মৃত্যুর পর যে সব আমলের সওয়াব জারি থাকে

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মানুষ যখন মৃত্যু বরণ করে তখন তিনটি আমল ব্যতীত তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। (সেগুলো হলো) সদাকায়ে জারিয়া, এমন ইলম (দীনি জ্ঞান) যা হতে অন্যেরা উপকৃত হয় এবং নেক সন্তান যারা তার জন্য দোয়া করে।”

সদাকায়ে জারিয়া হচ্ছে এমন জনকল্যাণমূলক কাজ যা থেকে (কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পরও) জনসাধারণ উপকৃত হতে থাকে। মানুষ এ কাজ থেকে যতদিন উপকার পেতে থাকবে, ততদিন সে তার সওয়াব পেতে থাকবে।

কেউ কুরআনের তাফসির, হাদিস এবং কুরআন ও হাদিসের আলোকে বই লিখলে অথবা এসব বই পরিচিতজনের মাঝে বিক্রয় বা বিতরণের মাধ্যমে দীনি ইলমের প্রচার করলে মৃত্যুর পরও তিনি সওয়াব পেতে থাকবেন ইনশাআল্লাহ।

একজন দা’য়ী (আল্লাহর পথে দাওয়াত দানকারী) এক ব্যক্তিকে কুরআনের পাঠক বানালেন; কাউকে নামাজী বানালেন; কাউকে আল্লাহর পথে খরচকারী বানালেন। দা’য়ী মৃত্যুর পর এসবের সওয়াব পেতে থাকবেন।

“নিজের নামাজ-রোজা যেমন ফরজ তেমন ছেলে-মেয়েদের নামাজ-রোজা আদায় করানোও ফরজ। ছেলেমেয়েরা আজীবন যতো নামাজ, রোজা, তারাবি, কুরআন, জিকির, দান ও অন্যান্য ইবাদত করবে সকল ইবাদতের সমপরিমাণ সওয়াব পিতা-মাতা লাভ করবেন। পক্ষান্তরে পিতা-মাতার অবহেলার কারণে যদি ছেলে-মেয়েরা বেনামাজি বা বে-রোজাদার হয় তবে তাদের গোনাহের সমপরিমাণ গোনাহ তারা লাভ করবেন।” (সালাত, দু’আ ও যিকর, পৃষ্ঠা ১৭৮)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সঠিক পথের দিকে ডাকে তার জন্য এ পথের অনুসারীদের প্রতিদানের সমান প্রতিদান রয়েছে। এতে তাদের প্রতিদান সামান্যও কমবে না। আর যে ব্যক্তি ভ্রান্ত পথের দিকে ডাকে তবে উক্ত পথের অনুসারীদের গুনাহর সমান গুনাহ তার হবে। এতে তাদের গুনাহ সামান্যও কমবে না।”

“যে ভালো কাজে সুপারিশ করবে সে তা থেকে অংশ পাবে, আর যে খারাপ কাজের সুপারিশ করবে সেও তা থেকে অংশ পাবে।” (সুরা আন-নিসা ৪:৮৫)

عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنِّي أُبْدِعَ بِي فَاحْمِلْنِي فَقَالَ مَا عِنْدِي فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ أَنَا أَدُلُّهُ عَلَى مَنْ يَحْمِلُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ

আবু মাসউদ আনসারি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল: আমার বাহন অচল হয়ে গেছে। আপনি আমাকে একটি বাহন দিন। তিনি বললেন, “আমার কাছে তা নেই।” তখন অন্য এক ব্যক্তি বলল: ইয়া রাসুলুল্লাহ, আমি তাকে এমন এক ব্যক্তির সন্ধান দিচ্ছি, যে তাকে বাহন দিতে পারে। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি কাউকে কোনো ভালো কর্মের দিক-নির্দেশনা (সন্ধান) দিলো, তার জন্য কর্মটি পালনকারীর সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে।”

প্রকৃত অভাবীকে দানশীল ব্যক্তির খোঁজ বলে দেয়া, কারো কোনো প্রয়োজন পূরণের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তির সন্ধান দেয়া, দীনদার যোগ্য পাত্র-পাত্রীর সন্ধান দিয়ে সহযোগিতা করা- এরূপ আরো উপায় আছে যা দ্বারা ভালো কাজের সন্ধান দেয়া যায়।

عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا إِلَّا كَانَ مَا أُكِلَ مِنْهُ لَهُ صَدَقَةً وَمَا سُرِقَ مِنْهُ لَهُ صَدَقَةٌ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ مِنْهُ فَهُوَ لَهُ صَدَقَةٌ وَمَا أَكَلَتِ الطَّيْرُ فَهُوَ لَهُ صَدَقَةٌ وَلَا يَرْزَؤُهُ أَحَدٌ إِلَّا كَانَ لَهُ صَدَقَةٌ

জাবির ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কোনো মুসলিম বৃক্ষরোপণ করলে তা থেকে যা কিছু খাওয়া হয় তা তার জন্য দানস্বরূপ (সদাকা)। যা কিছু চুরি হয় তাও দানস্বরূপ। বন্য জন্তু যা খেয়ে নেয় তাও দানস্বরূপ। পাখি যা কিছু খেয়ে নেয় তাও দানস্বরূপ। আর কেউ কিছু নিয়ে গেলে তাও তার জন্য দানস্বরূপ।”

عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ كُلُّ مَيِّتٍ يُخْتَمُ عَلَى عَمَلِهِ إِلَّا الَّذِي مَاتَ مُرَابِطًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَإِنَّهُ يُنْمَى لَهُ عَمَلُهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَيَأْمَنُ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ

ফাজালা ইবনে উবাইদ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি (নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির আমল (মৃত্যুর পর) বন্ধ হয়ে যায়। তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দেয় তার আমল কিয়ামত পর্যন্ত বাড়তে থাকবে এবং কবরের শাস্তি থেকে সে নিরাপদ থাকবে।”

জামি আত-তিরমিজির অন্য একটি হাদিসে বলা হয়েছে, “আল্লাহর পথে একদিন পাহারা দেওয়া হাজার দিন অন্য নেকির কাজ করা থেকে উত্তম।”১ এখানে পাহারা অর্থ ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা বা ইকামাতে দীনের কাজে পাহারা বুঝানো হয়েছে।


  1. জামি আত-তিরমিজি ১৬৬৭↩︎

বিষয়বস্তুতে যান

যোগাযোগ

মতামত, সংশোধনী বা যে কোনো পরামর্শ জানাতে এই ফর্মটি ব্যবহার করুন।