ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের প্রতিরোধ

عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللَّهُ أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْهُ ثُمَّ تَدْعُونَهُ فَلَا يُسْتَجَابُ لَكُمْ

হুযাইফা ইবনে ইয়ামান ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যার হস্তে আমার প্রাণ নিবদ্ধ তার শপথ। তোমরা অবশ্যই ন্যায় কাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজ থেকে (মানুষকে) বিরত রাখবে। অন্যথায় আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের উপর অবশ্যই আজাব পাঠাবেন। অতঃপর তোমাদেরকে একেবারেই পরিত্যাগ করা হবে এবং তোমাদের দোয়াও কবুল করা হবে না।”

এ হাদিস থেকে বুঝা যায়, সমাজে অন্যায়-অনাচার চলছে অথচ কেউ যদি তা রোধ করার কোনোরূপ চেষ্টা না করে ব্যক্তিগত কিছু ইবাদত করে তাতেই সন্তুষ্ট থাকে, তবে এরূপ পন্থা গ্রহণ করা সঠিক নয়। শুআবুল ইমানের হাদিসটি উল্লেখ করার মতো। তাতে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ জিবরাইল ﵇আলাইহিস সালাম-এর কাছে ওহি পাঠালেন “অমুক অমুক শহরকে তার অধিবাসী সহ ওলট-পালট করে দাও।” জিবরাইল ﵇আলাইহিস সালাম আবেদন করলেন: ইয়া রব, তাদের মধ্যে আপনার অমুক বান্দা রয়েছে যে এক মুহূর্তও আপনার নাফরমানিতে লিপ্ত হয় নি।” তিনি (নবি ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “তখন আল্লাহ জিবরাইল ﵇আলাইহিস সালাম-কে আদেশ করলেন, ‘শহরটিকে তার এবং ঐসব লোকদের উপর উল্টিয়ে দাও, কারণ ক্ষণকালও আমার জন্য তার চেহারার পরিবর্তন হয় নি (অর্থাৎ সমাজের অন্যায় কাজ দেখে সে উদ্বিগ্ন হয় নি)।’”১

عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أُنْصُرْ أَخَاكَ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًا قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ نَصَرْتُهُ مَظْلُومًا فَكَيْفَ أَنْصُرُهُ ظَالِمًا قَالَ تَكُفُّهُ عَنِ الظُّلْمِ فَذَاكَ نَصْرُكَ إِيَّاهُ

আনাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমার ভাইকে সাহায্য করো সে জালিম হোক বা মজলুম হোক।” আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ, মজলুমকে তো সাহায্য করবো কিন্তু জালিমকে কিভাবে সাহায্য করবো? তিনি বললেন, “তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখো, এটাই তাকে তোমার সাহায্য করা।”

عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلُ الْمُدْهِنِ فِي حُدُودِ اللَّهِ وَالْوَاقِعِ فِيهَا مَثَلُ قَوْمٍ اسْتَهَمُوا سَفِينَةً فَصَارَ بَعْضُهُمْ فِي أَسْفَلِهَا وَصَارَ بَعْضُهُمْ فِي أَعْلاَهَا فَكَانَ الَّذِي فِي أَسْفَلِهَا يَمُرُّونَ بِالْمَاءِ عَلَى الَّذِينَ فِي أَعْلاَهَا فَتَأَذَّوْا بِهِ فَأَخَذَ فَأْسًا فَجَعَلَ يَنْقُرُ أَسْفَلَ السَّفِينَةِ فَأَتَوْهُ فَقَالُوا مَا لَكَ قَالَ تَأَذَّيْتُمْ بِي وَلاَ بُدَّ لِي مِنَ الْمَاءِ فَإِنْ أَخَذُوا عَلَى يَدَيْهِ أَنْجَوْهُ وَنَجَّوْا أَنْفُسَهُمْ وَإِنْ تَرَكُوهُ أَهْلَكُوهُ وَأَهْلَكُوا أَنْفُسَهُمْ

নুমান ইবনে বাশির ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগের ব্যাপারে অলসতা করা ঐ কওমের সাথে তুলনীয়, লটারির মাধ্যমে যাদের কেউ কেউ নৌকার নিচতলায় স্থান নিয়েছে এবং কেউ কেউ উপরতলায় স্থান নিয়েছে। নিচতলার লোকেরা উপরতলার লোকদের পাশ দিয়ে পানির জন্য গমন করতো, ফলে উপরতলার লোকদের কষ্ট হতো। এ কারণে নিচতলার এক ব্যক্তি একটি কুঠার দিয়ে নৌকার তলা ছিদ্র করতে লাগল। তখন উপরতলার লোকেরা তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, সর্বনাশ! তুমি একি করছো? লোকটি বলল: তোমরা আমার কারণে কষ্ট পাচ্ছো অথচ আমারো পানির প্রয়োজন। এমতাবস্থায় তারা যদি তার হাত ধরে ফেলে তবে তাকেও বাঁচাবে এবং নিজেরাও বাঁচবে। আর যদি তারা তাকে ছেড়ে দেয় তবে তাকেও ধ্বংস করবে এবং নিজেদেরকেও ধ্বংস করবে।”

