উসমান ইবনে আফফান ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদ নির্মাণ করতে (মসজিদে নববি সম্প্রসারণ করতে) মনস্থ করলে লোকজন তা অপছন্দ করল। বরং মসজিদ যেমন আছে তা তেমন রেখে দেওয়ায় তারা ভালো মনে করল। তখন উসমান ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ তৈরি করলে আল্লাহ্ও তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ একটি ঘর তৈরি করবেন।”
মসজিদে দেখা যায় এক পাশে ‘আল্লাহ’ অপর পাশে ‘মুহাম্মাদ’ লেখা; এটা মূলত সুন্নাত না (এভাবে লেখা অনুচিত)। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবি ও তাবেয়িদের যুগে কখনোই মসজিদের সামনে এসব লেখা হতো না। মসজিদের সামনে এমন কিছু লেখা যা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, নামাজে দাঁড়ালে চোখ যেতে পারে এগুলো রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। আমরা লিখি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।” এতে আমাদের ইমানের বাক্য প্রকাশ পায়। এটা খুব সুন্দর হয়। (জিজ্ঞাসা ও জবাব, খণ্ড ২য়, পৃষ্ঠা ২৫২)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে ঘুমাতেন। অথচ তখন তিনি অবিবাহিত যুবক ছিলেন।
যুহরি বলেন: আব্বাদ ইবনে তামিম তার চাচা থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মসজিদে চিত হয়ে শুয়ে থাকতে দেখেছি, তখন তাঁর এক পা অন্য পায়ের উপর রাখা ছিল।
আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কেউ কোনো ব্যক্তিকে মসজিদের মধ্যে হারানো কোনো জিনিস খোঁজ করতে দেখলে যেন বলে, আল্লাহ করুন! তোমার জিনিস যেন তুমি না পাও। কারণ মসজিদ তো এ উদ্দেশ্যে বানানো হয় নি।”
মসজিদের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় করতে এবং হারানো বা পলাতক কোনো কিছু খোঁজ করতে, উচ্চস্বরে কথা বলতে বা চিৎকার করতে হাদিস শরিফে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ জাগতিক কথাবার্তা বলার কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা কোনো সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয় নি। মুসলিম শরিফে১ বর্ণিত, জাবির ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে স্থানে ফজরের সালাত আদায় করতেন সেখানে সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে থাকতেন। সূর্যোদয়ের পরে তিনি উঠতেন। তাঁর বসা অবস্থায় সাহাবায়ে কেরাম কথাবার্তা বলতেন, জাহেলী যুগের কথা আলোচনা করতেন, কবিতা পাঠ করতেন এবং হাসতেন। আর তিনি শুধু মুচকি হাসতেন। (হাদীসের নামে জালিয়াতি, পৃষ্ঠা ৪৮০)
হাদিস অনুসারে হারানো কোনো বস্তু মসজিদে খোঁজ করা যাবে না। তবে কারও কিছু পাওয়া গেলে তা মুয়াজ্জিন বা ইমামকে জমা দেবেন এবং তিনি ঘোষণা দেবেন, অমুক বস্তু পাওয়া গেছে।