আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “মানুষের আমল প্রতি সপ্তাহে দুইবার পেশ করা হয়; প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার। তখন সকল মুমিন বান্দাকে ক্ষমা করা হয়, কেবলমাত্র যে বান্দার সাথে তার ভাইয়ের বিদ্বেষ-শত্রুতা আছে, সে ব্যক্তি বাদে। বলে দেয়া হয়, এরা যতক্ষণ না ফিরে আসে ততক্ষণ এদেরকে বাদ দাও।”
আমার মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ আছে কিনা, তার আলামত হচ্ছে: আমি দেখবো যে, আমার পরিচিতজনের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যার বিপদ বা ক্ষতি হলে আমার ভালো লাগবে আর তার সুসংবাদ শুনলে আমার খারাপ লাগবে। তাহলে বুঝতে হবে আমার মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষের ব্যাধি আছে। সাথে সাথে এজন্য মহান আল্লাহর কাছে তওবা করে ক্ষমা চাইতে হবে, যেন মহান আল্লাহ আমার মন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দেন। আমি কোনো ব্যক্তিকে নয় বরং ব্যক্তির খারাপ কর্মকে ঘৃণা করবো।
ওয়াসিলা ইবনে আসকা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমার ভাইয়ের বিপদে আনন্দিত হয়ো না। কেননা এতে আল্লাহ তার উপর রহম করবেন এবং তোমাকে উক্ত বিপদে ফেলবেন।”
আনাস ইবনে মালিক ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা একে অপরের প্রতি শত্রুতা পোষণ কোরো না, হিংসা কোরো না, বিচ্ছেদমূলক আচরণ কোরো না। বরং সকলে এক আল্লাহর বান্দা হয়ে ভাই ভাই বনে যাও। আর একজন মুসলিমের জন্য তার অপর ভাইয়ের সাথে তিন রাতের বেশি (ক্রোধ বশত) দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা হালাল নয়।”
সম্পর্ক ছিন্ন করার গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়ার উপায় সুনান আবু দাউদে (সুনান আবু দাউদ ৪৯১৩) বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায়, “সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তিদ্বয়ের একজন অপরজনকে সাক্ষাতে তিনবার সালাম দিবে। দ্বিতীয় জন যদি একবারও জবাব না দেয়, তবে তার (দ্বিতীয়জনের) উপরই গুনাহ বর্তাবে।”
আবু জার ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, “এক লোক অপর লোককে যেন ফাসিক ও কাফের বলে অভিহিত না করে। কারণ যাকে বলা হয়েছে সে যদি তা (ফাসিক বা কাফির) না হয়, তবে তা ঐ অভিহিতকারীর উপর বর্তাবে।”