ওয়াদা ও আমানত

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَدِّ الْأَمَانَةَ إِلَى مَنْ ائْتَمَنَكَ وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি তোমার কাছে আমানত রেখেছে তার আমানত ফিরিয়ে দাও। তোমার সাথে কোনো ব্যক্তি বিশ্বাসঘাতকতা করলে তুমি কিন্তু তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা কোরো না।”

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ فِي الْخُطْبَةِ لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ وَلَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُ

আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে বক্তৃতা দিলেন। বক্তৃতায় তিনি বললেন, “যে ব্যক্তির আমানতদারী নাই, তার ইমান নাই। আর যে ব্যক্তি চুক্তি (প্রতিশ্রুতি) রক্ষা করে না, তার দীন নাই।”

সকল সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষক, ডাক্তার সবাই নিজ নিজ কর্মচুক্তি অনুসারে পূর্ণ কর্ম প্রদান করতে ইসলামি শরিয়ত মতে বাধ্য। যিকর, ওয়াজ, দাওয়াত, দ্বিন প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি অজুহাতে কর্মে অবহেলা করে উপার্জিত বেতন হারাম। চিকিৎসা ছুটি নিয়ে হজ, উমরা করাও হারাম উপার্জনের মধ্যে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা ইত্যাদির শিক্ষকগণ, ডাক্তারগণ নির্ধারিত সময় চাকুরিস্থলে অবস্থান করতে ও নির্ধারিত সেবা প্রদান করতে বাধ্য। চাকুরিরত অবস্থায় দায়িত্বে অবহেলা, কম পড়ানো, কম চিকিৎসা করা, ছাত্র ও রোগীকে অতিরিক্ত সেবা গ্রহণের জন্য নিজস্ব কোচিং বা ক্লিনিকে যেতে উৎসাহিত করা সবই হারাম এবং এভাবে উপার্জিত অর্থ হারাম। (রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ১২৮–১২৯)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاَثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মুনাফিকের আলামত তিনটি: (১) যখন সে কথা বলে, মিথ্যা বলে; (২) যখন সে ওয়াদা করে, তা ভঙ্গ করে; আর (৩) যখন তার কাছে আমানত রাখা হয়, সে তাতে খিয়ানত করে।”

সহিহ আল-বুখারি ২৪৫৯-এর বর্ণনায় মুনাফিকের আরো একটি আলামত উল্লেখিত হয়েছে, “যখন সে ঝগড়া করে অশ্লীল বাক্য ব্যবহার করে।”

عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يُنْصَبُ لغَدْرَتِهِ

ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “(কিয়ামতের দিন) ওয়াদা ভঙ্গের নিদর্শন হিসেবে প্রত্যেক ওয়াদা ভঙ্গকারীর জন্য একটি পতাকা স্থাপন করা হবে এবং তা দিয়ে তার পরিচয় দেওয়া হবে।”

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَيْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي رِجَالًا تُقْرَضُ شِفَاهُهُمْ بِمَقَارِضَ مِنْ نَارٍ فَقُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيلُ فَقَالَ الْخُطَبَاءُ مِنْ أُمَّتِكَ يَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَيَنْسَوْنَ أَنْفُسَهُمْ وَهُمْ يَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلَا يَعْقِلُونَ

আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি মিরাজের রাতে দেখতে পেলাম কিছু লোকের দুইটি ঠোঁট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে। আমি জিবরাইল ﵇আলাইহিস সালাম-কে জিজ্ঞেস করলাম. এরা কারা? তিনি বললেন: এরা আপনার উম্মতের সেই সব বক্তা যারা অপরকে ন্যায় কাজের আদেশ (উপদেশ) দিতো কিন্তু নিজেরা করতো না। অথচ তারা কিতাব পড়ে, তারা কি বুঝে না!”

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا حَدَّثَ الرَّجُلُ بِالْحَدِيثِ ثُمَّ الْتَفَتَ فَهِيَ أَمَانَةٌ

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন কোনো ব্যক্তি তোমার সাথে কথা বলে আর এদিক-ওদিক ফিরে তাকায় (অর্থাৎ কথা গোপন রাখতে চায়), তবে তার কথা তোমার কাছে আমানত মনে করবে।”

বিষয়বস্তুতে যান

যোগাযোগ

মতামত, সংশোধনী বা যে কোনো পরামর্শ জানাতে এই ফর্মটি ব্যবহার করুন।