গৃহে প্রবেশের নিয়ম

عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اسْتَأْذَنَ أَحَدُكُمْ ثَلَاثًا فَلَمْ يُؤْذَنْ لَهُ فَلْيَرْجِعْ

আবু মুসা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “(গৃহে প্রবেশের ক্ষেত্রে) তোমাদের মাঝে যদি কেউ তিন বার অনুমতি চায় আর তাকে অনুমতি দেওয়া না হয় তাহলে সে যেন ফিরে আসে।”

অন্যের গৃহে প্রবেশের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, “হে ইমানদারেরা অনুমতি নেওয়া ছাড়া এবং সালাম পাঠানো ছাড়া অন্যের গৃহে প্রবেশ করবে না।” (সুরা আন-নুর ২৪:২৭)

রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তুমি তোমার বাড়িতে প্রবেশ করবে তখন তোমার স্ত্রী-পরিজনকে সালাম দিবে। এ সালাম তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য বরকতের উৎস হবে।”১ (সালাত, দু’আ ও যিকর, পৃষ্ঠা ১১৭)

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي دَيْنٍ كَانَ عَلَى أَبِي فَدَقَقْتُ الْبَابَ فَقَالَ مَنْ ذَا فَقُلْتُ أَنَا فَقَالَ أَنَا أَنَا كَأَنَّهُ كَرِهَهَا

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি আমার পিতার ঋণ সম্পর্কে জানার জন্য নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে দরজায় টোকা দিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কে?” আমি জবাব দিলাম, আমি। তিনি বললেন, “আমি! আমি!” যেন তিনি এ জবাব অপছন্দ করলেন।

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, “কে?”-এর জবাবে “আমি” বলা রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপছন্দ করেছেন। তাই “আমি” না বলে, নাম বলে পরিচয় দিতে হবে।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي مَشْرُبَةٍ لَهُ فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَيَدْخُلُ عُمَرُ

ইবনে আব্বাস ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নিজ কক্ষে ছিলেন তখন উমর  ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু এসে বললেন: আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। উমর কি প্রবেশ করবে?

পরিচয় দিয়ে ঘরে প্রবেশ করার নিয়ম উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু জানিয়ে দিয়েছেন। একইভাবে কারও সাথে মোবাইলে কথা বলতে চাইলে সালাম বিনিময় করে নিজের পরিচয় দিয়ে কথা বলতে হবে।

সুরা নুরের ৫৮ নম্বর আয়াতে বাড়ির মধ্যে ছোটরা বড়দের কক্ষে কিভাবে প্রবেশ করবে তা বলে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির মধ্যে একাকিত্বের তিনটি সময় — ফজর নামাজের পূর্বে, দুপুরে যখন পরনের কাপড় আলগা রাখে (জোহরের পর) এবং ইশার পর — অনুমতি নিয়ে বাড়ির খাদেম ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়েরা পিতামাতাসহ বড়দের কক্ষে প্রবেশ করবে। অন্য সময় অনুমতি নিতে হবে না।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَأَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ اطَّلَعَ فِي دَارِ قَوْمٍ بِغَيْرِ إِذْنِهِمْ فَفَقَئُوا عَيْنَهُ فَقَدْ هَدَرَتْ عَيْنُهُ

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, “অনুমতি ছাড়া কেউ অপরের ঘরে উঁকি মারলে যদি ঘরের লোকেরা তার চোখ ফুটো করে দেয় তবে সেজন্য তাদের কোনো দোষ হবে না।”

নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার কোনো ভাইয়ের চিঠি তার অনুমতি ছাড়া পড়লো সে যেন ঠিক জাহান্নামের দিকে তাকালো।” (সুনান আবু দাউদ ১৪৮৫)


  1. জামি আত-তিরমিজি ২৬৯৮↩︎

বিষয়বস্তুতে যান

যোগাযোগ

মতামত, সংশোধনী বা যে কোনো পরামর্শ জানাতে এই ফর্মটি ব্যবহার করুন।