নিয়ত

عَنْ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ

উমর ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, “কাজের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভর করে। সুতরাং যে ব্যক্তির হিজরত হবে দুনিয়া লাভের জন্য বা কোনো স্ত্রীলোককে বিয়ে করার জন্য, তবে তার হিজরত হবে যে উদ্দেশ্যে সে ব্যক্তি হিজরত করেছে। আর যে ব্যক্তির হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য, তবে তার হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যে।”

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَرَأَيْتَ رَجُلًا غَزَا يَلْتَمِسُ الْأَجْرَ وَالذِّكْرَ مَالَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا شَيْءَ لَهُ فَأَعَادَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ يَقُولُ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا شَيْءَ لَهُ ثُمَّ قَالَ إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلَّا مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا وَابْتُغِيَ بِهِ وَجْهُهُ

আবু উমামা বাহিলি ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: এক লোক নবি কারিম ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল: এক ব্যক্তি পরকালের জন্য এবং দুনিয়ায় প্রশংসা লাভের জন্য জিহাদ করে। সে কি এর পুরস্কার পাবে? রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে কিছুই পাবে না। ঐ ব্যক্তি তিনবার একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রত্যেকবারই বললেন: না, সে কিছুই পাবে না। অতঃপর রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ কেবল সে আমলই কবুল করেন, যা খালেসভাবে শুধু আল্লাহর জন্য এবং তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করা হয়।

সহিহ মুসলিম ১৯০৫-এর বর্ণনা থেকে: কিয়ামতের দিন একজন শহিদকে দুনিয়ার প্রদত্ত নিয়ামতের ব্যাপারে বলা হবে। সে বলবে, হে আল্লাহ! তোমার রাস্তায় জিহাদ করে শহিদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেন: তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি এজন্য লড়াই করেছো যে, লোকে তোমাকে বীর বলবে এবং তা বলা হয়েছে। অতঃপর নির্দেশ দেওয়া হবে, তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। একইভাবে আর একজন বলবে, আমি জ্ঞান অর্জন করে অন্যকে শিক্ষা দিয়েছি। তোমার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি। আল্লাহ বলবেন: তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি এসব এজন্য করেছো যে, লোকে তোমাকে জ্ঞানী বলবে, কারি বলবে এবং তা বলা হয়েছে। অতঃপর আল্লাহর নির্দেশে তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অনুরূপভাবে আর এক ব্যক্তি বলবে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যে ধন-সম্পদ দিয়েছিলে তা তোমার পছন্দের পথে খরচ করেছি। আল্লাহ বলবেন: তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি ধন-সম্পদ এজন্য খরচ করেছো যে লোকে তোমাকে দানশীল বলবে এবং তা বলা হয়েছে। আল্লাহর নির্দেশে তাকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ لَا يَنْظُرُ إِلَى صُوَرِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ

আবু হুরায়রা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের চেহারা-সুরাত ও ধন-মালের দিকে তাকান না বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও কাজের দিকে তাকান।’

أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُتْبَةَ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ إِنَّ أُنَاسًا كَانُوا يُؤْخَذُونَ بِالْوَحْيِ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنَّ الْوَحْيَ قَدِ انْقَطَعَ وَإِنَّمَا نَأْخُذُكُمُ الآنَ بِمَا ظَهَرَ لَنَا مِنْ أَعْمَالِكُمْ فَمَنْ أَظْهَرَ لَنَا خَيْرًا أَمِنَّاهُ وَقَرَّبْنَاهُ وَلَيْسَ إِلَيْنَا مِنْ سَرِيرَتِهِ شَيْءٌ اللَّهُ يُحَاسِبُهُ فِي سَرِيرَتِهِ وَمَنْ أَظْهَرَ لَنَا سُوءًا لَمْ نَأْمَنْهُ وَلَمْ نُصَدِّقْهُ وَإِنْ قَالَ إِنَّ سَرِيرَتَهُ حَسَنَةٌ

আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি উমর ইবনে খাত্তাব ﵁রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺসল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে (অর্থাৎ তাঁর জীবদ্দশায়) লোকদের যাচাই করা হতো ওহি দ্বারা। কিন্তু (তাঁর ইন্তেকালে) ওহি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আমরা তোমাদেরকে তোমাদের কাজ কর্ম দ্বারা যাচাই করব। অতএব কেউ আমাদের সামনে বাহ্যত ভালো কাজ করলে আমরা তাকে বিশ্বাস করব এবং আমাদের নিকটবর্তী বলে গ্রহণ করব, তার অন্তরের অবস্থা অনুযায়ী বিচারের জন্য তো আল্লাহই রয়েছেন। আর কেউ আমাদের সামনে বাহ্যত খারাপ কাজ করলে আমরা তাকে মানব না এবং তাকে বিশ্বাসও করব না। সে যতই বলুক তার অন্তরের অবস্থা খুবই ভালো (অর্থাৎ সে খুবই ভালো মানুষ)।

ইমান ও আমলের সম্পর্ক বীজ ও বৃক্ষের ন্যায়। অতএব কারো অন্তরের অবস্থা ভালো হলে অর্থাৎ সত্যিকার ইমানদার হলে তার বাহ্যিক কাজ ভালো না হয়ে পারে না।

বিষয়বস্তুতে যান

যোগাযোগ

মতামত, সংশোধনী বা যে কোনো পরামর্শ জানাতে এই ফর্মটি ব্যবহার করুন।