আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোনো খাবারকে খারাপ বলেন নি। কোনো খাবার পছন্দ হলে খেয়েছেন আর অপছন্দ হলে পরিত্যাগ করেছেন।
জাবির ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কারো লোকমা পড়ে যায় সে যেন তা তুলে নেয় এবং তাতে লেগে যাওয়া ময়লা দূর করে খেয়ে নেয়, শয়তানের জন্য তা ছেড়ে না দেয়। আর তার আঙ্গুল চেটে না খাওয়া পর্যন্ত তার হাত যেন রুমাল দিয়ে না মুছে। কারণ, সে জানে না তার খাবারের কোন অংশে বরকত রয়েছে।”
সহিহ মুসলিম ২০৩৩/১৩৩ থেকে: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙুল ও প্লেট চেটে খেতে নির্দেশ দিয়েছেন।
খাবারের লোকমা পড়ে গেলে যদি তুলে পরিষ্কার করে না খায় অর্থাৎ রেখে দেয় তাহলে তা শয়তানের জন্য রেখে দেওয়া হয়। বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কেউ কেউ প্লেটে বেশি করে খাবার নিয়ে সম্পূর্ণ খেতে পারে না ফলে প্লেটে কিছু খাবার রয়ে যায় যা ফেলে দেওয়া হয়। এসবই শয়তানের জন্য রেখে দেয়া। এটা আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতাও বটে।
আয়িশা ﵂রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। কিছু লোক বলল: হে আল্লাহর রাসুল! কিছু লোক আমাদের কাছে গোশত নিয়ে আসে, কিন্তু আমরা জানি না তারা বিসমিল্লাহ পড়ে জবেহ করেছিল কিনা? তখন রাসুল ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা এর উপর আল্লাহর নাম লও এবং তা খাও।”
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দুইজনের খাবার তিনজনের জন্য যথেষ্ট এবং তিনজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট।”
রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতি ভোজনের নিন্দা করে বলেন, “আদম সন্তান তার নিজের পেটের চেয়ে নিকৃষ্টতর কোনো পাত্র পূর্ণ করে নি।” দেহকে সুস্থ-সবল কর্মক্ষম রাখতে যতটুকু খাদ্য প্রয়োজন ততটুকুই একজন মানুষের জন্য যথেষ্ট। যদি কোনো মানুষের খাদ্যস্পৃহা প্রবল হয় তবে সে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাদ্যের জন্য এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে।১(খুতবাতুল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৩৭৬)
আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে দুধ আনা হলো, তাতে পানি মিশানো হয়েছিল। তাঁর ডান দিকে একজন বেদুইন ছিল এবং বাম দিকে ছিলেন আবু বকর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি দুধ পান করলেন, তারপর বেদুইনকে দিলেন এবং বললেন, “প্রথমে ডান দিকের লোকের হক তারপর তার ডানের লোক পাওয়ার উপযুক্ত।”
জামি আত-তিরমিজি ১৮৯৪ থেকে: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মজলিসে যে পান করাবে (সাকি), পান করার দিক থেকে সে সবার শেষে পান করবে।
আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ অবশ্যই তার বান্দার প্রতি এজন্য সন্তুষ্ট হন যে, সে কোনো কিছু খেয়ে তাঁর প্রশংসা করে (আলহামদুলিল্লাহ বলে) অথবা কোনো কিছু পান করে তাঁর প্রশংসা করে (আলহামদুলিল্লাহ বলে)।”
আবদুল্লাহ বিন বিশর বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতার বাড়িতে আগমন করেন। তিনি কিছু খাদ্য পেশ করেন। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে কিছু গ্রহণ করেন। আমার পিতা তাঁর কাছে দোয়া চান। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ (হে আল্লাহ! তুমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছ তাতে বরকত দাও, তাদেরকে ক্ষমা করো এবং তাদের প্রতি রহম করো)।২(রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৫৮০)
ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন খাদ্য খায় তখন সে যেন ডান হাতে খায় আর যখন পান করে, সে যেন ডান হাতে পান করে। কারণ শয়তান বাম হাতে খায় এবং বাম হাতে পান করে।”
রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন নিঃশ্বাসে পানি পান করতেন। তিনি দাঁড়িয়ে যমযমের পানি পান করেছেন। (সহিহ আল-বুখারি৫৬১৭, ৫৬৩১]
রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর ইবনে আবু সালামা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেন, “বিসমিল্লাহ বলো এবং নিজের নিকট থেকে খাও।” (সহিহ আল-বুখারি ৫৩৭৮) একত্রে খাওয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে। (সুনান ইবনে মাজাহ ৩২৮৬)
জাবির ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা (রাতে) ঘুমানোর সময় বাতিগুলো নিভিয়ে দিও, ঘরের দরজাগুলো আটকিয়ে দিও, পান পাত্রের মুখগুলো বন্ধ করে দিও, খাবার ও পানীয় দ্রব্যগুলো ঢেকে রেখো।” (জাবির বলেন) আমার মনে হয় তিনি একথাও বলেছেন যে, “(কোনো ঢাকনা না পেলে) অন্তত একটি কাঠি হলেও আড়াআড়িভাবে তার উপর দিয়ে রেখো।”