেন, যেদিন তাঁর (আরশের) ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না: (১) ন্যায় বিচারক বাদশাহ। (২) সেই যু্বক যে তার যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছে। (৩) ঐ ব্যক্তি যার মন মসজিদের দিকে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত ব্যাকুল থাকে। (৪) ঐ দুই ব্যক্তি যারা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই একে অপরকে ভালোবাসে। তারা আল্লাহর জন্যই একত্রিত হয় আবার আল্লাহর জন্যই একজন অপর জন থেকে পৃথক হয়। (৫) ঐ ব্যক্তি যাকে একজন উচ্চ বংশীয় সুন্দরী যুবতী (কুকর্মে) আহ্বান করা সত্ত্বেও সে এ বলে তা প্রত্যাখ্যান করে যে, আমি আল্লাহকে ভয় করি। (৬) ঐ ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কী দান করেছে তার বাম হাত জানতে পারে না। (৭) ঐ ব্যক্তি যে একাকী নিভৃতে আল্লাহকে এমনভাবে স্মরণ করে যে, তার দুই চোখ থেকে অশ্রু নির্গত হয়।”
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “(মহান আল্লাহ) কিয়ামতের দিন অবশ্যই পাওনাদারের পাওনা আদায় করবেন, এমনকি শিং যুক্ত বকরী থেকে শিং বিহীন বকরীর প্রতিশোধ নেয়া হবে।”
আবু বারযা আসলামি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন (পাঁচটি প্রশ্নের) উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত কোনো বান্দা তার পা নড়াতে পারবে না: (১) সে তার জীবন কোন কাজে ব্যয় করেছে? (২) যে বিদ্যা অর্জন করেছে সে অনুযায়ী আমল করেছে কিনা? (৩) কোন পথে মাল অর্জন করেছে? (৪) এবং কিসে খরচ করেছে? (৫) দেহকে কোন কাজে লাগিয়েছে?”