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ

আবু সাইদ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “তোমাদের মধ্যে কেউ যখন অন্যায় কাজ হতে দেখবে তখন সে তা হাত দিয়ে রোধ করবে। যদি তাতে অক্ষম হয় তবে মুখ (কথা) দিয়ে রোধ করার চেষ্টা করবে। যদি তাতে অক্ষম হয় তবে দিল দিয়ে কামনা করবে যেন তা মিটে যায়। তবে এ কামনা (দিল দিয়ে) সবচেয়ে দুর্বল ইমানের পরিচায়ক বটে।”

সহিহ মুসলিম ৫০/৫০-এর বর্ণনায় রয়েছে: নবির উম্মতের মধ্যে পরবর্তী সময়ে কিছু লোক নেতা হবে, তারা যা বলবে, করবে না এবং তাদের যা করার নির্দেশ দেওয়া হয় নি তা তারা করবে, এরূপ অবস্থায় যারা এদের বিরুদ্ধে হাত (শক্তি) দিয়ে জিহাদ করবে তারা মুমিন, যারা কথা দিয়ে জিহাদ করবে তারা মুমিন, যারা অন্তর দিয়ে জিহাদ করবে তারা মুমিন। আর এটাও (অর্থাৎ অন্তর দিয়ে জিহাদ) যে করবে না, তার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ইমান নেই।

عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الْأَشْجَعِيِّ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ خِيَارُ أَئِمَّتِكُمُ الَّذِينَ تُحِبُّونَهُمْ وَيُحِبُّونَكُمْ وَتُصَلُّونَ عَلَيْهِمْ وَيُصَلُّونَ عَلَيْكُمْ وَشِرَارُ أَئِمَّتِكُمُ الَّذِينَ تُبْغِضُونَهُمْ وَيُبْغِضُونَكُمْ وَتَلْعَنُونَهُمْ وَيَلْعَنُونَكُمْ قَالُوا قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ أَفَلَا نُنَابِذُهُمْ عِنْدَ ذَلِكَ قَالَ لَا مَا أَقَامُوا فِيكُمُ الصَّلَاةَ لَا مَا أَقَامُوا فِيكُمُ الصَّلَاةَ أَلَا مَنْ وَلِيَ عَلَيْهِ وَالٍ فَرَآهُ يَأْتِي شَيْئًا مِنْ مَعْصِيَةِ اللهِ فَلْيَكْرَهْ مَا يَأْتِي مِنْ مَعْصِيَةِ اللهِ وَلَا يَنْزِعَنَّ يَدًا مِنْ طَاعَةٍ

আউফ ইবনে মালিক আল আশজাই ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, “তোমাদের সর্বোত্তম নেতা হচ্ছেন তারা যাদেরকে তোমরা ভালোবাসো এবং যারা তোমাদেরকে ভালোবাসেন। তোমরা তাদের জন্য দোয়া করো এবং তারাও তোমাদের জন্য দোয়া করেন। আর তোমাদের নিকৃষ্ট নেতা হচ্ছে তারা যাদেরকে তোমরা ঘৃণা করো এবং যারা তোমাদেরকে ঘৃণা করে। আর তোমরা তাদেরকে অভিশাপ দাও এবং তারা তোমাদেরকে অভিশাপ দেয়।” সাহাবায়ে কেরাম বললেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, এ সময় আমরা কি তাদেরকে প্রতিহত করবো না? তিনি বললেন, “না, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের মাঝে সালাত কায়েম রাখবে; না, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের মাঝে সালাত কায়েম রাখবে। তবে যার উপর কোনো শাসক নিয়োগ করা হবে আর সে তাকে আল্লাহর নাফরমানি করতে দেখবে তখন ঐ শাসক যতক্ষণ আল্লাহর নাফরমানিতে থাকবে ততক্ষণ তাকে ঘৃণা করতে থাকবে কিন্তু আনুগত্যের হাত গুটিয়ে নেবে না।”


  1. শুআবুল ইমান ৭১৮৯↩︎

বিষয়বস্তুতে যান

যোগাযোগ

মতামত, সংশোধনী বা যে কোনো পরামর্শ জানাতে এই ফর্মটি ব্যবহার করুন।